হাদীস নং ৩৮৯২
আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ………..সাহল রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোন এক যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং মুশরিকরা মুখোমুখি হলেন। পরস্পরের মধ্যে তুমুল লড়াই হল। (শেষে) সকলেই নিজ নিজ সেনা ছাউনিতে ফিরে গেল। মুসলিম সৈন্যদের মধ্যে এমন এক ব্যক্তি ছিল, যে মুশরিকের কোন একাকী কিংবা দলবদ্ধ কো শত্রুকেই তার আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে দেয়নি বরং সবাইকেই তাড়া করে তার তরবারির আঘাতে হত্যা করেছে। তখন (তার ব্যাপারে) বলা হল; হে আল্লাহর রাসূল ! অমুক ব্যক্তি আজ যে পরিমাণ আমল করেছে অন্য কেউ আজ সে পরিমাণ করতে পারেনি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে ব্যক্তি তো জাহান্নামী। তারা বলল, তাহলে আমাদের মধ্যে আর কে জান্নাতবাসী হতে পারবে যদি এ ব্যক্তিই জাহান্নামী হয়? তখন কাফেলার মধ্যে থেকে একজন বলল, অবশ্যই আমি তাকে অনুসরণ করে দেখব, লোকটি যখন দ্রুত চলতো আর ধীরে চলতো সর্বাবস্থায়ই আমি তার সাথে থাকতাম। পরিশেষে, লোকটি আঘাতপ্রাপ্ত হলে আর(আঘাতের যন্ত্রণায়) সে দ্রুত মৃত্যু কামনা করে তার তরবারির বাট মাটিতে স্থাপন করল এবং ধারালো ভাগ নিজের বুকের বরাবর রেখে এর উপর সজোড়ে ঝুঁকে পড়ে আত্মহত্যা করল। তখন সাহাবী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, নিশ্চয়ই আপনি আল্লাহর রাসূল। তখন তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিজ্ঞাসা করলেন, কি ব্যাপার? তিনি তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সব ঘটনা জানালেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কেউ কেউ (দৃশ্যত) জান্নাতবাসীদের মত আমল করতে থাকে আর লোকজন তাকে অনুরূপই মনে করে থাকে অথচ প্রকৃতপক্ষে সে জাহান্নামী। আবার কেউ কেউ জাহান্নামীর মত আমল করে থাকে আর লোকজনও তাকে তাই মনে করে অথচ সে জান্নাতী।
হাদীস নং ৩৮৯৩
মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ খুযাঈ রহ…………….আবু ইমরান রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোন এক জুমুআর দিনে আনাস রা. লোকজনের দিকে দিকে তাকিয়ে দেখলেন তাদের (মাথায়) তায়ালিসা চাদর। তখন তিনি বললেন, এ মুহূর্তে এদেরকে যেন খায়বারের ইহুদীতের মত দেখাচ্ছে।
হাদীস নং ৩৮৯৪
আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ………….সালমা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, চক্ষু রোগে আক্রান্ত থাকার দরুন আলী রা. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর থেকে খায়বার অভিযানে পেছনে ছিলেন। (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে রওয়ানা হয়ে এসে পড়লে) আলী রা. বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে (যুদ্ধে অংশগ্রহন না করে) আমি পেছনে বসে থাকব ! সুতরাং তিনি গিয়ে তাঁর সাথে মিলিত হলেন। (সালমা রা. বলেন) খায়বার বিজিত হওয়ার পূর্ব রাতে তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আগামী কাল সকালে আমি এমন ব্যক্তির হাতে ঝাণ্ডা অর্পণ করব অথবা তিনি বলেছেন, আগামীকাল সকালে এমন এক ব্যক্তি ঝাণ্ডা গ্রহণ করবে যাকে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল ভালবাসেন। আর তাঁর হাতেই খায়বার বিজিত হবে। কাজেই আমরা সবাই তা পাওয়ার আকাঙ্খা করছিলাম। তখন বলা হল, ইনি তো আলী। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ঝাণ্ডা প্রদান করলেন এবং তাঁর হাতেই খায়বার বিজিত হল।
হাদীস নং ৩৮৯৫
কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ……….সাহল ইবনে সাদ রা. থেকে বর্ণিত, খায়বারের একদা রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, আগামীকাল সকালে আমি এমন এক ব্যক্তির হাতে ঝাণ্ডা অর্পণ করব যার হাতে আল্লাহ খায়বারে বিজয় দান করবেন এবং যাকে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল ভালবাসেন আর সেও আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলকে ভালবাসে। সাহল রা. বলেন, (ঘোষণাটি শুনে) মুসলমানগণ এ জল্পনা-কল্পনা মধ্যেই রাত কাটালো যে, তাদের মধ্যে কাকে অর্পণ করা হবে এ ঝাণ্ডা। সকাল হল, সবাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলেন, আর প্রত্যেকেই মনে মনে এ ঝাণ্ডা লাভ করার আকাঙ্খা পোষণ করছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আলী ইবনে আবু তালিব রা. কোথায়? সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! তিনি তো চক্ষুরোগে আক্রান্ত অবস্থায় আছেন। তিনি বললেন, তাকে লোক পাঠিয়ে সংবাদ দাও। সে মতে তাকে আনা হল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উভয় চোখে থুথু লাগিয়ে তাঁর জন্য দোয়া করলেন। ফলে চোখ এরূপ সুস্থ হয়ে গেল যে, যেন কখনো চোখে কোন রোগেই ছিল না। এরপর তিনি তাঁর হাতে ঝাণ্ডা অর্পণ করলেন। তখন আলী রা. বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! তারা আমাদের মত (মুসলমান) না হওয়া পর্যন্ত আমি তাদের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি বর্তমান অবস্থায়ই তাদের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে উপনীত হও, এরপর তাদেরকে ইসলাম গ্রহণের প্রতি আহবান করো (যদি তারা ইসলাম গ্রহণ করে তাহলে) ইসলামী বিধানে ওদের উপর যেসব হক বর্তায় সেসব সম্পর্কে তাদেরকে অবহিত করে দিও। কারণ আল্লাহর কসম! তোমরা দাওয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ যদি মাত্র একজন মানুষকেও হেদায়েত দেন তাহলে তা তোমার জন্য লোহিত বর্ণের (মূল্যবান) উটের মালিক হওয়া অপেক্ষাও অনেক উত্তম।
