হাদীস নং ৩৯৩৬
আহমদ ইবনে ওয়াকিদ রহ………..আনাস রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট (মূতার) যুদ্ধক্ষেত্র থেকে খবর এসে পৌঁছার পূর্বেই তিনি উপস্থিত মুসলমানদেরকে যায়েদ, জাফর ও ইবনে রাওয়াহা রা.-এর শাহাদতের কথা জানিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন,যায়েদ রা. পতাকা হাতে অগ্রসর হলে তাকে শহীদ করা হয়। তখন জাফর রা. পতাকা হাতে অগ্রসর হল, তাকেও শহীদ করে ফেলা হয়। তারপর ইবনে রাওয়াহা রা. পতাকা হাতে নিল। এবার তাকেও শহীদ করে দেয়া হল। এ সময়ে তাঁর দু’চোখ থেকে অশ্রুধারা প্রবাহিত হচ্ছিল।(তারপর তিনি বললেন) অবশেষে সাইফুল্লাহদের মধ্যে এক সাইফুল্লাহ (আল্লাহর তরবারি) হাতে পতাকা ধারণ করেছে। ফলত আল্লাহ তাদের উপর (আমাদের) বিজয় দান করেছেন।
হাদীস নং ৩৯৩৭
কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ…………..আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যায়েদ ইবনে হারিসা রা. জাফর ইবনে আবু তালিব ও আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা রা.-এর শাহাদতের সংবাদ এসে পৌঁছলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসে পড়লেন। তাঁর চেহারায় শোকের চিহ্ন স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। আয়েশা রা. বলেন, আমি তখন দরজার ফাঁক দিয়ে উঁকি মেরে তাকিয়ে দেখলাম, জনৈক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! জাফর রা.-এর পরিবারের মেয়েরা কান্নাকাটি করছে। তখন তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মেয়েদেরকে বারণ করার জন্য লোকটিকে হুকুম করলেন। তারপর আবার এসে বলল, আমি তাদেরকে নিষেধ করেছি। কিন্তু তারা তা শোনেনি। আয়েশা রা. বলেন, এবারও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে পুনঃ হুকুম করলেন। লোকটি সেখানে গেল কিন্তু পুনরায় এসে বলল, আল্লাহর কসম, তারা আমার কথা মানছে না। আয়েশা রা. বলেন, (তারপর) সম্ভবত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছিলেন, তাহলে তাদের মুখের উপর মাটি ছুঁড়ে মার। আয়েশা রা. বলেন, আমি লোকটিকে বললাম, আল্লাহ তোমার নাককে অপমানিত করুক। আল্লাহর শপথ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাকে যে কাজ করতে বলেছেন তাতে তুমি সক্ষম নও অথচ তুমি তাকে বিরক্ত করা পরিত্যাগ করছ না।
হাদীস নং ৩৯৩৮
মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর রহ………….আমির রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইবনে উমর রা.-এর নিয়ম ছিল যে, যখনই তিনি জাফর ইবনে আবু তালিব রা.-এর পুত্র (আবদুল্লাহ)-কে সালাম দিতেন তখনই তিনি বলতেন, তোমার প্রতি সালাম, হে দু’ডানাওয়ালা পুত্র।
হাদীস নং ৩৯৩৯
আবু নুআইম রহ………….কায়েস ইবনে আবু হাযিম রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি খালিদ ইবনে ওয়ালিদ রা. থেকে শুনেছি, তিনি বলেছেন, মূতার যুদ্ধে আমার হাতে নয়টি তরবারি ভেঙ্গে গিয়েছিল। পরিশেষে আমার হাতে একটি প্রশস্ত ইয়ামানী তরবারি ছাড়া কিছুই অবশিষ্ট ছিল না।
হাদীস নং ৩৯৪০
আবু নুআইম রহ………….কায়েস ইবনে আবু হাযিম রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি খালিদ ইবনে ওয়ালিদ রা. থেকে শুনেছি, তিনি বলেছেন, মূতার যুদ্ধে আমার হাতে নয়টি তরবারি ভেঙ্গে গিয়েছিল। পরিশেষে আমার হাতে একটি প্রশস্ত ইয়ামানী তরবারি ছাড়া কিছুই অবশিষ্ট ছিল না।
হাদীস নং ৩৯৪১
ইমরান ইবনে মায়সারা রহ………..নুমান ইবনে বাশীর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক সময় আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা রা. (কোন কারণে) সংজ্ঞাহীন হয়ে গিয়েছিলেন, তখন তাঁর বোন আমরা (বিনতে রাওয়াহা রা.) হায়, হায় পাহাড়ের মত্যে আমার ভাই, হায়রে অমুকের মত, তমুকের মত ইত্যাদি গুণ উল্লেখ করে কান্নাকাটি শুরু করল। এরপর সংজ্ঞা ফিরে পেয়ে তিনি তাঁর বোনকে বললেন, তুমি যেসব কথা বলে কান্নাকাটি করেছিলে সেসব কথা সম্পর্কে আমাকে (বিদ্রূপাত্মকভাবে) জিজ্ঞাসা করে বলা হয়েছে, তুমি কি সত্যই এরূপ?
হাদীস নং ৩৯৪২
কুতাইবা রহ………….নুমান ইবনে বাশীর রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক সময় আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা রা. বেহুঁশ হয়ে পড়লেন………….যেভাবে উপরোক্ত হাদীসে বর্ণনা করা হয়েছে। (তারপর তিনি বলেছেন) এরপর তিনি (আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা রা.) যখন (মূতার লড়াইয়ে) শহীদ হন তখন তাঁর বোন মোটেই কান্নাকাটি করেনি।
হাদীস নং ৩৯৪৩
আমর ইবনে মুহাম্মদ রহ……… উসামা ইবনে যায়েদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে হুরকা গোত্রের বিরুদ্ধে পাঠিয়েছিলেন। আমরা প্রত্যুষে গোত্রটির উপর আক্রমণ করি এবং তাদেরকে পরাজিত করে দেই। এ সময়ে আনসারদের এক ব্যক্তি ও আমি তাদের (হুরকাদের) একজনের পিছু ধাওয়া করলাম। আমরা যখন তাকে ঘিরে ফেললাম তখন সে বলে উঠলো ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এ বাক্য শুনে আনসারী তার অস্ত্র সামলে নিলেন। কিন্তু আমি তাকে আমার বর্শা দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে ফেললেন। আমরা মদীনা প্রত্যাবর্তন করার পর এ সংবাদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কান পর্যন্ত পৌঁছলে তিনি বললেন, হে উসামা। ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলার পরেও তুমি তাকে হত্যা করেছ? আমি বললাম, সে তো আত্মরক্ষার জন্য কালেমা পড়েছিল। এরপরেও তিনি এ কথাটি হে উসামা ! লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলার পরেও তুমি তাকে হত্যা করেছ, বারবার বলতে থাকলেন। এতে আমার মন চাচ্ছিল যে, হায় যদি সেই দিনটির পূর্বে আমি ইসলামই গ্রহণ করতাম ! (তাহলে কতই ভাল হত, আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এহেন অনুতাপের কারণ হতে হত না।)
