হাদীস নং ৪০২৪
মুসাদ্দাদ রহ………….জাবির রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা জায়শূল খাবাতের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম, আর আবু উবায়দা রা.-কে আমাদের সেনাপতি নিযুক্ত করা হয়েছিল। পথে আমরা ভীষণ ক্ষুধায় আক্রান্ত হয়ে পড়ি। তখন সমুদ্র আমাদের জন্য আম্বর নামের একটি মরা মাছ তীরে নিক্ষেপ করে দিল। এত বড় মাছ আমরা আর কখনো দেখিনি। এরপর মাছটি থেকে আমরা অর্ধ মাস আহার করলাম। একবার আবু উবায়দা রা. মাছটির একটি হাড় তুলে ধরলেন আর সাওয়ারীর পিঠে চড়ে একজন হাড়টির নিচ দিয়ে অতিক্রম করল (হাড়ে স্পর্শও লাগেনি)। (ইবনে জুরাইজ বলেন) আবু যুবাইর রহ. আমাকে জানিয়েছেন যে, তিনি জাবির রা. থেকে শুনেছেন, জাবির রা. বলেন, ঐ সময় আবু উবায়দা রা. বললেন, তোমরা মাছটি আহার কর। এরপর আমরা মদীনা ফিরে আসলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বিষয়টি অবগত করলাম। তিনি বললেন, খাও। এটি তোমাদের জন্য রিযক, আল্লাহ পাঠিয়ে দিয়েছেন। আর তোমাদের কাছে কিছু অবশিষ্ট থাকলে আমাদেরকেও স্বাদ গ্রহণ করতে দাও। একজন মাছটির কিছু অংশ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এনে দিলে তিনি তা খেলেন।
হাদীস নং ৪০২৫ – হিজরতের নবম বছর লোকজনসহ আবু বকর রা.-এর হজ্জ পালন।
সুলাইমান ইবনে দাউদ আবু রাবী রহ…………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত যে, বিদায় হজ্জের পূর্ববর্তী যে হজ্জ অনুষ্ঠানে র আবু বকর রা.-কে আমীরুল হাজ্জ নিযুক্ত করেছিলেন সেই হজ্জের সময় আবু বকর রা. তাকে (আবু হুরায়রা রা.-কে) একটি ছোট দলসহ লোকজনের মধ্যে এ ঘোষণা দেওয়ার জন্য পাঠিয়েছিলেন যে, আগামী বছর কোন মুশরিক হজ্জ করত পারবে না। আর উলঙ্গ অবস্থায়ও কেউ বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করতে পারবে না।
হাদীস নং ৪০২৬
আবদুল্লাহ ইবনে রাজা রহ…………বারা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সর্বশেষে যে সূরাটি পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় অবতীর্ণ হয়েছিল তা ছিল সূরা বারাআত। আর সর্বশেষ যে সূরার আয়াতটি সমাপ্তি রূপে অবতীর্ণ হয়েছিল সেটি ছিল সূরা নিসার এ আয়াত : ইয়াসতাফতূনাকা কুলিল্লাহু ইয়ুফতীকুম ফিল কালালা”। অর্থাৎ লোকেরা আপনার কাছে সমাধান জানতে চায়, বলুন, পিতা-মাতাহীন নিঃসন্তান ব্যক্তি সম্বন্ধে তোমাদিগকে আল্লাহ সমাধান জানাচ্ছেন, (কোন পুরুষ মারা গেলে সে যদি সন্তানহীন হয় এবং তার এক বোন থাকে তাহলে বোনের জন্য পরিত্যক্ত সম্পত্তির অর্ধাংশ হবে) । (৪: ১৭৬)
হাদীস নং ৪০২৭ – বনী তামীমের প্রতিনিধি দল।
আবু নুআইম রহ…………ইমরান ইবনে হুসাইন রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বনী তামীমের একটি প্রতিনিধি দল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে আসলে তিনি তাদেরকে বললেন, হে বনী তামীম ! খোশ খবরী গ্রহণ কর। তারা বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ আপনি খোশ-খবরী দিয়ে থাকেন, এবার আমাদেরকে কিছু (অর্থ-সম্পদ) দিন। কথাটি শুনে তাঁর চেহারায় অসন্তোষের ভাব প্রকাশ পেল। এপর ইয়ামানের একটি প্রতিনিধি দল আসলে তিনি তাদেরকে বললেন, বনী তামীম যখন খোশ-খবরী গ্রহণ করলোই না তখন তোমরা গ্রহণ কর। তারা বললেন, আমরা তা গ্রহণ করলাম ইয়া রাসূলাল্লাহ !
হাদীস নং ৪০২৮ – বনী তামীমের উপগোত্র বনী আম্বরের বিরুদ্ধে উয়াইনা ইবনে হিসন ইবনে হুযাইফা ইবনে বদরের যুদ্ধ।
যুবাইর ইবনে হারব রহ…………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনী তামীমের পক্ষে তিনটি কথা বলেছেন। এগুলো শুনার পর থেকেই আমি বনী তামীমকে ভালবাসতে থাকি। (তিনি বলেছেন) তারা আমার উম্মতের মধ্যে দাজ্জালের বিরোধিতায় সবচেয়ে বেশি কঠোর থাকবে। তাদের গোত্রের একটি বাঁদী আয়েশা রা.-এর কাছে ছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, একে আযাদ করে দাও, কারণ সে ইসমাঈল আ.-এর বংশধর। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে তাদের সাদকার অর্থ-সম্পদ আসলে তিনি বললেন, এটি একটি কাওমের সাদকা বা তিনি বলেন, এটি আমার কাওমের সাদকা।
হাদীস নং ৪০২৯
ইবরাহীম ইবনে মূসা রহ………..আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর রা. থেকে বর্ণিত যে, বনী তামীম গোত্র থেকে একটি অশ্বারোহী দল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে আসল। (তাঁরা তাদের একজনকে সেনাপতি নিযুক্ত করার প্রার্থনা জানালে) আবু বকর রা. প্রস্তাব দিলেন, কাকা ইবনে মাবাদ ইবনে যারারা রা.-কে এদের আমীর নিযুক্ত করে দিন। উমর রা. বললেন, বরং আকরা ইবনে হাবিস রা.-কে আমীর বানিয়ে দিন। আবু বকর রা. বললেন, তুমি কেবল আমার বিরোধিতাই করতে চাও। উমর রা. বললেন, আপনার বিরোধিতা করার ইচ্ছা আমি কখনো করি না। এর উপর দুজনের বাক-বিতণ্ডা চলতে চলতে শেষ পর্যায়ে উভয়ের আওয়াজ উচ্চতর হল। ফলে এ সম্পর্কে এ আয়াত নাযিল হল, হে মুমিনগণ ! আল্লাহ এবং তার রাসূলের সামনে তোমরা কোন ব্যাপারে অগ্রণী হয়ো না। বরং আল্লাহকে ভয় কর, আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। হে মুমিনগণ! তোমরা নবীর কণ্ঠস্বরের উপর নিজেদের কণ্ঠস্বর উচু করো না। এবং নিজেদের মধ্যে যেভাবে উচ্চস্বরে কথা বল তাঁর সাথে সেরূপ উচ্চস্বরে কথা বলো না। কারণ এতে তোমাদের আমল নিষ্ফল হয়ে যাবে তোমাদের অজ্ঞাতসারে। (৪৯: ১-২)
