হাদীস নং ৩৯২৮
মুহাম্মদ ইবনে রাফি ও মুহাম্মদ ইবনে হুসাইন ইবনে ইবরাহীম রহ…………..ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, উমরা পালনের উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মক্কা অভিমুখে) রওয়ানা করলে কুরাইশী কাফেররা তাঁর এবং বায়তুল্লাহর মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়ালো। কাজেই তিনি হুদায়বিয়া নামক স্থানেই কুরবানীর জন্তু যবেহ করলেন এবং মাথা মুণ্ডন করলেন (হালাল হয়ে গেলেন) আর তিনি তাদের সঙ্গে এই মর্মে চুক্তি সম্পাদন করলেন যে, আগামী বছর তিনি উমরা পালনের জন্য আসবেন। কিন্তু তরবারি ব্যতীত অন্য কোন অস্ত্র সাথে আনবেন না এবং মক্কাবাসীরা যে ক’দিন ইচ্ছা করবে এর বেশি দিন তিনি সেখানে অবস্থান করবেন না। সে মতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পরবর্তী বছর উমরা পালন করতে আসলে) সম্পাদিত চুক্তিনামা অনুসারে তিনি মক্কায় প্রবেশ করলেন। তারপর তিনদিন অবস্থান করলে মক্কাবাসীরা তাকে চলে যেতে বলল। তাই তিনি (মক্কা থেকে) চলে গেলেন।
হাদীস নং ৩৯২৯
উসমান ইবনে আবু শায়বা রহ………….মুজাহিদ রহ. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি এবং উরওয়া ইবনে যুবাইর রা. মসজিদে নববীতে প্রবেশ করেই দেখলাম আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. আয়েশা রা.-এর হুজরার কিনারেই বসে আছে। উরওয়া রা. তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক’টি উমরা আদায় করেছিলেন? উত্তরে তিনি বললেন, চারটি। এ সময় আমরা (ঘরের ভিতরে) আয়েশা রা.-এর মিসওয়াক করার আওয়াজ শুনতে পেলাম। উরওয়া রা. বললেন, হে উম্মুল মুমিনীন ! আবু আবদুর রহমান (ইবনে উমর রা.) কি বলছেন, তা আপনি শুনেছেন কি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চারটি উমরা করেছেন? আয়েশা রা. উত্তর দিলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে ক’টি উমরা আদায় করেছিলেন তার সবটিতেই তিনি (ইবনে উমর) তাঁর সাথে ছিলেন। (তাই ইবনে উমর রা. ঠিকই বলবেন) তবে তিনি রজব মাসে কখনো উমরা আদায় করেননি।
হাদীস নং ৩৯৩০
আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ…………..ইবনে আবু আওফা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন উমরাতুল কাযা আদায় করছিলেন তখন আমরা তাকে মুশরিক ও তাদের যুবকদের থেকে (তাঁর চতুর্দিকে ঘিরে দাঁড়িয়ে) আড়াল করে রেখেছিলাম যেন তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কোন প্রকার কষ্ট বা আঘাত দিতে না পারে।
হাদীস নং ৩৯৩১
সুলাইমান ইবনে হারব রহ…………….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ (উমরাতুল কাযা আদায়ের উদ্দেশ্যে মক্কা) আগমন করলে মুশরিকরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করতে লাগল যে, তোমাদের সামনে এমন একদল লোক আসছে, ইয়াসরিবের জ্বর যাদেরকে দুর্বল করে দিয়েছে। এজন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীগণকে প্রথম তিন সাওত বা চক্করে দেহ হেলিয়ে দুলিয়ে চলার জন্য এবং দু’রুকনের মধ্যবর্তী স্থানে স্বাভাবিকভাবে চলতে নির্দেশ দেন। অবশ্য তিনি তাদেরকে সবকটি চক্করেই হেলে দুলে চলার আদেশ করতেন। কিন্তু তাদের প্রতি তাঁর অনুভূতিই কেবল তাকে এ হুকুম দেওয়া থেকে বিরত রেখেছিল। অন্য এক সনদে ইবনে সালমা রহ. আইয়্যূব ও সাঈদ ইবনে যুবাইর রা.-এর মাধ্যমে ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণনা করেছে যে, সন্ধি সম্পাদনের মাধ্যমে নিরাপত্তা লাভের পরবর্তী বছর যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন করলেন তখন মুশরিকরা যেন সাহাবীদের দৈহিক-বল অবলোকন করতে পারে এজন্য তিনি তাদের বলেছেন, তোমরা হেলেদুলে তাওয়াফ করো। এ সময় মুশরিকরা কুআয়কিআন পাহাড়ের দিক থেকে মুসলমানদেরকে দেখছিল।
হাদীস নং ৩৯৩২
মুহাম্মদ রহ…………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বায়তুল্লাহ এবং সাফা ও মারওয়া-এর মধ্যখানে এ জন্যই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সায়ী করেছিলেন, যেন মুশরিকদেরকে তাঁর শৌর্য-বীর্য অবলোকন করাতে পারেন।
হাদীস নং ৩৯৩৩
মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ………….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম অবস্থায় মায়মূনা রা.-কে বিয়ে করেছেন এবং (ইহরাম খোলার পরে) হালাল অবস্থায় তিনি তাঁর সাথে বাসর যাপন করেন। মায়মূনা রা. (মক্কায় নিকটেই) সারিফ নামক স্থানে ইন্তিকাল করেছেন। (ইমাম বুখারী রহ. বলেন) অপর একটি সনদে ইবনে ইসহাক ইবনে আবু নাজীহ ও আবান ইবনে সালিহ-আতা ও মুহাজিদ রহ. ইবনে আব্বাস রা. থেকে অতিরিক্ত এতটুকু বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমরাতুল কাযা আদায়ের সফরে মায়মূনা রা.-কে বিয়ে করেছিলেন।
হাদীস নং ৩৯৩৪
আহমদ রহ…………আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, সেদিন (মূতার যুদ্ধের দিন) তিনি শাহাদত প্রাপ্ত জাফর ইবনে আবু তালিব রা.-এর লাশের কাছে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। (তিনি বলেন) আমি জাফর রা.-এর দেহে তখন বর্শা ও তরবারির পঞ্চাশটি আঘাতের চিহ্ন গুণেছি। আর তন্মধ্যে কোনটাই তাঁর পশ্চাৎ দিকে ছিল না।
হাদীস নং ৩৯৩৫
আহমদ ইবনে আবু বকর রহ……………আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত , তিনি বলেন, মূতার যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যায়েদ ইবনে হারিসা রা.-কে সেনাপতি নিযুক্ত করে বলেছিলেন, যদি যায়েদ রা. শহীদ হয়ে যায় তাহলে জাফর ইবনে আবু তালিব রা. সেনাপতি হবে। যদি জাফর রা.-ও শহীদ হয়ে যায় তাহলে আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা রা. সেনাপতি হবে। আবদুল্লাহ (ইবনে উমর রা.) বলেন, ঐ যুদ্ধে তাদের সাথে আমিও ছিলাম। যুদ্ধ শেষে আমরা জাফর ইবনে আবু তালিব রা.-কে তালাশ করলে তাকে শহীদগণের মধ্যে পেলাম।তখন আমরা তার দেহে তরবারি ও বর্শার নব্বইটিরও অধিক আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেয়েছি।
