হাদীস নং ৪০০৮
আব্বাস ইবনে ওয়ালীদ রহ…………আবু মূসা আশআরী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে আমার গোত্রের এলাকায় (গভর্নর নিযুক্ত করে) পাঠালেন। (আমি সেখানেই রয়ে গেলেম। এরপর বিদায় হজ্জের বছর আমিও হজ্জ করার জন্য আসলাম) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবতাহ নামক স্থানে অবস্থান করার সময় আমি তাঁর সাক্ষাতে উপস্থিত হলাম। তিনি আমাকে বললেন, হে আবদুল্লাহ ইবনে কায়েস, তুমি ইহরাম বেঁধেছ কি? আমি বললাম, জী হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! তিনি বললেন, (তালবিয়া) কিরূপে বলেছিলে? আমি উত্তর দিলাম, আমি তালবিয়া এরূপ বলেছি যে, হে আল্লাহ ! আমি হাযির হয়েছি এবং আপনার (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর) ইহরামের মত ইহরাম বাঁধলাম। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, আচ্ছা, তুমি কি তোমার সঙ্গে কুরবানীর পশু এনেছ? আমি জবাব দিলাম, আনিনি। তিনি বললেন, (ঠিক আছে) বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করো এবং সাফা ও মারওয়ার সায়ী আদায় করো, তারপর হালাল হয়ে যাও। আমি সে রকমই করলাম। এমন কি বনী কাইসের জনৈক মহিলা আমার চুল পর্যন্ত আঁচড়িয়ে দিয়েছিল। আমি উমর রা. -এর খিলাফত আমল পর্যন্ত এ রকম আমলকেই অব্যাহত রেখেছি।
হাদীস নং ৪০০৯
হিব্বান রহ………….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুআয ইবনে জাবালকে (গভর্নর বানিয়ে) ইয়ামানে পাঠানোর সময় তাকে বললেন, অচিরেই তুমি আহলে কিতাবের এক গোত্রের কাছে যাচ্ছ। যখন তুমি তাদের কাছে গিয়ে পৌঁছবে তখন তাদেরকে এ দাওয়াত দেবে তারা যেন সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল, এরপর তারা যদি তোমার এ কথা মেনে নেয়, তখন তাদেরকে এ কথা জানিয়ে দেবে যে, আল্লাহ তোমাদের উপর দিনে ও রাতে পাঁচবার নামায ফরয করে দিয়েছেন। তারা তোমার এ কথা মেনে নিলে তুমি তাদেরকে জানিয়ে দেবে যে, আল্লাহ তোমাদের উপর যাকাত ফরয করে দিয়েছেন, যা তাদের (মুসলমানদের) সম্পদশালীদের কাছ থেকে গ্রহণ করা হবে এবং তাদের অভাবগ্রস্তদের মাঝে বিতরণ করা হবে। যদি তারা তোমার এ কথা মেনে নেয়, তাহলে (তাদের সম্পদ থেকে যাকাত গ্রহণ করার সময়) তাদের মালের উৎকৃষ্টতম অংশ গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকবে। মজলুমের বদদোয়াকে ভয় করবে, কেননা মজলুমের বদদোয়া এবং আল্লাহর মাঝখানে কোন পর্দার আড়াল থাকেনা। আবু আবদুল্লাহ (ইমাম বুখারী) রহ. বলেন, طاعت , طوعت এবং اطاعت সমার্থবোধক শব্দ এবং طُعت, طِعت এবং اطعتُ এর অর্থ একই।
হাদীস নং ৪০১০
সুলামইমান ইবনে হারব রহ………..আমর ইবনে মায়মুন রা. থেকে বর্ণিত যে, মুআয (ইবনে জাবাল) রা. ইয়ামানে পৌঁছার পর লোকজনকে নিয়ে ফজরের নামায আদায় করতে গিয়ে তিনি (এই আয়াত) “আল্লাহ ইবরাহীমকে বন্ধু বানিয়ে নিলেন” তিলাওয়াত করলেন। তখন কাওমের এক ব্যক্তি বলে উঠল, ইবরাহীমের মায়ের চোখ ঠাণ্ডা হয়ে গেছে। মুআয (ইবনে মুআয বাসরী), শুবা-হাবীব-সাঈদ রহ.-আমর রা. থেকে এতটুকু অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুআয (ইবনে জাবাল) রা.-কে ইয়ামানে পাঠালেন। (সেখানে পৌঁছে) মুআয রা. ফজরের নামাযে সূরা নিসা তিলাওয়াত করলেন। যখন তিনি (তিলাওয়াত করতে করতে) (এই আয়াত) “আল্লাহ ইবরাহীমকে বন্ধু বানিয়ে নিলেন” পড়লেন তখন তাঁর পেছন থেকে জনৈক ব্যক্তি বলে, উঠল, ইবরাহীমের মায়ের চোখ ঠাণ্ডা হয়ে গেছে।
হাদীস নং ৪০১১ – হাজ্জাতুল বিদা-এর পূর্বে আলী ইবনে আবু তালিব এবং খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রা.-কে ইয়ামানে প্রেরণ।
