হাদীস নং ৪০১৪
মাক্কী ইবনে ইবরাহীম রহ………….জাবির রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী রা.-কে তাঁর কৃত ইহরামের উপর কায়েম থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন। মুহাম্মদ ইবনে বকর ইবনে জুরাজজ -আতা রহ.-জাবির রা. সূত্রে আরও বর্ণনা করেন যে, জাবির রা. বলেছেন, আলী ইবনে আবু তালিব রা. আদায়কৃত কর খুমুস নিয়ে (মক্কায়) আসলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, হে আলী ! তুমি কিসের ইহরাম বেঁধেছ? তিনি উত্তর করলেন, নবী যেটির ইহরাম বেঁধেছেন (আমিও সেটির ইহরাম বেঁধেছি) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললন, তাহলে তুমি কুরবানীর পশু পাঠিয়ে দাও এবং এখন যেভাবে আছ সেভাবে ইহরাম বাঁধা অবস্থায় অবস্থান করতে থাক। রাবী বলেন, সে সময় আলী রা. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য কুরবানীর পশু পাঠিয়েছিলেন।
হাদীস নং ৪০১৫
মুসাদ্দাদ রহ………..বকর রহ. থেকে বর্ণিত যে, ইবনে উমর রা.-এর কাছে এ কথা উল্লেখ করা হল, আনাস রা. লোকদের কাছে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ্জ এবং উমরার জন্য ইহরাম বেঁধেছিলেন। তখন ইবনে উমর রা. বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ্জের জন্য ইহরাম বেঁধেছেন, তাঁর সাথে আমরাও হজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধি। যখন আমরা মক্কায় উপনীত হই তিনি বললেন, তোমাদের যার সঙ্গে কুরবানীর পশু নেই সে যেন তার হজ্জের ইহরাম উমরার ইহরামে পরিণত করে ফেলে। অবশ্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে কুরবানীর পশু ছিল। এরপর আলী ইবনে আবু তালিব রা. হজ্জের উদ্দেশ্যে ইয়ামান থেকে আসলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তাকে) জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কিসের ইহরাম বেঁধেছ? কারণ আমাদের সাথে তোমার স্ত্রী (ফাতিমা) রয়েছে। তিনি উত্তর দিলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেটির ইহরাম বেঁধেছেন আমি সেটিরই ইহরাম বেঁধেছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে এ অবস্থায়ই থাক, কারণ আমাদের কাছে কুরবানীর জন্তু আছে।
হাদীস নং ৪০১৬ – যুল খালাসার যুদ্ধ।
মুসাদ্দাদ রহ………..জারীর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জাহিলিয়্যাতের যুগে একটি (নকল তীর্থ) ঘর ছিল যাকে ‘যুল খালাসা’ ইয়ামানী কাবা এবং সিরীয় কাবা বলা হত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, তুমি কি যুল-খালাসার পেরেশানী থেকে আমাকে স্বস্তি দেবে না? এ কথা শুনে আমি একশ’ পঞ্চাশজন অশ্বারোহী সৈন্য নিয়ে ছুটে চললাম। আর এ ঘরটি ভেঙ্গে টুকরা টুকরা করে দিলাম এবং সেখানে যাদেরকে পেলাম তাদের হত্যা করে ফেললাম। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ফিরে এসে তাকে এ সংবাদ জানালে তিনি আমাদের জন্য এবং (আমাদের গোত্র) আহমাসের জন্য দোয়া করলেন।
হাদীস নং ৪০১৭
মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না রহ………….