হাদীস নং ৪০২৯ – আবদুল কায়েস গোত্রের প্রতিনিধি দল।
ইসহাক রহ………..আবু জামরা রা. থেকে বর্ণিত, (তিনি বলেন) আমি ইবনে আব্বাস রা-কে বললাম, আমার একটি কলসী আছে। তাতে আমার জন্য (খেজুর ভিজিয়ে) নাবীয তৈরী করা হয় এবং পানি মিঠা হয়ে সারলে আমি তা আরেটি পাত্রে (ছোট গ্লাসে) ঢেলে পান করি। কিন্তু কখনো যদি ঐ পানি বেশি পরিমাণ পান করে লোকজনের সাথে বসে যাই এবং দীর্ঘক্ষণ পর্যন্ত মজলিসে বসে থাকি তখন আমার আশংকা হয় যে, (নেশার দোষে) আমি (লোকসম্মুখে) অপমানিত হব। তখন ইবনে আব্বাস রা. বললেন, আবদুল কায়েস গোত্রের একটি প্রতিনিধি দল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে আসলে তিনি বললেন, কাওমের জন্য খোশ-আমদেদ। যাদের আগমন না ক্ষতিগ্রস্থ অবস্থায় হয়েছে, না অপমানিত অবস্থায়। তারা আরয করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমাদের ও আপনার মধ্যে মুদার গোত্রের মুশরিকরা প্রতিবন্ধক হয়ে আছে। এ জন্য আমরা আপনার কাছে আশহুরুল হুরুম ব্যতীত অন্য সময়ে আসতে পারি না। কাজেই আমাদেরকে সংক্ষিপ্ত কয়েকটি কথা বলে দিন, যেগুলোর উপর আমল করলে আমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারব। আর যারা আমাদের পেছনে (বাড়িতে) রয়ে গেছে তাদেরকে এর দাওয়াত দেব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি তোমাদেরকে চারটি জিনিস পালন করার নির্দেশ দিচ্ছি। আর চারটি জিনিস থেকে বিরত থাকতে বলছি। (আমি তোমাদেরকে) আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার নির্দেশ দিচ্ছি। তোমরা কি জান আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা কাকে বলে? তাহলে : আল্লাহ ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই এ কথার সাক্ষ্য দেওয়া, আর নামায আদায় করা, যাকাত দেওয়া রমযানের রোযা পালন করা এবং গনীমতের মালেন এক -পঞ্চমাংশ (বায়তুল মালে) জমা দেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছি। আর চারটি জিনিস–লাউয়ের পাত্র, কাঠের তৈরী নাকীর নামক পাত্র, সবুজ কলসী এবং মুযাফফাত নামক তৈল মাখানো পাত্রে নাবীয তৈরী করা থেকে নিষেধ করছি।
হাদীস নং ৪০৩০
সুলাইমান ইবনে হারব রহ………..আবু জামরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইবনে আব্বাস রা. থেকে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আবদুল কায়েস গোত্রের একটি প্রতিনিধি দল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে এসে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমরা অর্থাৎ এই ছোট দল রাবীআর গোত্র। আমাদের এবং আপনার মাঝখানে প্রতিবন্ধক হয়ে আছে মুদার গোত্রের মুশরিকরা। কাজেই আমরা নিষিদ্ধ মাসগুলো ছাড়া অন্য সময়ে আপনার কাছে আসতে পারি না। এ জন্য আপনি আমাদেরকে এমন কিছু বিষয়ের নির্দেশ দিয়ে দিন যেগুলোর উপর আমরা আমল করতে থাকব এবং যারা আমাদের পেছনে রয়েছে তাদেরকেও সেইদিকে আহবান জানাব। তিনি বললেন, আমি তোমাদেরকে চারটি জিনিস পালন করার নির্দেশ দিচ্ছি। আর চারটি জিনিস থেকে বিরত থাকতে বলছি। (আমি তোমাদেরকে) আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এ কথার সাক্ষ্য দেওয়া। কথাটি বলে তিনি আঙ্গুলের সাহায্য এক গুণেছেন। আর নামায আদায় করা, যাকাত এবং তোমরা যে গনীমত লাভ করবে তার এক -পঞ্চমাংশ (বায়তুল মালে) জমা দেওয়া। আর আমি তোমাদেরকে লাউয়ের পাত্র, নাকীর নামক খোদাইকৃত কাঠের পাত্র, সবুজ কলসী এবং মুযাফফাত নামক তৈল মাখানো পাত্র ব্যবহার থেকে নিষেধ করছি।
