হাদীস নং ৩৯২১
মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ…………আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, খায়বার বিজয় হওয়ার পর আমরা (পরস্পর) বললাম, এখন আমরা পরিতৃপ্ত হয়ে খেজুর খেতে পারব।
হাদীস নং ৩৯২২
হাসান রহ…………..ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, খায়বার বিজয় লাভ করার পূর্ব পর্যন্ত আমরা তৃপ্তি সহকারে খেতে পাইনি।
হাদীস নং ৩৯২৩
ইসমাঈল রহ………..আবু সাঈদ খুদরী ও আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বার অধিবাসীদের জন্য (সাওয়াদ ইবনে গাযিয়া নামক) এক ব্যক্তিকে প্রশাসক নিযুক্ত করলেন। এরপর এক সময়ে তিনি (প্রশাসক) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে উন্নত জাতের কিছু খেজুর নিয়ে উপস্থিত হলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, খায়বারের সব খেজুরই কি এরূপ হয়ে থাকে? প্রশাসক উত্তর করলেন, জী, না, আল্লাহর কসম ইয়া রাসূলাল্লাহ ! তবে আমরা এরূপ খেজুরের এক সা’ সাধারণ খেজুরের দু’সা-এর বিনিময়ে কিংবা এ প্রকারের খেজুরের দু’সা সাধারণ খেজুরের তিন সার বিনিময়ে সংগ্রহ করে থাকি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এরূপ করো না। দিরহামের বিনিময়ে সব খেজুর বিক্রয় করে ফেলবে। তারপর দিরহাম দিয়ে উত্তম খেজুর খরিদ করবে।
আবদুল আযীয ইবনে মুহাম্মদ রহ………..সাঈদ রহ. থেকে বর্ণনা করেন যে, আবু সাঈদ ও আবু হুরায়রা রা. তাকে বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারদের বনী আদী গোত্রের এক ব্যক্তিকে খায়বার পাঠিয়েছেন এবং তাকে খায়বার অধিবাসীদের জন্য প্রশাসক নিযুক্ত করে দিয়েছেন। অন্য সনদে আবদুল মাজীদ-আবু সালিহ সাম্মান রহ. আবু হুরায়রা ও আবু সাঈদ রা. থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
হাদীস নং ৩৯২৪
মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ………….আবদুল্লাহ (ইবনে উমর) রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারের কৃষিভূমি সেখানকার অধিবাসী ইহুদীদেরকে এ চুক্তিতে প্রদান করেছিলেন যে, তারা ভূমি চাষ করবে এবং ফসল উৎপাদন করবে। বিনিময়ে তার উৎপন্ন ফসরের অর্ধেক তারা লাভ করবে।
হাদীস নং ৩৯২৫
আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ…………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত যে, যখন খায়বার বিজয় হযে গেল তখন (ইহুদীদের পক্ষ থেকে) একটি বকরী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে হাদিয়া দেওয়া হয়। সেই বকরীটি বিষ মেশানো ছিল।
হাদীস নং ৩৯২৬
মুসাদ্দাদ রহ…………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উসামা (ইবনে যায়েদ) রা.-কে একটি বাহিনীর আমীর নিযুক্ত করেছিলেন। লোকজন তাঁর আমীর নিযুক্ত হওয়ার উপর সমালোচনা শুরু করলে তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আজ তোমরা তার আমীর নিযুক্ত হওয়ার ব্যাপারে সমালোচনা শুরু করলে, অবশ্য ইতিপূর্বে তোমরা তার পিতার আমীর নিযুক্ত হওয়ার ব্যাপারেও সমালোচনা করেছিলে। আল্লাহর কসম, তিনি (উসামার পিতা যায়েদ ইবনে হারিসা) ছিলেন আমীর হওয়ার জন্য যথাযোগ্য এবং আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয়। তার মৃত্যুর পর এ (উসামা ইবনে যায়েদ) আমার নিকট বেশি প্রিয় ব্যক্তি।
হাদীস নং ৩৯২৭
