মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ………….গাছের নিচে অনুষ্ঠিত বায়আতে রিদওয়ানে অংশগ্রহণকারী সাবাহী সুওয়াইদ ইবনে নুমান রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীদের জন্য ছাতু আনা হত। তাঁরা পানিতে গুলিয়ে তা খেয়ে নিতেন। মুআয রহ. শুবা রহ. থেকে ইবনে আবু আদী রহ. বর্ণিত, হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
হাদীস নং ৩৮৬৫
মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ………….গাছের নিচে অনুষ্ঠিত বায়আতে রিদওয়ানে অংশগ্রহণকারী সাবাহী সুওয়াইদ ইবনে নুমান রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীদের জন্য ছাতু আনা হত। তাঁরা পানিতে গুলিয়ে তা খেয়ে নিতেন। মুআয রহ. শুবা রহ. থেকে ইবনে আবু আদী রহ. বর্ণিত, হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
হাদীস নং ৩৮৬৬
মুহাম্মদ ইবনে হাতিম ইবনে বাযী রহ………..আবু জামরা রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, গাছের নিচে অনুষ্ঠিত বায়আতে রিদওয়ানে অংশগ্রহণকারী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবী আয়েয ইবনে আমর রা.-কে আম জিজ্ঞাসা করলাম, বিতর নামায কি দ্বিতীয়বার আদায় করা যাবে? তিনি বললেন, রাতের প্রথম একবার বিতর আদায় করে থাকলে দ্বিতীয়বার রাতের শেষে আর আদায় করবে না।
হাদীস নং ৩৮৬৭
আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ…………আসলাম রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কোন এক সফরে রাত্রিকালে চলছিলেন। এ সফরে উমর রা.-ও তাঁর সাথে চলছিলেন। এক সময় উমর ইবনে খাত্তাব রা. তাকে কোন এক বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি কোন উত্তর করলেন না। তিনি আবার জিজ্ঞাসা করলেন, তবুও তিনি তাকে কোন জবাব দিলেন না। এরপর আবার তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, এবারও তার কোন উত্তর দিলেন না। তখন উমর ইবনে খাত্তাব রা. নিজেকে লক্ষ্য করে মনে মনে বললেন, হে উমর ! তোমাকে তোমায় মা হারিয়ে ফেলুক। তুমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তিনবার পীড়াপীড়ি করলে। কিন্তু কোন বারই তিনি তোমাকে উত্তর দেননি। উমর রা. বললেন, এরপর আমি আমার উটকে তাড়া দিয়ে মুসলমানদের সামনে চলে যাই। কারণ আমি আশংকা করছিলাম যে, হয়তো আমার সম্পর্কে কুরআন শরীফের কোন আয়াত অবতীর্ণ হতে পারে। এ কথা বলে আমি বেশী দেরি করিনি এমতাবস্থায় শুনতে পেলাম এক ব্যক্তি চীৎকার করে আমাকে ডাকতে শুরু করলেন। উমর রা. বলেন, আমি বললাম, আমার সম্পর্কে হয়তো কুরআন নাযিল হয়েছে। এ মনে করে আমি ভীত হয়ে পড়লাম। এরপর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে তাকে সালাম করলাম। তখন তিনি বললেন, আজ রাতে আমার প্রতি এমন একটি সূরা নাযিল হয়েছে যা আমার কাছে সূর্য উদিত পৃথিবী থেকেও অধিক প্রিয়। তারপর তিনি “নিশ্চয়ই আমি আপনাকে সুস্পষ্ট বিজয় দান করেছি” তিলাওয়াত করলেন।
হাদীস নং ৩৮৬৮
আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ………..মিসওয়ার ইবনে মাখরামা ও মারওয়ান ইবনে হাকাম রা. থেকে বর্ণিত, তাঁরা একে অন্যের চেয়ে অধিক বর্ণনা করেছেন। তারা উভয়ে বলেন, হুদায়বিয়ার বছর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক হাজারের অধিক সাহাবী সঙ্গে নিয়ে বের হলেন। তাঁরা যুল হুলায়ফা পৌঁছে কুরবানীর পশুর গলায় কিলাদা বাঁধলেন, ইশআর করলেন। সেখান থেকে উমরার জন্য ইহরাম বাঁধলেন, এবং খুযাআ গোত্রের এক ব্যক্তিকে গোয়েন্দা হিসেবে পাঠালেন। পরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও সেদিকে রওয়ানা হলেন। যেতে যেতে গাদীরুল আশতাত নামক স্থানে পৌঁছার পর প্রেরিত গোয়েন্দা এসে তাকে বলল, কুরাইশরা বিরাট সৈন্যদল নিয়ে আপনার বিরুদ্ধে প্রস্তুত হয়ে আছে। তারা আপনার বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য বিভিন্ন গোত্র থেকে এসে আশতাত নামক স্থানে জমায়েত হয়েছে। তারা আপনার বিরুদ্ধে লড়াই করবে এবং বায়তুল্লাহর যিয়ারতে বাঁধা দিবে ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে। তখন তিনি বললেন, হে লোক সকল, তোমরা আমাকে পরামর্শ দাও এবং বল, যারা আমাদেরকে বায়তুল্লাহর যিয়ারতে বাঁধা দেয়ার ইচ্ছা