আহমদ ইবনে উসমান রহ……….বারা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রহ.-এর সঙ্গে ইয়ামানে পাঠালেন। বারা রা. বলেন, তারপর কিছু দিন পরেই তিনি খালিদ রা.-এর স্থলে আলী রা.-কে পাঠিয়ে বলে দিয়েছেন যে, খালিদ রা.-এর সাথীদেরকে বলবে, তাদের মধ্যে যে তোমার সাথে (ইয়ামানের দিকে) যেতে ইচ্ছা করে সে যেন তোমার সাথে চলে যায়, আর যে (মদীনায়) ফিরে যেতে চায় সে যেন ফিরে যায়। (রাবী বলেন) তখন আমি আলী রা.-এর সাথে ইয়ামানগামীদের মধ্যে থাকতাম। ফলে আমি গনীমত হিসেবে অনেক পরিমাণ আওকিয়া লাভ করলাম।
হাদীস নং ৪০১২
মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ………….বুরাইদা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী রা.-কে খুমুস নিয়ে আসার জন্য খালিদ রা.-এর কাছে পাঠালেন। (বারী বুরায়দা বলেন, কোন কারণে) আমি আলী রা.-এর প্রতি নারাজ ছিলাম, আর তিনি গোসলও করেছেন। (রাবী বলেন) তাই আমি খালিদ রা.-কে বললাম, আপনি কি তার দিকে দেখছেন না? এরপর আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ফিরে আসলে আমি তাঁর কাছে বিষয়টি উল্লেখ করলাম। তখন তিনি বললেন, হে বুবায়দা ! তুমি কি আলীর প্রতি অসন্তুষ্ট ? আমি উত্তর করলাম, জ্বী, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তার উপর অসন্তুষ্ট থেকো না। কারণ খুমসের ভিতরে তার প্রাপ্য অধিকার এ অপেক্ষাও বেশি রয়েছে।
হাদীস নং ৪০১৩
কুতাইবা রহ………..আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আলী ইবনে আবু তালিব রা. ইয়ামান থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে সিলম বৃক্ষের পাতা দ্বারা পরিশোধিত এক প্রকার (রঙিন) চামড়ার থলে করে সামান্য কিছু তাজা স্বর্ণ পাঠিয়েছিলেন। তখনও এগুলো থেকে সংযুক্ত খনিজ মাটিও পরিষ্কার করা হয়নি। আবু সাঈদ খুদরী রা. বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চার ব্যক্তির মধ্যে স্বর্ণ খণ্ডটি বণ্টন করে দিলেন। তারা হলেন, ইয়ায়না ইবনে বাদর, আকরা ইবনে হারিস, যায়েদ আল-খায়ল এবং চতুর্থ জন আলকামা কিংবা আমির ইবনে তুফাইল রা.। তখন সাহাবীগণের মধ্য থেকে একজন বললেন, এ স্বর্ণের ব্যাপারে তাদের অপেক্ষা আমরাই অধিক হকদার ছিলাম। (রাবী বলেন, কথাটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছল। তাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা কি আমার উপর আস্থা রাখ না অথচ আমি আসমান অধিবাসীদের আস্থাভাজন, সকাল-বিকাল আমার কাছে আসমানের সংবাদ আসছে। এমন সময়ে এক ব্যক্তি উঠে দাঁড়াল। লোকটির চোখ দুটি ছিল কোটরাগত, চোয়ালের হাড় যেন বেরিয়ে পড়ছে, উচু কলাপধারী, তার দাড়ি ছিল অতিশয় ঘন, মাথাটি ন্যাড়া, পরনের লুঙ্গী ছিল উপরের দিকে উঠান। সে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আল্লাহকে ভয় করুন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার জন্য আফসোস ! আল্লাহকে ভয় করার ব্যাপারে দুনিয়াবাসিদের মধ্যে আমি কি বেশি হকদার নই? আবু সাঈদ খুদরী রা. বলেন, লোকটি (এ কথা বলে) চলে যেতে লাগলে খালিদ বিন ওয়ালীদ রা. বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমি কি লোকটির গর্দান উড়িয়ে দেব না? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, না, হতে পারে সে নামায আদায় করে। (বাহ্যত মুসলমান)। খালিদ রা. বললেন, অনেক নামায আদায়কারী এমন আছে যারা মুখে এমন এমন কথা উচ্চারণ করে যা তাদের অন্তরে নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমাকে মানুষের দিল ছিদ্র করে, পেট ফেঁড়ে (ঈমানের উপস্থিতি) দেখার জন্য বলা হয়নি। তারপর তিনি লোকটির দিকে তাকিয়ে দেখলেন। তখন লোকটি পিঠ ফিরিয়ে চলে যাচ্ছে। তিনি বললেন, এ ব্যক্তির বংশ থেকে এমন এক জাতির উদ্ভব ঘটবে যারা শ্রুতিমধুর কণ্ঠে আল্লাহর কিতাবে তিলাওয়াত করবে অথচ আল্লাহর বাণী তাদের গলদেশের নিচে নামবে না। তারা দীন থেকে এভাবে বেরিয়ে যাবে যেভাবে নিক্ষেপ কৃত জন্তুর দেহ থেকে তীর বেরিয়ে যায়। (রাবী বলেন) আমার মনে হয় তিনি এ কথাও বলেছেন, যদি আমি তাদেরকে হাতে পাই তাহলে অবশ্যই আমি তাদের সামুদ জাতির মত হত্যা করে দেব।
