হাদীস নং ৪০০৪ – আবদুল্লাহ ইবনে হুযাফা সাহমী এবং আলকামা ইবনে মুযাযবিল মুদাল্লিজীর সৈন্যবাহিনী, যাকে আনসারদের সৈন্যবাহিনীও বলা হয়।
মুসাদ্দাদ রহ………….আলী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক অভিযানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি সৈন্যবাহিনী পাঠিয়েছিলেন। এবং আনসারদের এক ব্যক্তিকে তার সেনাপতি নিযুক্ত করে তিনি তাদেরকে তাঁর (সেনাপতির) আনুগত্য করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। (পরে কোন কারণে) আমীর ক্রুদ্ধ হয়ে গেলেন। তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি তোমাদেরকে আমার আনুগত্য করতে নির্দেশ দেননি? তাঁরা বলল, অবশ্যই। তিনি বললেন, তাহলে তোমরা আমার জন্য কিছু কাঠ সংগ্রহ কর। তাঁরা কাঠ সংগ্রহ করলেন। তিনি বললেন, এগুলোতে আগুন লাগিয়ে দাও। তাঁরা আগুন লাগালেন। তখন তিনি বললেন, এবার তোমরা সকলে এ আগুনে ঝাঁপিয়ে পড়। (আদেশ মত) তাঁরা ঝাঁপ দেয়ার সংকল্পও করে ফেললেন। কিন্তু তাদের কয়েকজন বাধা দিয়ে বলতে লাগলেন, আগুন থেকেই তো আমরা পালিয়ে গিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আশ্রয় নিয়েছিলাম। (অথচ এখানে সেই আগুনেই ঝাঁপ দেয়াররই আদেশ) এভাবে জ্বলতে জ্বলতে অবশেষে আগুন নিভে গেল এবং তার ক্রোধও থেমে গেল। এরপর এ সংবাদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে পৌঁছলে তিনি বললেন, যদি তারা আগুনে ঝাঁপ দিত তাহলে কিয়ামতের দিন পর্যন্ত আর এ আগুন থেকে বের হতে পারত না। কেননা আনুগত্য কেবল সৎ কাজের।
হাদীস নং ৪০০৫ – বিদায় হজ্জের পূর্বে আবু মূসা আশআরী রা. এবং মুআয (ইবনে জাবাল) কে ইয়ামানের উদ্দেশ্যে প্রেরণ।
মূসা রহ………….আবু বুরদা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু মূসা এবং মুআয ইবনে জাবাল রা-কে ইয়ামানের উদ্দেশ্য পাঠালেন। রাবী বলেন, তৎকালে ইয়ামানে দুটি প্রদেশ ছিল। তিনি তাদের প্রত্যেককে ভিন্ন ভিন্ন প্রদেশে পাঠিয়ে বলে দিলেন, তোমরা (এলাকাবাসীদের সাথে) কোমল আচরণ করবে, কঠিন আচরণ করবে না। এলাকাবাসীদের মনে সুসংবাদের মাধ্যমে উৎসাহ সৃষ্টি করবে, অনীহা সৃষ্টি হতে দেবে না। এরপর তাঁরা দুজনে নিজ নিজ শাসন এলাকায় চলে গেলেন। আবু বুরদা রা. বললেন, তাদের প্রত্যেকেই যখন নিজ নিজ এলাকায় সফর করতেন এবং অন্যজনের কাছাকাছি স্থানে পৌঁছে যেতেন তখন তাঁর সাথে সাক্ষাৎ হলে তাদের সালাম বিনিময় করতেন। এভাবে মুআয রা. একবার তাঁর এলাকায় এমন স্থানে সফর করছিলেন, যে স্থানটি তাঁর সাথী আবু মূসা রা.-এর এলাকার নিকটবর্তী ছিল। সুযোগ পেয়ে তিনি খচ্চরের পিঠে চড়ে (আবু মূসার এলাকায়) পৌঁছে গেলেন। তখন তিনি দেখলেন যে আবু মূসা রা. বসে আছেন আর তাঁর চারপাশে অনেক লোক জমায়েত হয়ে রয়েছে। আরো দেখলেন, পাশে এক লোককে তার গলার সাথে উভয় হাত বেঁধে রাখা হয়েছে। মুআয রা. তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, হে আবদুল্লাহ ইবনে কায়েস ! এ লোকটি কে? তিনি উত্তর দিলেন, এ লোকটি ইসলাম গ্রহণ করার পর মুরতাদ হয়ে গেছে। মুআয রা. বলেন, তাকে হত্যা না করা পর্যন্ত আমি সাওয়ারী থেকে অবতরণ করব না। আবু মূসা রা. বললেন, এ উদ্দেশ্যেই তাকে এখানে আনা হয়েছে। সুতরাং আপনি অবতরণ করুন। তিনি বললেন, না তাকে হত্যা না করা পর্যন্ত আমি নামব না। ফলে আবু মূসা রা. হুকুম করলেন এবং লোকটিকে হত্যা করা হল। এরপর মুআয রা. অবতরণ করলেন। মুআয রা. বললেন, হে আবদুল্লাহ ! আপনি কিভাবে কুরআন তিলাওয়াত করেন? তিনি বললেন, আমি (রাত-দিনের সব সময়ই) কিছুক্ষণ পরপর কিছু অংশ কর তিলাওয়াত করে থাকি। তিনি বললেন, আর আপনি কিভাবে তিলাওয়াত করেন, হে মুআয ! উত্তরে তিনি বললেন, আমি রাতের প্রথম ভাগে শুয়ে পড়ি এবং নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত নিদ্রা যাওয়ার পর আমি উঠে পড়ি। এরপর আল্লাহ আমাকে যতটুকু তাওফীক দান করেন তিলাওয়াত করতে থাকি। এ পদ্ধতি অবলম্বন করার জন্য আমি আমার নিদ্রার অংশকেও সাওয়াবের বিষয় বলে মনে করি, যেভাবে আমি আমার তিলাওয়াতকে সাওয়াবের বিষয় বলে মনে করে থাকি।
