হাদীস নং ৪০৩৮ – নাজরান অধিবাসীদের ঘটনা।
আব্বাস ইবনে হুসাইন রহ………..হুযায়ফা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাজরান এলাকার দু’জন সরদার আকিব এবং সাইয়িদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে তাঁর সাথে মুবাহালা করতে চেয়েছিল। রাবী হুযায়ফা রা. বলেন, তখন তাদের একজন অপরজনকে বলল, এরূপ করো না। কারণ আল্লাহর কসম, তিনি যদি নবী হয়ে থাকেন আর আমরা তাঁর সাথে মুবাহালা করি তাহলে আমরা এবং আমাদের পরবর্তী সন্তান-সন্ততি (কেউ) রক্ষা পাবে না। তারা উভয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বলল যে, আপনি আমাদের কাছ থেকে যা চাবেন আপনাকে আমরা তা-ই দেব। তবে এর জন্য আপনি আমাদের সাথে একজন আমানতদার ব্যক্তিকে পাঠিয়ে দিন। আমানতদার ছাড়া অন্য কোন ব্যক্তিকে আমাদের সাথে পাঠাবেন না। তিনি বললেন, আমি তোমাদের সাথে অবশ্যই একজন পুরা আমানতদার ব্যক্তিকেই পাঠাবো, এ দায়িত্ব গ্রহণের নিমিত্তে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ আগ্রহ প্রকাশ করলেন। তখন তিনি বললেন, হে আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ তুমি উঠে দাঁড়াও। তিনি যখন দাঁড়ালেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ হচ্ছে এই উম্মতের আমানতদার।
হাদীস নং ৪০৩৯
মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ………..হুযায়ফা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাজরান অধিবাসীরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, আমাদের এলাকার জন্য একজন আমানতদার ব্যক্তি পাঠিয়ে দিন। তিনি বললেন, তোমাদের কাছে আমি একজন আমানতদার ব্যক্তিকেই পাঠাবো যিনি সত্যিই আমানতদার। কথাটি শুনে লোকজন সবাই আগ্রহভরে তাকিয়ে রইল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ রা.-কে পাঠালেন।
হাদীস নং ৪০৪০
আবুল ওয়ালীদ রহ…………আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি সূত্রে নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, প্রত্যেক উম্মতের একজন আমানতদার রয়েছে। আর এ উম্মতের সেই আমানতদার হল আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ।
হাদীস নং ৪০৪১ – ওমান ও বাহরাইনের ঘটনা।
কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ………….জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, বাহরাইনের অর্থ সম্পদ (জিযিয়া) আসলে তোমাকে এতো পরিমাণ এতো পরিমাণ এতো পরিমাণ দেব। তিনবার বললেন। এরপর বাহরাইন থেকে আর কোন অর্থ সম্পদ আসেনি। অবশেষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওফাত হয়ে গেল। এরপর আবু বাকরের যুগে যখন সেই অর্থ সম্পদ আসল তখন তিনি একজন ঘোষণাকারীকে নির্দেশ দিলেন। সে ঘোষণা করল: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে যার ঋণ প্রাপ্য রয়েছে কিংবা কোন ওয়াদা অপূরণ রয়ে গেছে সে যেন আমার কাছে আসে (এবং তা নিয়ে নেয়) জাবির রা. বলেন, আমি আবু বকর রা.-এর কাছে এসে তাকে জানালাম যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছিলেন, যদি বাহরাইন থেকে অর্থ-সম্পদ আসে তাহলে তোমাকে আমি এতো পরিমাণ এতো পরিমাণ দেব। (এতো পরিমাণ কথাটি) তিনবার বললেন। জাবরি রা. বলেন, তখন আবু বকর রা. আমাকে অর্থ-সম্পদ দিলেন। জাবির রা. বলেন, এর কিছুদিন পর আমি আবু বকর রা.