হাদীস নং ৩৯৯৯
কাবীসা রহ…………আবদুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুনাইনের গনীমত বণ্টন করে দিলেন, তখন আনসারদের এক ব্যক্তি বলে ফেলল যে, এই বণ্টনের এবং তাকে কথাটি জানিয়ে দিলাম। তখন তাঁর চেহারার রং পরিবর্তিত হয়ে গেল। এরপর তিনি বললেন, আল্লাহ, মূসা আ.-এর উপর রহমত বর্ষণ করুন। তাকে এর চেয়েও অধিক কষ্ট দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি সবর করেছিলেন।
হাদীস নং ৪০০০
কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ……….আবদুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) রা. বর্ণিত, তিনি বলেন, হুনাইনের দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন কোন লোককে (গনীমতের মাল) বেশি বেশি করে দিয়েছিলেন। যেমন আকরাকে একশ উট দিয়েছিলেন। উয়ায়নাকে অনুরূপ (একশ উট) দিয়েছিলেন। এভাবে আরো কয়েকজনকে দিয়েছেন। এতে এক ব্যক্তি বলে উঠলো, এ বণ্টন পদ্ধতিতে আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্য রাখা হয়নি। (রাবী বলেন) আমি বললাম, অবশ্যই আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ কথা জানিয়ে দিব। এরপর (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কথাটি শুনে) বললেন, আল্লাহ মূসা আ.-এর উপর করুণা বর্ষণ করুন। তাকে এর চেয়েও অধিক কষ্ট দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি ধৈর্যধারণ করেছেন।
হাদীস নং ৪০০১
মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ………….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হুনাইনের দিন হাওয়াযিন, গাতফান ইত্যাদি গোত্র নিজেদের গৃহপালিত চতুষ্পদ প্রাণী ও সন্তান-সন্ততিসহ যুদ্ধক্ষেত্রে এল। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিল দশ হাজার তুলাকা সৈনিক। যুদ্ধে তারা সবাই তাঁর পাশ থেকে পিছনে সরে গেল। ফলে তিনি একাকী রয়ে যান। সেই সংকট মুহূর্তে তিনি আলাদা আলাদাভাবে দুটি ডক দিয়েছিলেন, তিনি ডান দিক ফিরে বলেছিলেন, ওহে আনসারসকল। তাঁরা সবাই উত্তর করলেন, আমরা হাযির ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আপনি সুসংবাদ নিন, আমরা আপনার সঙ্গেই আছি। এরপর তিনি বাম দিকে ফিরে বলেছিলেন, ওহে আনসারসকল। তাঁরা সবাই উত্তর করলেন, আমরা হাযির ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আপনি সুসংবাদ নিন, আমরা আপনার সঙ্গেই আছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাদা রঙের খচ্চরটির পিঠে ছিলেন। (অবস্থা আরো তীব্র হলে) তিনি নিচে নেমে পড়লেন এবং বললেন, আমি আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর রাসূল। (শেষ পর্যন্ত) মুশরিক দলই পরাজিত হল। সে যুদ্ধে বিপুল পরিমাণ গনীমত হস্তগত হল। তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেসব সম্পদ মুহাজির এবং নও-মুসলিমদের মধ্যে বণ্টন করে দিলেন। আর আনসারদেরকে তার কিছুই দেননি। তখন আনসারদের (কেউ কেউ) বললেন, কঠিন মুহূর্তে আসলে আমাদেরকে ডাকা হয় আর গনীমত অন্যদেরকে দেওয়া হয়। কথাটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছে গেল। তাই তিনি তাদেরকে একটি তাঁবুতে জমায়েত করে বললেন, হে আনসারগণ ! একি কথা আমার কাছে পৌঁছল? তাঁরা চুপ করে থাকলেন। তিনি বললেন, হে আনসারগণ ! তোমরা কি খুশি থাকবে না যে, লোকজন দুনিয়ার ধন-সম্পদ নিয়ে ফিরে যাবে আর তোমরা (বাড়ি) ফিরে যাবে আল্লাহর রাসূলকে সঙ্গে নিয়ে? তাঁরা বললেন: অবশ্যই। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যদি লোকজন একটি উপত্যকা দিয়ে চলে আর আনসারগণ একটি গিরিপথ দিয়ে চলে তাহলে আমি আনসারদের গিরিপথকেই গ্রহণ করে নেব। রাবী হিশাম রহ. বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, হে আবু হামযা (আনাস ইবনে মালিক) আপনি কি এ ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন? উত্তরে তিনি বললেন, আমি তাঁর কাছ থেকে আলাদা থাকতাম বা কখন? (যে আমি তখন সেখানে থাকব না)।
হাদীস নং ৪০০২ – নাজদের দিকে প্রেরিত অভিযান।
আবু নুমান রহ………….ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাজদের দিকে একটি সৈন্যদল পাঠিয়েছিলেন, তাতে আমিও ছিলাম। (এ যুদ্ধে প্রাপ্ত গনীমতের অংশে) আমাদের সবার ভাগে বারোটি করে উট পৌঁছল। উপরন্তু আমাদেরকে একটি করে উট বেশিও দেওয়া হল। কাজেই আমরা সকলে তেরোটি করে উট নিয়ে ফিরে আসলাম।
হাদীস নং ৪০০৩ – মুহাম্মদ (সা.) কর্তৃক খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রা.-কে জাযিমার দিকে প্রেরণ।
মাহমূদ (ইবনে গায়লান) ও নুআইম রহ………….সালিমের পিতা (আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রা.-কে বনী জাযিমার বিরুদ্ধে এক অভিযানে পাঠিয়েছিলেন। (সেখানে পৌঁছে) খালিদ রা. তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দিলেন। (তারা দাওয়াত কবূল করেছিল) কিন্তু আমরা ইসলাম কবূল করলাম, এ কথাটি বুঝিয়ে বলতে পারছিল না। তাই তারা বলতে লাগল, আমরা স্বধর্ম ত্যাগ করলাম, আমরা স্বধর্ম ত্যাগ করলাম। খালিদ তাদেরকে হত্যা ও বন্দী করতে থাকলেন। এবং আমাদের প্রত্যেকের কাছে বন্দীদেরকে সোপর্দ করতে থাকলেন। অবশেষে একদিন তিনি আদেশ দিলেন আমাদের সবাই যেন নিজ নিজ বন্দীকে হত্যা করে ফেলি। আমি বললাম, আল্লাহর কসম, আমি আমার বন্দীকে হত্যা করব না। আর আমার সাথীদের কেউই তার বন্দীকে হত্যা করবে না (কারণ ব্যাপারটি সন্দেহযুক্ত)। অবশেষে আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ফিরে আসলাম। আমরা তাঁর কাছে এ ব্যাপারটি উল্লেখ করলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন দুহাত তুলে বললেন, হে আল্লাহ ! খালিদ যা করেছে আমি তার দায় থেকে মুক্ত (আমি এর সাথে জড়িত নই)। এ কথাটি তিনি দু’বার বলেছেন।
