হাদীস নং ৩৮৭০
কুতাইবা রহ…………….নাফি রহ. থেকে বর্ণিত যে, ফিতনার যমানায় (হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফের মক্কা আক্রমণের সময়) আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. উমরা পালন করার নিয়তে রওয়ানা হয়ে বললেন, যদি আমাকে বায়তুল্লাহর যিয়ারতে বাঁধা প্রদান করা হয় তাহলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে আমরা যা করেছিলাম এ ক্ষেত্রেও আমরা তাই করব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেহেতু হুদায়বিয়ার বছর উমরার ইহরাম বেঁধে যাত্রা করেছিলেন তাই তিনিও উমরার ইহরাম বেঁধে যাত্রা করলেন।
হাদীস নং ৩৮৭১
মুসাদ্দাদ রহ………….ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, ফিতনার বছর তিনি (উমরার) ইহরাম বেঁধে বললেন, যদি আমার আর তার (যিয়ারতে বায়তুল্লাহর) মধ্যে কোন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয় তাহলে কুরাইশ কাফেররা বায়তুল্লাহর যিয়ারতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা করেছিলেন আমিও ঠিক তাই করব। এবং তিনি তিলাওয়াত করলেন, “তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ”।
হাদীস নং ৩৮৭২
আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আসমা ও মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ……….নাফি রহ. থেকে বর্ণিত যে, আবদুল্লাহ রা.-এর কোন ছেলে তাকে লক্ষ্য করে বলেন, এ বছর আপনি মক্কা শরীফ যাওয়া স্থগিত রাখলেই উত্তম হত। কারণ আমি আশংকা করছি যে, আপনি বায়তুল্লাহ শরীফ যেতে পারবেনা না। তখন আবদুল্লাহ রা. বললেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে রওয়ানা হয়েছিলাম। পথে কুরাইশ কাফেররা বায়তুল্লাহর যিয়ারতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কুরবানীর পশুগুলো যবেহ করে মাথা কামিয়ে ফেললেন। সাহাবীগণ চুল ছাঁটলেন। (এরপর তিনি বললেন,) আমি তোমাদেরকে সাক্ষী রেখে বলছি, আমার জন্য উমরা আদায় করা আমি ওয়াজিব করে নিয়েছি। যদি আমার ও বায়তুল্লাহর মধ্যে কোন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা না হয় তাহলে আমি বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করব। আর যদি আমার ও বায়তুল্লাহর মাঝে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয় তাহলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা করেছেন আমি তাই করব। এরপর তিনি কিছুক্ষণ পথ চলে বললেন, আমি হজ্জ এবং উমরার বিষয়টি একই মনে করি। আমি তোমাদেরকে সাক্ষী রেখে বলছি, আমি আমার হজ্জকেও উমরার সাথে আমার জন্য ওয়াজিব করে নিয়েছি। এরপর তিনি উভয়ের জন্য একই তাওয়াফ এবং একই সায়ী করলেন এবং হজ্জ ও উমরার ইহরাম খুলে ফেললেন।
হাদীস নং ৩৮৭৩
শুজা ইবনে ওয়ালীদ রহ………..নাফি রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, লোকজন বলে থাকে যে, ইবনে উমর রা. উমর রা.-এর পূর্বে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। অথচ ব্যাপারটি এমন নয়। তবে (মূল ঘটনা ছিল এই যে) হুদায়বিয়ার দিন উমর রা. (তাঁর পুত্র) আবদুল্লাহ রা.-কে এক আনসারী সাহাবার কাছে রাখা তাঁর ঘোড়াটি আনার জন্য পাঠিয়েছিলেন, যাতে তিনি এর উপর আরোহণ করে লড়াই করতে পারেন। এদিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বৃক্ষের কাছে (লোকদের) বায়আত গ্রহণ করছিলেন। বিষয়টি উমর রা. জানতেন না। আবদুল্লাহ রা. তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলেন। এ সময় উমর রা. যুদ্ধের পোশাক পরিধান করছিলেন।তখন আবদুল্লাহ রা. তাকে জানালেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গাছের নিচে বায়আত গ্রহণ করছেন। রাবী বলেন, তখন উমর রা. (আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা.) সাথে গেলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতে বায়আত গ্রহণ করলেন। এ ঘটনার প্রেক্ষিতেই লোকেরা এ কথা বলাবলি করছে যে, ইবনে উমর রা. উমর রা.-এর পূর্বে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। (অন্য সনদে) হিশাম ইবনে আম্মার রহ………..ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, হুদায়বিয়ার সন্ধির দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ঘিরে দাঁড়ালে উমর রা. তার পুত্র আবদুল্লাহ রা.-কে বললেন, হে আবদুল্লাহ ! দেখতো মানুষের কি হয়েছে? তাঁরা এভাবে ভিড় করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে কেন? ইবনে উমর রা. দেখতে পেলেন যে, তাঁরা বায়আত গ্রহণ করছেন। তাই তিনিও বায়আত গ্রহণ করলেন। এরপর উমর রা.-এর কাছে ফিরে গিয়ে বললেন, তিনিও রওয়ানা করে এসে বায়আত গ্রহণ করলেন।
হাদীস নং ৩৮৭৪
ইবনে নুমাইর রহ…………..আবদুল্লাহ ইবনে আবু আওফা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন উমরাতুল কাযা আদায় করেন, তখন আমরাও তাঁর সাথে ছিলাম। তিনি তাওয়াফ করলেন আমরাও তাঁর সঙ্গে তাওয়াফ করলাম। তিনি নামায আদায় করলে আমরাও তাঁর সঙ্গে নামায আদায় করলাম। তিনি সাফা-মারওয়ার মাঝে সায়ী করলেন। মক্কাবাসীদের কেউ যাতে কোন কিছুর দ্বারা তাকে আঘাত করতে না পারে সেজন্য সর্বদা আমরা তাকে আড়াল করে রাখতাম।
হাদীস নং ৩৮৭৫
হাসান ইবনে ইসহাক রহ…………..আবু হাসীন রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু ওয়াইল রহ. বলেছেন যে, সাহল ইবনে হুনাইফ রা. যখন সিফফীন যুদ্ধ থেকে প্রত্যাবর্তন করলেন তখন যুদ্ধের খবরাখবর জানার জন্য আমরা তাঁর কাছে আসলে তিনি বললেন, নিজেদের মতামতকে সন্দেহযুক্ত মনে করবে। আবু জানদাল রা.-এর ঘটনার দিন আমি আমাকে (আল্লাহর পথে) দেখতে পেয়েছিলাম। সেদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদেশ আমি উপক্ষো করতে পারলে উপেক্ষা করতাম। কিন্তু আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই সর্বাধিক জ্ঞাত। আর কোন দুঃসাধ্য কাজের জন্য আমরা যখন তরবারি হাতে নিয়েছি তখন তা আমাদের জন্য অত্যন্ত সহজবোধ্য হয়ে গিয়েছে। এ যুদ্ধের পূর্বে আমরা যত যুদ্ধ করেছি তার সবগুলোকে আমরা নিজেদের জন্য কল্যাণকর মনে করেছি। কিন্তু এ যুদ্ধের অবস্থা এই যে, আমরা একটি সমস্যা সামাল দিতে না দিতেই আরেকটি নতুন সমস্যা দেখা দেয়। কিন্তু কোন সমাধানের পথ আমাদের জানা নেই।