-এর সাথে সাক্ষাৎ করলাম। এবং তার কাছে মাল চাইলাম। কিন্তু তিনি আমাকে কিছুই দিলেন না। এরপর আমি তাঁর কাছে দ্বিতীয়বার আসি, তিনি আমাকে কিছুই দেননি। এরপর আমি তাঁর কাছে তৃতীয়বার এলাম। তখনো তিনি আমাকে কিছুই দিলেন না। কাজেই আমি তাকে বললাম, আমি আপনার কাছে এসেছিলাম কিন্তু আপনি আমাকে দেননি। তারপর (আবার) এসেছিলাম তখনো দেননি। এরপরেও এসেছিলাম তখনো আমাকে আপনি দেননি। কাজেই এখন হয়তো আপনি আমাকে সম্পদ দিবেন নয়তো আমি মনে করব: আপনি আমার ব্যাপারে কৃপণতা অবলম্বন করেছেন। তখন তিনি বললেন, এ কি বলছ তুমি ‘আমার ব্যাপারে কৃপণতা করছেন’ (তিনি বললেন) কৃপণতা থেকে মারাত্মক ব্যাধি আর কি হতে পারে। কথাটি তিনি তিনবার বললেন। (এরপর তিনি বললেন) যতবারই আমি তোমাকে সম্পদ দেয়া থেকে বিরত রয়েছি ততবারই আমার ইচ্ছা ছিল যে, (অন্য কোথাও থেকে) তোমাকে দেব। আমর (ইবনে দীনার রহ.) মুহাম্মদ ইবনে আলী রা.-এর মাধ্যমে জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবু বকর রা.-এর কাছে আসলে তিনি আমাকে বললেন, এ (আশরাফী) গুলো গুণ, আমি ঐগুলো গুণে দেখলাম এখানে পাঁচ শ’ রয়েছে। তিনি বললেন, (ওখান থেকে) এ পরিমাণ আরো দু’বার তুলে নাও।
হাদীস নং ৪০৪২
আবু নুআইম রহ………….যাহদাম রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু মূসা রা. এ এলাকায় এসে জারম গোত্রের লোকদেরকে মর্যাদাবান করেছেন। একদা আমরা তাঁর কাছে বসা ছিলাম। এ সময়ে তিনি মুরগীর গোশত দিয়ে দুপুরের খানা খাচ্ছিলেন। উপস্থিতদের মধ্যে এক ব্যক্তি বসা ছিল। তিনি তাকে খানা খেতে ডাকলেন। সে বলল, আমি মুরগীটিকে একটি (খারাপ) জিনিস খেতে দেখেছি। এ জন্য খেতে আমার অরুচি লাগছে। তিনি বললেন, এসো। কেননা আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মুরগী খেতে দেখেছি। সে বলল, আমি শপথ করে ফেলছি যে, এটি খাবো না। তিনি বললেন, এসে পড়। তোমার শপথ সম্বন্ধে আমি তোমাকে জানাচ্ছি যে, আমরা আশআরীদের একটি দল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে তার কাছে সাওয়ারী চেয়েছিলাম। তিনি আমাদেরকে সাওয়ারী দিতে অস্বীকার করলেন। এরপর আমরা (পুনরায়) তাঁর কাছে সাওয়ারী চাইলাম। তিনি তখন শপথ করে ফেললেন যে, আমাদেরকে তিনি সাওয়ারী দেবেন না। কিছুক্ষণ পরেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গনীমতের কিছু উট আনা হল। তিনি আমাদেরকে পাঁচটি করে উট দেয়ার আদেশ দিলেন। উটগুলো হাতে নেয়ার পর আমরা পরস্পর বললাম, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর শপথ থেকে অমনোযোগী করে ফেলছি এমন অবস্থায় কখনো আমরা কামিয়াব হতে পারব না। কাজেই আমি তাঁর কাছে এসে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আপনি শপথ করেছিলেন যে, আমাদের সাওয়ারী দেবেন না। এখন তো আপনি আমাদের সাওয়ারী দিলেন। তিনি বললেন, নিশ্চয়ই। তবে আমার নিয়ম হল, আমি যদি কোন ব্যাপারে শপথ করি আর এর বিপরীত কোনটিকে এ অপেক্ষা উত্তম মনে করি তাহলে (শপথ কৃত ব্যাপার ত্যাগ করি) উত্তমটিকেই গ্রহণ করে নেই।