হাদীস নং ৪০০৬
ইসহাক রহ…………আবু মূসা আশআরী রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে (আবু মূসাকে গভর্নর নিযুক্ত করে) ইয়ামানে পাঠিয়েছেন। তখন তিনি ইয়ামানে তৈরী করা হয় এমন কতিপয় শরাব সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললন, ঐগুলো কি কি? আবু মূসা রা. বললেন, তাহল বিতউ ও মিযর শরাব। রাবী সাঈদ রহ. বলেন, (কথার ফাকেঁ) আমি আবু বুরদাকে জিজ্ঞাসা করলাম, বিতউ কি? তিনি বললেন, বিতউ হলো মধু থেকে গ্যাজানো রস আর মিযর হল যবের গ্যাজানো রস। (সাঈদ বলেন) তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সকল নেশা উৎপাদক বস্তুই হারাম। হাদীসটি জারীর এবং আবদুল ওয়াহিদ শায়বানী রহ.-এর মাধ্যমে আবু বুরদা রা. সূত্রেও বর্ণনা করেছেন।
হাদীস নং ৪০০৭
মুসলিম রহ…………..আবু বুরদা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তার দাদা আবু মূসা ও মুআয রা-কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (গভর্নর হিসেবে) ইয়ামানে পাঠালেন। এ সময় তিনি (উপদেশস্বরূপ) বলে দিয়েছিলেন, তোমরা লোকজনের সাথে কোমল আচরণ করবে। কখনো কঠিন আচরণ করব না। মানুষের মনে সুসংবাদের মাধ্যমে উৎসাহ সৃষ্টি করবে। কখনো তাদের মনে অনীহা আসতে দিবে না এবং একে অপরকে মেনে চলবে। আবু মূসা বললেন, হে আল্লাহর নবী ! আমাদের এলাকায় মিযর নামের এক প্রকার শরাব যব থেকে তৈরী করা হয় আর বিতউ নামের এক প্রকার শরাব মধু থেকে তৈরী করা হয় (অতএব এগুলোর হুকুম কি?) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, নেশা উৎপাদনকারী সকল বস্তুই হারাম। এরপর দুজনেই চলে গেলেন। মুআয আবু মূসাকে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কিভাবে কুরআন তিলাওয়াত করেন? তিনি উত্তর দিলেন, দাঁড়িয়ে, বসে সাওয়ারীর পিঠে সাওয়ার অবস্থায় এবং কিছুক্ষণ পরপরই তিলাওয়াত করি। তিনি বললেন, তবে আমি রাতের প্রথমদিকে ঘুমিয়ে পড়ি তারপর (শেষ ভাগে তিলাওয়াতের জন্য নামাযে) দাঁড়িয়ে যাই। এ রকমে আমি আমার নিদ্রার সময়কেও সাওয়াবের অন্তর্ভূক্ত মনে করি যেভাবে আমি আমার নামাযে দাঁড়ানোকে সাওয়াবের বিষয় মনে করে থাকি। এরপর (প্রত্যেকেই নিজ নিজ শাসন এলাকায় কার্যপরিচালনার জন্য) তাঁবু খাটালেন। এবং পরস্পরের সাক্ষাৎ বজায় রেখে চললেন। (সে মতে এক সময়) মুআয রা. আবু মূসা রা.-এর সাক্ষাতে এসে দেখলেন সেখানে এক ব্যক্তি হাতপা বাঁধা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, এ লোকটি কে? আবু মূসা রা. বললেন, লোকটি ইহুদী ছিল, ইসলাম গ্রহণ করার পর মুরতাদ হয়ে গেছে। মুআয রা. বললেন, আমি ওর গর্দান উড়িয়ে দেব। শুবা (ইবনুল হাজ্জাজ) থেকে আফাদী এবং ওয়াহাব অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আর ওকী রহ. নযর ও আবু দাউদ রহ. এ হাদীসের সনদে শুবা রহ.- সাঈদ-সাঈদের পিতা-সাঈদের দাদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। হাদীসটি জারীর ইবনে আবদুল হামীদ রহ. শায়বানী রহ.-এর মাধ্যমে আবু বুরদার সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
