হাদীস নং ৩৯০৬
হাজ্জাজ ইবনে মিনহাল রহ…………..বারা এবং আবদুল্লাহ ইবনে আবু আওফা রা. থেকে বর্ণিত যে, (খায়বার যুদ্ধে) তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলেন। (খায়বারের জন্য তাঁরা) গাধার গোশত পেলেন। তাঁরা তা রান্না করলেন। এমন সময়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করলেন, ডেকচিগুলো সব উল্টিয়ে ফেল।
হাদীস নং ৩৯০৭
ইসহাক রহ………..আদী ইবনে সাবিত রা. থেকে বর্ণিত যে, (তিনি বলেন,) আমি বারা এবং ইবনে আবু আওফা রা.-কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, খায়বারের দিন তাঁরা গাধার গোশত পাকানোর জন্য ডেকচি বসিয়েছিলেন, এমন সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ডেকচিগুলো উল্টিয়ে ফেল।
হাদীস নং ৩৯০৮
মুসলিম রহ………….বারা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে খায়বারে অভিযানে অংশগ্রহণ করেছিলাম………। পরে তিনি উপরোল্লিখিত বর্ণনার অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
হাদীস নং ৩৯০৯
ইবরাহীম ইবনে মূসা রহ…………..বারা ইবনে আযিব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, খায়বার যুদ্ধের সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে কাঁচা ও রান্না করা সকল প্রকারের গৃহপালিত গাধার গোশত ঢেলে দিতে হুকুম করেছেন। এরপরে আর কখনো তা খেতে অনুমতি দেননি।
হাদীস নং ৩৯১০
মুহাম্মদ ইবনে আবুল হুসায়ন রহ…………….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ঠিক জানিনা যে, গৃহপালিত গাধাগুলো মানুষের মাল-সমান আনা-নেয়ার কাজে ব্যবহার হতো, কাজেই এর গোশত খেলে মানুষের বোঝা বহনকারী পশু নিঃশেষ হয়ে যাবে এবং লোকজনের চলাচলে কষ্টকর হয়ে পড়বে, এ জন্য কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা খেতে নিষেধ করেছিলেন, না খায়বারের দিন এর গোশত (আমাদের জন্য) স্থায়ীভাবে হারাম ঘোষণা দিয়েছেন।
হাদীস নং ৩৯১১
হাসান ইবনে ইসহাক রহ………..ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, খায়বার যুদ্ধের দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোড়ার জন্য দুই অংশ এবং পদাতিক যোদ্ধার জন্য এক অংশ হিসেবে (গনীমতের) সম্পদ বণ্টন করেছেন। রাবী (উবায়দুল্লাহ ইবনে উমর রা.) বলেন, নাফি হাদীসটির ব্যাখ্যা করে বলেছেন, (যুদ্ধে) যার সঙ্গে ঘোড়া থাকে তার জন্য তিন অংশ এবং যার সঙ্গে ঘোড়া থাকে না, তার জন্য এক অংশ।
হাদীস নং ৩৯১২
ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ………….যুবাইর ইবনে মুতঈম রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এবং উসমান ইবনে আফফান রা. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গিয়ে বললাম, আপনি খায়বারের প্রাপ্ত খুমুস থেকে বনী মুত্তালিবকে অংশ দিয়েছেন, আমাদেরকে দেননি। অথচ আপনার সাথে বংশের দিকে থেকে আমরা এবং বনী মুত্তালিব সম-মর্যাদার অধিকারী। যুবাইর রা. বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনী আবদে শামস ও বনী নাওফিলকে (খায়বার যুদ্ধের খুমুস থেকে) কিছুই দেননি।
হাদীস নং ৩৯১৩
