হাদীস নং ৩৮৯৬
আবদুল গাফফার ইবনে দাউদ ও আহমদ রহ………..আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা খায়বারে এসে পৌঁছলাম। এরপর যখন আল্লাহ তাকে খায়বার দুর্গের বিজয় দান করলেন তখন তাঁর কাছে (ইহুদী দলপতি) হুয়াই ইবনে আখতাবের কন্যা সাফিয়্যা রা.-এর সৌন্দর্যের কথা আলোচনা করা হল। তার স্বামী (কেননা ইবনুর রাবী এ যুদ্ধে) নিহত হয়। সে ছিল নববধু। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে নিজের জন্য মনোনীত করেন এবং তাকে সঙ্গে করে (খায়বার থেকে) রওয়ানা হন। এরপর আমরা যখন সাদ্দুস সাহবা নামক স্থানে পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছলাম তখন সাফিয়্যা রা. তাঁর মাসিক ঋতুস্রাব থেকে পবিত্রতা লাভ করলেন। এ সময়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাথে বাসঘরে সাক্ষাত করলেন। তারপর একটি ছোট দস্তরখানে (খেজুর ঘি ও ছাতু মেশানো এক প্রকার) হায়স নামক খানা সাজিয়ে আমাকে বললেন, তোমার আশেপাশে যারা আছে সবাইকে ডাক। আর এটিই ছিল সাফিয়্যা রা.-এর সাথে বিয়ের ওয়ালীমা। তারপর আমরা মদীনার দিকে রওয়ানা হলাম, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর পেছনে (সাওয়ারীর পিঠে) সাফিয়্যা রা.-এর জন্য একটি চাদর বিছাতে দেখেছি। এরপর তিনি তাঁর সাওয়ারীর উপর হাঁটুদ্বয় মেলে বসতেন আর সাফিয়্যা রা. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাঁটুর উপর পা রেখে সাওয়ারীতে আরোহণ করতেন।
হাদীস নং ৩৮৯৭
ইসমাঈল রহ…………আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বার থেকে প্রত্যাবর্তন করার পথে সাফিয়্যা রা. বিনতে হুয়াঈ -এর কাছে তিনদিন অবস্থান করে তাঁর সাথে বাসর যাপন করেছেন। আর সাফিয়্যা রা. ছিলেন সে সব মহিলাদের একজন যাদের জন্য পর্দার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
হাদীস নং ৩৮৯৮
সাঈদ ইবনে আবু মারয়াম রহ…………আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বার ও মদীনার মধ্যবর্তী এক জায়গায় তিনদিন অবস্থান করেছিলেন আর এ সময় তিনি সাফিয়্যা রা.-এর সঙ্গে বাসর যাপন করেছেন। আমি মুসলমানগণকে তাঁর ওয়ালীমার জন্য দাওয়াত দিলাম। অবশ্য এ ওয়ালীমাতে গোশত রুটির ব্যবস্থা ছিল না, কেবল এতটুকু ছিল যে, তিনি বিলাল রা.-কে দস্তরখান বিছাতে বললেন। দস্তরখান বিছানো হল। এরপর তাতে কিছু খেজুর, পনির ও ঘি রাখা হল। এ অবস্থা দেখে মুসলিমগণ পরস্পর বলাবলি করতে লাগল যে, তিনি (সাফিয়্যা রা.) কি উম্মাহাতুল মুমিনীনেরই একজন, না ক্রীতদাসীদের একজন? তাঁরা (আরো) বললেন, যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জন্য পর্দার ব্যবস্থা করেন তাহলে তিনি উম্মাহাতুল মুমিনীনেরই একজন বোঝা যাবে। আর পর্দার ব্যবস্থা না করলে ক্রীতদাসী হিসেবেই বুঝতে হবে। এরপর যখন তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রওয়ানা হলেন তখন তিনি নিজের পেছনে সাফিয়্যা রা.-এর জন্য বসার জায়গা করে দিয়ে পর্দা টানিয়ে দিলেন।
হাদীস নং ৩৮৯৯
আবুল ওয়ালীদ ও আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ…………..আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা খায়বারের দুর্গ অবরোধ করে রাখলাম, এমন সময়ে এক ব্যক্তি একটি থলে নিক্ষেপ করল। তাতে ছিল কিছু চর্বি। আমি সেটি কুড়িয়ে নেয়ার জন্য দ্রুত এগিয়ে আসলাম, হঠাৎ পেছনে ফিরে তাকাতেই দেখলাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আমার দিকে তাকিয়ে আছেন) তাই আমি লজ্জিত হয়ে গেলাম।
হাদীস নং ৩৯০০
উবাইদ ইবনে ইসমাঈল রহ…………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, খায়বার যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রসুন ও গৃহপালিত গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন। তিনি রসুর খেতে নিষেধ করেছেন কথাটি কেবল নাফি, থেকে বর্ণিত হয়েছে, আর গৃহপালিত গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন কথাটি সালিম (ইবনে আবদুল্লাহ) রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে।
হাদীস নং ৩৯০১
ইয়াহইয়া ইবনে কাযাআ রহ…………..আলী ইবনে আবু তালিব রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বার যুদ্ধের দিন মহিলাদের মুতআ (মেয়াদী বিয়ে) করা থেকে এবং গৃহপালিত গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন।
হাদীস নং ৩৯০২
মুহাম্মদ ইবনে মুকাতিল রহ………….ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বার যুদ্ধের দিন গৃহপালিত গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন।
হাদীস নং ৩৯০৩
ইসহাক ইবনে নাসর রহ………….ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গৃহপালিত গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন।
হাদীস নং ৩৯০৪
সুলাইমান ইবনে হারব রহ…………..জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারের যুদ্ধের দিন (গৃহপালিত) গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন এবং ঘোড়ার গোশত খেতে অনুমতি দিয়েছেন।
হাদীস নং ৩৯০৫
সাঈদ ইবনে সুলাইমান রহ…………ইবনে আবী আওফা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, খায়বার যুদ্ধে আমরা অত্যন্ত ক্ষুধার্ত হয়ে পড়েছিলাম, আর তখন আমাদের ডেকচিগুলোতে (গাধার গোশত) টগবগ করে ফুটছিল। রাবী বলেন, কোন কোন ডেকচির গোশত পাকানো হয়ে গিয়েছিল এমন সময়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পক্ষে থেকে এক ঘোষণাকারী এসে ঘোষণা দিলেন, তোমরা (গৃহপালিত) গাধার গোশত থেকে সামান্য পরিমাণও খাবে না এবং তা ঢেলে দেবে। ইবনে আবী আওফা রা. বলেন, ঘোষণা শুনে আমরা পরস্পর বলাবলি করলাম যেহেতু গাধাগুলো থেকে খুমুছ আদায় করা হয়নি এ কারণেই তিনি সেগুলো খেতে নিষেধ করেছেন। আর কেউ কেউ মন্তব্য করলেন, না, তিনি চিরদিনের জন্যই গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন। কেননা গাধা অপবিত্র জিনিস খেয়ে থাকে।