উবায়দুল্লাহ ইবনে মূসা রহ………….বারা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যিলকাদা মাসে উমরা আদায করার ইচ্ছায় মক্কা অভিমুখে রওয়ানা করেন। মক্কাবাসীরা তাকে নগরীতে প্রবেশের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানালো। অবশেষে তিনি তাদের সঙ্গে এ কথার উপর সন্ধি-চুক্তি সম্পাদন করেন যে, (আগামী বছর উমরা পালন করতে এসে) তিনি মাত্র তিনদিন মক্কায় অবস্থান করবেন। মুসলিমগণ সন্ধিপত্র লেখার সময় এভাবে লিখেছিলেন, আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ আমাদের সঙ্গে এ চুক্তি সম্পাদন করেছেন। ফলে তারা (কথাটির উপর আপত্তি উঠিয়ে) বলল, আমরা তো এ কথা (মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল) স্বীকার করিনি। যদি আমরা আপনাকে আল্লাহর রাসূল বলে স্বীকারই করতাম তাহলে মক্কা প্রবেশে মোটেই বাধা দিতাম না। বরং আপনি তো মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ। তখন তিনি বললেন, আমি আল্লারহ রাসূল এবং মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ (উভয়টিই)। তারপর তিনি আলী রা.-কে বললেন, রাসূলুল্লাহ শব্দটি মুছে ফেল। আলী রা. উত্তর করলেন, আল্লাহর কসম, আমি কখনো এ কথা মুছতে পারব না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন নিজেই চুক্তিপত্রটি হাতে নিলেন। তিনি (আক্ষরিকভাবে) লিখতে জানতেন না, তবুও তিনি (তার এক মুজিযা হিসেবে) লিখে দিলেন যে, মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ এ চুক্তিপত্র সম্পাদন করে দিয়েছে যে, তিনি কোষবদ্ধ তরবারি ব্যতীত অন্য কোন অস্ত্র নিয়ে মক্কায় প্রবেশ করবেন না। মক্কার অধিবাসীদের কেউ তাঁর সাথে যেতে চাইলেও তিনি তাকে সঙ্গে নিয়ে যাবেন না। তাঁর সাথীদের কেউ মক্কায় (পুনরায়) অবস্থান করতে চাইলে তিনি তাকে বাধা দেবেন না। (পরবর্তী বছর সন্ধি অনুসারে) যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় প্রবেশ করলেন এবং নির্দিষ্ট মেয়াদ অতিক্রম হল তখন মুশরিকরা আলীর কাছে এসে বলল, আপনার সাথী (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলুন যে, নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হয়ে গেছে। তাই তিনি যেন আমাদের নিকট থেকে চলে যান। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে মতে প্রত্যাবর্তন করলেন। এ সময়ে হাযমা রা.-এর কন্যা চাচা চাচা বলে ডাকতে ডাকতে তার পেছনে ছুটলো। আলী রা. তার হাত ধরে তুলে নিয়ে ফাতিমা রা.-কে দিয়ে বললেন, তোমার চাচার কন্যাকে নাও। ফাতিমা রা. বাচ্চাটিকে তুলে নিলেন। (কাফেলা মদীনা পৌঁছার পর) বাচ্চাটি নিয়ে আলী, যায়েদ (ইবনে হারিসা) ও জাফর (ইবনে আবু তালিব রা.)-এর মধ্যে ঝগড়া আরম্ভ হয়ে গেল। আলী রা. বললেন, আমি তাকে (প্রথমে) কোলে নিয়েছি এবং সে আমার চাচার কন্যা (তাই সে আমার কাছে থাকবে) জাফর দাবি করলেন, সে আমার চাচার কন্যা এবং তার খালা হল আমার স্ত্রী। যায়েদ (ইবনে হারিসা রা.) বললেন, সে ভাইয়ের কন্যা (অর্থাৎ সবাই নিজ নিজ সম্পর্কের ভিত্তিতে নিজের কাছে রাখার অধিকার পেশ করল)। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মেয়েটিকে তার খালার জন্য (অর্থাৎ জাফরের পক্ষে) ফায়সালা দিয়ে বললেন, (আদর ও লালন-পালনের ব্যাপারে) খালা মায়ের সমপর্যায়ের। এরপর তিনি আলীর দিকে লক্ষ্য করে বললেন, তুমি আমার এবং আমি তোমার। জাফর রা.-কে বললেন, তুমি দৈহিক গঠন এবং চারিত্রিক গুণে আমার মতো। আর যায়েদ রা.-কে বললেন, তুমি আমাদের ঈমানী ভাই ও আযাদকৃত গোলাম। আলী রা. (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে) বললেন, আপনি হামযার মেয়েটিকে বিয়ে করছেন না কেন? তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উত্তরে বললেন, সে আমার দুধ-ভাই (হামযা)-এর মেয়ে।