মুহাম্মদ ইবনে আলা রহ…………আবু মূসা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা ইয়ামানে থাকা অবস্থায় আমাদের কাছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর হিজরতে খবর পৌঁছলো। তাই আমি ও দু’ভাই আবু বুরদা ও আবু রুহম এবং আমাদের কাওমের আরো মোট বায়ান্ন কি তিপ্পান্ন কিংবা আরো কিছু লোকজনসহ আমরা হিজরতের জন্য বেরিয়ে পড়লাম। আমি ছিলাম আমার অপর দু’ভাইয়ের চেয়ে বয়সে ছোট। আমরা একটি জাহাজে আরোহণ করলাম। জাহাজটি আমাদেরকে আবিসিনিয়া দেশের (বাদশাহ) নাজ্জাশীর নিকট পৌঁছিয়ে দিল। সেখানে আমরা জাফর ইবনে আবু তালিবের সাক্ষাত পেলাম এবং তাঁর সাথেই আমরা রয়ে গেলাম। অবশেষে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খায়বার বিজয়কালে সকলে (হাবশা থেকে) প্রত্যাবর্তন করে এসে তাঁর সঙ্গে একত্রিত হলাম। এ সময় মুসলমানদের কেউ কেউ আমাদেরকে অর্থাৎ জাহাজযোগে আগমনকারীদেরকে বলল, হিজরতে ব্যাপারে আমরা তোমাদের অপেক্ষা অগ্রগামী। আমাদের সাথে আগমনকারী আসমা বিনতে উমায়স একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী হাফসার সাথে সাক্ষাত করতে এসেছিলেন। অবশ্য তিনিও (তাঁর স্বামী জাফরসহ) নাজ্জাশী বাদশাহর দেশের হিজরতকারীদের সাথে হিজরত করেছিলাম। আসমা রা. হাফসার কাছেই ছিলেন। এ সময়ে উমর রা. তাঁর ঘরে প্রবেশ করলেন। উমর রা. আসমাকে দেখে জিজ্ঞাসা করলেন, ইনি কে? হাফসা রা. বললেন, তিনি আসমা বিনতে উমাইস রা.। উমর রা. বললেন, হ্যাঁ, তখন উমর রা. বললেন, হিজরতের ব্যাপারে আমরা তোমাদের চেয়ে আগে আছি। সুতরাং তোমাদের তুলনায় আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলেন, তিনি আপনাদের ক্ষুধার্তদের আহারের ব্যবস্থা করতেন, আপনাদের মধ্যকার অবুঝ লোকদেরকে সদুপদেশ দিতেন। আর আমরা ছিলাম এমন এক এলাকায় অথবা তিনি বলেছেন এমন এক দেশে যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বহুদূর এবং সর্বদা শত্রু কবলিত–হাবশা দেশে। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যেই ছিল আমাদের এ কুরবানী। আল্লাহর কসম, আমি ততক্ষণ পর্যন্ত কোন খাবার গ্রহণ করব না এবং পানিও পান করব না,
যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি যা বলেছেন তা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এসব কথা বলব। এবং তাকে জিজ্ঞাসা করব। তবে আল্লাহর কসম, আমি মিথ্যা বলব না, ঘুরিয়ে কিংবা এর উপর বাড়িয়েও কিছু বলবো না। এরপর যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলেন, তখন আসমা রা. বললেন, হে আল্লাহর নবী ! উমর রা. এসব কথা বলেছেন, তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি তাকে কি উত্তর দিয়েছ? আসমা রা. বললেন, আমি তাকে এরূপ এরূপ বলেছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, (এ ব্যাপারে) তোমাদের তুলনায় উমর রা. আমার বেশি ঘনিষ্ঠ নয়। কারণ উমর রা. এবং তাঁর সাথীদের তো মাত্র একটিই হিজরত লাভ হয়েছে, আর তোমরা যারা জাহাজে আরোহণকারী ছিলে তাদের দুটি হিজরত অর্জিত হয়েছে। আসমা রা. বলেন, এ ঘটনার পর আমি আবু মূসা রা. এবং জাহাজযোগ আগমনকারী অন্যদেরকে দেখেছি যে, তাঁরা দলে দলে এসে আমার নিকট থেকে এ হাদীস শুনতেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সম্পর্কে যে কথাটি বলেছিলেন এ কথাটি তাদের কাছে এতই প্রিয় ছিল যে, তাদের কাছে দুনিয়ার অন্য কোন জিনিস এত প্রিয় ছিল না। আবু বুরদা রা .বলেন যে, আসমা রা. বলেছেন, আমি আবু মূসা (আশআরী রা.) কে দেখেছি, তিনি বারবারই আমার কাছ থেকে হাদীসটি শুনতে চাইতেন।
আবু বুরদা রা……….. আবু মূসা থেকে আরো বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আশআরী গোত্রের লোকজন রাতের বেলায় এলেও আমি তাদেরকে তাদের কুরআন তিলাওয়াতের আওয়াজ থেকেই চিনতে পারি। এবং রাতের বেলায় তাদেরকে নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করতে দেখিনি। হাকীম ছিলেন আশআরীদের একজন। যখন তিনি কোন দল কিংবা (রাবী বলেছেন) কোন শত্রুর মুকাবিলায় আসতেন তখন তিনি তাদেরকে বলতেন, আমার বন্ধুরা তোমাদের বলেছেন, যেন তোমরা তাদের জন্য অপেক্ষা কর।