কায়েস রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বর্ণিত, জারীর রা. আমাকে বলেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তুমি কি আমাকে যুল খালাসা থেকে স্বস্তি দেবে না? যুল খালাসা ছিল খাসআম গোত্রের একটি (বানোয়াট তীর্থ) ঘর, যাকে বলা হত ইয়ামনী কাবা। এ কথা শুনে আমি আহমাস গোত্র থেকে একশ পঞ্চাশজন অশ্বারোহী সৈন্য নিয়ে চললাম। তাদের সকলেই অশ্ব পরিচালনায় পারদর্শী ছিল। আর আমি তখন ঘোড়ার পিঠে শক্তভাবে বসতে পারছিলাম না। কাজেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার বুকের উপর হাত দিয়ে আঘাত করলেন। এমন কি আমি আমার বুকের উপর তার আঙ্গুলগুলোর ছাপ পর্যন্ত দেখতে পেলাম। (এ অবস্থায়) তিনি দোয়া করলেন, হে আল্লাহ ! একে (ঘোড়ার পিঠে) শক্তভাবে বসে থাকতে দিন এবং তাকে হেদায়েত দানকারী ও হেদায়েত লাভকারী বানিয়ে দিন। এরপর জারীর রা. সেখানে গেলেন এবং ঘরটি ভেঙ্গে দিয়ে তা জ্বালিয়ে ফেললেন। এরপর তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে দূত পাঠালেন। তখন জারীরের দূত (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে) বলল, সেই মহান সত্তার শপথ যিনি আপনাকে সত্য বাণী দিয়ে পাঠিয়েছেন, আমি ঘরটিকে খুজলি-পাঁচড়া আক্রান্ত কাল উটের মত রেখে আপনার কাছে এসেছি। রাবী বলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আহমাস গোত্রের অশ্বারোহী ও পদাতিক সৈনিকদের জন্য পাঁচবার বরকতের দোয়া করলেন।
হাদীস নং ৪০১৮
ইউসুফ ইবনে মূসা রহ………….জারীর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কি আমাকে যুল খালাসার পেরেশানী থেকে স্বস্তি দেবে না? আমি বললাম, অবশ্যই। এরপর আমি (আমাদের) আহমাস গোত্র থেকে একশ’ পঞ্চাশজন অশ্বারোহী সৈনিক নিয়ে চললাম। তাদের সবাই ছিল অশ্ব পরিচালায় অভিজ্ঞ। কিন্তু আমি তখনো ঘোড়ার উপর স্থির হয়ে বসতে পারতাম না। তাই ব্যাপারটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জানালাম। তিনি তাঁর হাত দিয়ে আমার বুকের উপর আঘাত করলেন। এমনকি আমি আমার বুকে তাঁর হাতের চিহ্ন পর্যন্ত দেখতে পেলাম। তিনি দোয়া করলেন : হে আল্লাহ ! একে স্থির হয়ে বসে থাকতে দিন এবং তাকে হেদায়েতদানকারী ও হেদায়েত লাভকারী বানিয়ে দিন। জারীর রা. বলেন, এরপরে আর কখনো আমি আমার ঘোড়া থেকে পড়ে যাইনি। তিনি আরো বলেছেন যে, যুল খালাসা ছিল ইয়ামানের অন্তর্গত খাসআম ও বাজীলা গোত্রের একটি (তীর্থ) ঘর। সেখানে কতগুলো মূর্তি স্থাপিত ছিল। লোকেরা এগুলোর পূজা করত এবং এ ঘরটিকে বলা হত কাবা। রাবী বলেন, এরপর তিনি সেখানে গেলেন এবং ঘরটি আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিলেন আর এর ভিটামাটিও চুরমান করে দিলেন। রাবী আরো বলেন, আর যখন জারীর রা. ইয়ামানে গিয়ে উঠলেন তখন সেখানে এক লোক থাকত, সে তীরের সাহায্য ভাগ্য নির্ণয় করত; তাকে বলা হল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতিনিধি এখানে আছেন, তিনি যদি তোমাকে পাকড়াও করার সুযোগ পান তাহলে তোমার গর্দান উড়িয়ে দেবেন। রাবী বলেন, এরপর একদা সে ভাগ্য নির্ণয়ের কাজে লিপ্ত ছিল, সেই মুহূর্তে জারীর রা. সেখানে পৌঁছে গেলেন। তিনি বললেন, তীরগুলো ভেঙ্গে ফেল এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই—এ কথার সাক্ষ্য দাও, অন্যথায় তোমার গর্দান উড়িয়ে দেব। লোকটি তখন তীরগুলো ভেঙ্গে ফেলল এবং (আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এ কথার) সাক্ষ্য দিল। এরপর জারীর রা. আবু আরতাত নামক আহমাস গোত্রের এক ব্যক্তিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমতে পাঠালেন খোশখবরী শোনানোর জন্য। লোকটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! সে সত্তার কসম করে বলছি, যিনি আপনাকে সত্য বাণী দিয়ে পাঠিয়েছেন, ঘরটিকে ঠিক খুজলি-পাঁচড়া আক্রান্ত উটের মত কালো করে রেখে আমি এসেছি। রাবী বলেন, এ কথা শুনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আহমাস গোত্রে অশ্বারোহী এবং পদাতিক সৈনিকদের সার্বিক কল্যাণ ও বরকতের জন্য পাঁচবার দোয়া করলেন।