হাদীস নং ৪০৩১
ইয়াহইয়া ইবনে সুলাইমান ও বকর ইবনে মুদার রহ………..বুকাইর রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইবনে আব্বাস রা. -এর আযাদকৃত গোলাম কুরাইব রহ. তাকে বর্ণনা করেছেন যে, ইবনে আব্বাস আবদুর রহমান ইবনে আযহার এবং মিসওয়ার ইবনে মাখরামা রা. (এ তিনজনে) আমাকে আয়েশা রা. -এর কাছ পাঠিয়ে বললেন, তাকে আমাদের সবার পক্ষ থেকে সালাম জানাবে। এবং তাকে আসরের পরের দু’রাকআত নামায সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে। কারণ আমরা অবহিত হয়েছি যে, আপনি নাকি এই দ’রাকআত নামায আদায় করেন অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দু’রাকআত নামায আদায় করত নিষেধ করেছেন—এ হাদীসও আমাদের কাছে পৌঁছেছে। ইবনে আব্বাস রা. বলেন, আমি উমর রা. সহ এ দু’রাকআত নামায আদায়কারী লোকজদেরকে প্রহার করতাম। কুরাইব রহ. বলেন, আমি তাঁর (আয়েশা রা.) কাছে গেলাম এবং তারা আমাকে যে ব্যাপারে পাঠিয়েছেন তা জানালাম। তিনি বললেন, বিষয়টি উম্মে সালমা রা.-এর কাছে জিজ্ঞাসা কর। এরপর আমি তাদেরকে (আয়েশা রা.-এর জবাবের কথা) জানালে তাঁরা আবার আমাকে উম্মে সালামা রা.-এর কাছে পাঠালেন এবং আয়েশা রা.-এর কাছে যা বলতে বলেছিলেন সেসব কথা তাঁর কাছেও গিয়ে বলতে বললেন। তখন উম্মে সালমা রা. বললেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি যে, তিনি দু’রাকআত নামায আদায় করা থেকে নিষেধ করেছেন। কিন্তু একদিন তিনি আসরের নামায আদায় করে আমার ঘরে প্রবেশ করলেন। এ সময় আমার কাছে ছিল আনসারদের বনী হারাম গোত্রের কতিপয় মহিলা। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’রাকআত নামায আদায় করলেন। আমি তা দেখে খাদীমা-কে পাঠিয়ে বললাম, তুমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাশে গিয়ে দাঁড়াবে এবং বলবে উম্মে সালমা রা. আপনাকে এ কথা বলছেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমি কি আপনাকে এ দু’রাকআত আদায় করা থেকে নিষেধ করতে শুনিনি? অথচ দেখতে পাচ্ছি আপনি সেই দু’রাকআত আদায় করছেন। এরপর যদি তিনি হাত দিয়ে ইশারা করেন তাহলে পিছনে সরে যাবে। খাদীমা গিয়ে (সেভাবে কথাটি) বলল। তিনি হাত দিয়ে ইশারা করলেন। খাদীমা পেছনের দিকে সরে গেল। এরপর নামায সেরে তিনি বললেন, হে আবু উমাইয়ার কন্যা ! (উম্মে সালমা) তুমি আমাকে আসরের পরের দু’রাকআত নামাযের কথা জিজ্ঞাসা করছ। আসলে আজ আবদুল কায়েস গোত্র থেকে তাদের কয়েকজন লোক আমার কাছে ইসলাম গ্রহণ করতে এসেছিল। তাঁরা আমাকে ব্যস্ত রাখার কারণে যুহরের পরের দু’রাকআত নামায আদায় করার সুযোগ আমার হয়নি। আর সেই দু’রাকআত হল এ দু’রাকআত নামায।