করছে, আমি কি তাদের পরিবারবর্গ এবং সন্তান-সন্তুতিদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ব? তারা আমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার সংকল্প করে থাকলে আল্লাহ আমাদের সাহায্য করবেন, যিনি মুশরিকদের থেকে একজন গোয়েন্দাকে নিরাপদে ফিরিয়ে এনেছেন। আর যদি তারা আমাদের বিরুদ্ধে লড়াই না করে তাহলে আমরা তাদের পরিবার এবং অর্থ-সম্পদ থেকে বিরত থাকব এবং তাদেরকে তাদের পরিবার ও অর্থ সম্পদ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেব। তখন আবু বকর রা. বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনি তো বায়তুল্লাহর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে এখানে এসেছেন, কাউকে হত্যা করা এবং কারো সাথে লড়াই করার উদ্দেশ্যে তো এখানে আসেননি। তাই বায়তুল্লাহর দিকে অগ্রসর হোন। যে আমাদেরকে তা থেকে বাঁধা দিবে আমরা তার সাথে লড়াই করব। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, (ঠিক আছে) চলো আল্লাহর নামে।
হাদীস নং ৩৮৬৯
ইসহাক রহ…………..উরওয়া ইবনে যুবাইর রা. থেকে বর্ণিত যে, তিনি মারওয়ান ইবনে হাকাম এবং মিসওয়ার ইবনে মাখরামা রা. উভয়ের থেকে হুদায়বিয়ায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উমরা আদায় করার ঘটনা বর্ণনা করতে শুনেছেন। তাদের থেকে উরওয়া রা. আমার নিকট যা বর্ণনা করেছেনত তা হচ্ছে এই যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুহায়ল ইবনে আমরকে হুদায়বিয়ার দিন সন্ধিনামায় যা লিখিয়েছিলেন তার মধ্যে সুহায়ল ইবনে আমরের আরোপিত শর্তসমূহের মধ্যে একটি শর্ত এই : আমাদের থেকে যদি কেউ আপনার কাছে চলে আসে তবে সে আপনার দীনে বিশ্বাসী হলেও তাকে আমাদের কাছে ফেরত দিয়ে দিতে হবে এবং তার ও আমাদের মধ্যে আপনি কোন বাঁধা সৃষ্টি করতে পারবে না। এ শর্ত মেনে না নিলে সুহায়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সন্ধি করতেই অস্বীকৃতি প্রকাশ করে। এ শর্তটিকে মুমিনগণ অপছন্দ করলেন এবং এতে তারা অত্যন্ত মনক্ষুন্ন হলেন ও এর বিরুদ্ধে আপত্তি উত্থাপন করলেন। কিন্তু যখন সুহায়ল এ শর্ত ব্যতীত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে চুক্তি সম্পাদনে অস্বীকৃতি জানাল তখন এ শর্তের উপরই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সন্ধিপত্র লেখালেন। এবং আবু জানদাল ইবনে সুহায়ল রা.-কে এ মুহূর্তেই তার পিতা সুহায়ল ইবনে আমরের কাছে ফিরিয়ে দিলেন। সন্ধির মেয়াদকালে পুরুষদের মধ্যে যারাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে চলে আসতেন, মুসলমান হলেও তিনি তাদেরকে ফিরিয়ে দিতেন। এ সময় কিছুসংখ্যক মুসলিম মহিলা হিজরত করে চলে আসেন। উম্মে কুলছুম বিনতে উকবা আবু মুআইত রা. ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি হিজরতকারীনী একজন যুবতী মহিলা। তিনি হিজরত করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে পৌঁছলে তার পরিবারের লোকেরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে তাকে তাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানালো। এসময় আল্লাহ পাক মুমিন মহিলাদের সম্পর্কে যা নাযিল করার তা নাযিল করলেন। বর্ণনাকারী ইবনে শিহাব রহ………… বলেন, আমাকে উরওয়া ইবনে যুবাইর রা বলেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী আয়েশা রা. বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিন্মেক্ত আয়াতের নির্দেশ অনুযায়ী হিজরতকারিণী মুমিন মহিলাদেরকে পরীক্ষা করতেন। আয়াতটি হল এই : হে নবী ! মুমিন মহিলাগণ যখন আপনার নিকট আসে………(শেষ পর্যন্ত (৬০ : ১২) (অন্য সনদে) ইবনে শিহাব রহ. তাঁর চাচা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে এ বিবরণও পৌঁছেছে যে, যখন আল্লাহ তায়ালা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মুশরিক স্বামীর তরফ থেকে হিজরতকারী মুসলমান স্ত্রীকে দেওয়া মুহারানা মুশরিক স্বামীকে ফিরিয়ে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। আর আবু বাসীর রা.-এর ঘটনা সম্বলিত হাদীসও আমাদের নিকট পৌঁছেছে। এরপর তিনি আবু বাসীর রা.-এর ঘটনা সম্বলিত হাদীসটি বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করলেন।
