হাদীস নং ৩৯৪৪
কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ………..সালমা ইবনে আকওয়া রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সাতটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি। আর তিনি যেসব অভিযান (বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দিকে) পাঠিয়েছিলেন তন্মধ্যে নয়টি অভিযানে আমি অংশ নিয়েছি। এসব অভিযানে একবার আবু বকর রা. আমাদের সেনাপতি থাকতেন, আরেকবার উসামা রা. আমাদের সেনাপতি থাকতেন। উমর ইবনে হাফস ইবনে গিয়াস রহ. অপর একটি হাদীসে তাঁর পিতা ইয়াযীদ ইবনে আবী উবায়দা রা.-এর মাধ্যমে সালমা ইবনুল আকওয়া রা. থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সাতটি যুদ্ধে অংশ নিয়েছি। আর তিনি (বিভিন্ন দিকে) যেসব সেনাদল পাঠিয়েছিলেন এর নয়টি সেনাদলে অংশ নিয়েছি। এ সব সেনাদলে একবার আবু বকর রা. আমাদের সেনাপতি থাকতেন। আরেকবার উসামা রা. আমাদের সেনাপতি থাকতেন।
হাদীস নং ৩৯৪৫
আবু আসিম দাহহাক ইবনে মাখলাদ রহ………..সালমা ইবনে আকওয়া রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সাতটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি এবং যায়েদ ইবনে হারিসা রা.-এর সাথেও যুদ্ধে অংশ নিয়েছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে (যায়েকে) আমাদের সেনাপতি নিযুক্ত করেছিলেন।
হাদীস নং ৩৯৪৬
মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ রহ………..সালমা ইবনে আকওয়া রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সাতটি যুদ্ধে অংশ নিয়েছি। এতে তিনি খায়বার, হুদায়বিয়া, হুনায়ন ও যিকারাদের যুদ্ধের কথা উল্লেখ করেছেন। রাবী ইয়াযীদ রহ. বলেন, অবশিষ্ট যুদ্ধগুলোর নাম আমি ভুলে গিয়েছি।
হাদীস নং ৩৯৪৭
কুতাইবা রহ……………..আলী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাকে এবং যুবাইর ও মিকদাদ রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথা বলে পাঠালেন যে, তোমরা রওয়ানা হয়ে রাওযায়ে খাখ নামক স্থানে চলে যাও, সেখানে সাওয়ারীর পিঠে হাওদার আরোহিণী জনৈক মহিলার কাছে একখানা পত্র আছে। তোমরা ঐ পত্রটি সেই মহিলা থেকে কেড়ে আনবে। আলী রা. বলেন, আমরা রওয়ানা হলাম। আর আমাদের অশ্বগুলো আমাদেরকে নিয়ে খুব দ্রুত ছুটে চলল। অবশেষে আমরা রাওযায়ে খাখ পর্যন্ত পৌঁছে গেলাম। গিয়েই আমরা হাওদায় আরোহিণী মহিলাটিকে দেখতে পেলাম। আমরা (তাকে) বললাম, পত্রটি বের করে। সে উত্তর দিল: আমার কাছে কোন পত্র নেই। আমরা বললাম অবশ্যই তোমাকে পত্রটি বের করতে হবে, অন্যথায় আমরা তোমার কাপড়-চোপড় খুলে তালাশ করব। রাবী বলেন, মহিলাটি তখন তার চুলের খোপা থেকে পত্রটি বের করল। আমরা পত্রটি নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে আসলাম। দেখা গেল এটি হাতিব ইবনে আবু বালতাআ রা.-এর পক্ষ থেকে মক্কার কতিপয় মুশরিকের কাছে পাঠানো হয়েছে। তিনি এতে মক্কার কাফেরদের বিরুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গৃহীত কিছু গোপন তৎপরতার সংবাদ ফাঁস করে দিয়েছেন । তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে হাতিব! এ কি কাজ করেছ? তিনি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! (অনুগ্রহ পূর্বক) আমার ব্যাপারে তাড়াতাড়ি কোন সিন্ধান্ত গ্রহণ করবেন না। আমি কুরাইশদের স্বগোত্রীয় কেউ ছিলাম না বরং তাদের বন্ধু অর্থাৎ তাদের মিত্র গোত্রের একজন ছিলাম। আপনার সঙ্গে যেসব মুহাজির আছেন কুরাইশ গোত্রে তাদের অনেক আত্মীয়-স্বজন রয়েছেন। যারা এদের পরিবার-পরিজন, ধন-সম্পদের হিফাজত করছে। আর কুরাইশ গোত্রে যখন আমার বংশগত কোন সম্পর্ক নেই তাই আমি ভাবলাম যদি আমি তাদের কোন উপকার করে দেই তাহরে তারা আমার পরিবার পরিজনের হিফাজতে এগিয়ে আসবে। কখনো আমি আমার দীন পরিত্যাগ করা কিংবা ইসলাম গ্রহণের পর কুফরকে গ্রহণ করার জন্য এ কাজ করিনি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেন, সে (হাতিব) তোমাদের কাছে সত্য কথাই বলেছে। উমর রা. বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমাকে অনুমতি দিন, আমি এ মুনাফিকের গর্দান উড়িয়ে দেবো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, দেখ, সে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে। তুমি তো জান না, হয়তো আল্লাহ তায়ালা বদরে অংশগ্রহণকারীরদের উপর সন্তুষ্ট হয়ে বলে দিয়েছেন, তোমরা যা খুশী করতে থাক, আমি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছি। তখন আল্লাহ তায়ালা এ সূরা অবতীর্ণ করেন : হে মুমিনীগণ ! আমার শত্রু ও তোমাদের শত্রুকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। তোমরা কি তাদের সাথে বন্ধুত্ব করছ অথচ তারা তোমাদের কাছে যে সত্য এসেছে তা প্রত্যাখ্যান করেছে। রাসূলকে এবং তোমাদেরকে (স্বদেশ থেকে) বহিষ্কার করেছে এ কারণে যে তোমরা তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহকে বিশ্বাস কর। যদি তোমরা আমার সন্তুষ্টি লাভের জন্য আমার পথে জিহাদের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে থাক তবে কেন তোমরা ওদের সাথে গোপনে বন্ধুত্ব করছ? তোমরা যা গোপন কর এবং যা প্রকাশ কর তা আমি সম্যক অবগত আছি। আর তোমাদের মধ্যে যে কেউ এ কাজ করে সে তো বিচ্যুত হয়ে যায় সরল পথ থেকে (৬০:১)।
হাদীস নং ৩৯৪৮
আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি জানিয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযান মাসে মক্কা বিজয়ের যুদ্ধ করেছেন। রাবী যুহরী রহ. বলেন, আমি সাঈদ ইবনে মুসায়্যাব রহ.-কেও অনুরূপ বর্ণনা করেতে শুনেছি। আরেকটি সূত্র দিয়ে তিনি উবায়দুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ রহ.-এর মাধ্যমে ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণনা করেছে যে, আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেছেন, (মক্কা অভিমুখে রওয়ানা হয়ে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোযা পালন করছিলেন। অবশেষে তিনি যখন কুদায়দ এবং উসফান নামক স্থানদ্বয়ের মধ্যবর্তী কাদীদ নাম স্থানে ঝরনাটির কাছে পৌঁছেন তখন তিনি ইফাতার করেন। এরপর রমযান মাস খতম হওয়া পর্যন্ত তিনি আর রোযা পালন করেননি।
