হাদীস নং ৩৮৭৬
সুলাইমান ইবনে হারব রহ…………কাব ইবনে উজরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হুদায়বিয়ার সন্ধিকালে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে আসলেন। সে সময় আমার মাথার চুল থেকে উকুন ঝরে ঝরে আমার মুখমণ্ডলে পড়ছিল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার মাথার এ উকুন তোমাকে কি কষ্ট দিচ্ছে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তখন তিনি বললেন, তুমি মাথা মুণ্ডিয়ে ফেল। আর এ জন্য তিন দিন রোযা পালন কর অথবা ছয়জন মিসকিনকে খানা খাওয়াও অথবা একটি পশু কুরবানী কর। আইয়্যূব রহ. বলেন, এ তিনটির থেকে কোনটির কথা আগে বলেছিলেন তা আমি জানি না।
হাদীস নং ৩৮৭৭
মুহাম্মদ ইবনে হিশাম আবু আবদুল্লাহ রহ………..কাব ইবনে উজরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হুদায়বিয়ায় অবস্থানকালে মুহরিম অবস্থায় আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলাম। মুশরিকরা আমাদেরকে আটকে রেখেছিল। কাব ইবনে উজরা রা. বলেন, আমার কান পর্যন্ত মাথায় বাবরী চুল ছিল। (মাথার চুল থেকে) উকুনগুলো আমার মুখমণ্ডলের উপর ঝরে ঝরে পড়ছিল। এ সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি বললেন, তোমরা মাথার এ উকুনগুলো তোমাকে কি কষ্ট দিচ্ছে ? আমি বললাম, হ্যাঁ। কাব ইবনে উজরা রা. বলেন, এরপর আয়াত নাযিল হল, তোমাদের মধ্যে যদি কেউ পীড়িত হয় কিংবা তার মাথায় ক্লেশ থাকে তবে রোযা কিংবা সাদকা অথবা কুরবানীর দ্বারা তার ফিদইয়া আদায় করবে। (২: ১৯৬)
হাদীস নং ৩৮৭৮
আবদুল আলা ইবনে হাম্মদ রহ………….কাতাদা রা. থেকে বর্ণিত যে, আনাস রা. তাদেরকে বলেছেন, উকল এবং উরায়না গোত্রের কতিপয় লোক মদীনাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে কালেমা পড়ে ইসলাম গ্রহণ করল। এরপর তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলল, হে আল্লাহর নবী ! আমরা দুগ্ধপানে অভ্যস্ত লোক, আমরা কৃষক নই। তারা মদীনার আবহাওয়া তাদের নিজেদের জন্য অনুকূল বলে মনে করল না। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে একজন রাখালসহ কতগুলো উট দিয়ে মদীনার বাইরে মাঠে চলে যেতে এবং ঐগুলোর দুধ ও পেশাব পান করার নির্দেশ দিলেন। তারা যেতে যেতে হাররা নামক স্থানে পৌঁছে ইসলাম ত্যাগ করে পুনরায় কাফের হয়ে যায়। এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রাখাল (ইয়াসার)-কে হত্যা করে উটগুলো হাঁকিয়ে নিয়ে যায়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এ সংবাদ পৌঁছলে তিনি তাদের অনুসন্ধানে তাদের পিছনে লোক পাঠিয়ে দেন। (তাদের পাকড়াও করে আনা হলে) তিনি তাদের প্রতি কঠিন দণ্ডাদেশ প্রদান করলেন। সাহাবীগণ লৌহ শলাকা দিয়ে তাদের চক্ষু উৎপাটিত করে দিলেন এবং তাদের হাত কেটে দিলেন। এরপর হাররা এলাকার এক প্রান্তে তাদেরকে ফেলে রাখা হল। অবশেষে তাদের এ অবস্থায়ই তারা মারা গেল। কাতাদা রা. বলেন, এ ঘটনার পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রায়ই লোকজনকে সাদকা প্রদান করার জন্য উৎসাহিত করতেন এবং মুসলা থেকে বিরত রাখতেন। শুবা, আবান এবং হাম্মাদ রহ. কাতাদা রা. থেকে উরায়না গোত্রের ঘটনা বর্ণনা করেছেন। ইয়াহইয়া ইবনে আবু কাসীর ও আইয়্যূব রহ. আবু কিলাবা রহ.-এর মাধ্যমে আনাস রা. থেকে বর্ণনা করেছেন যে, উকল গোত্রের কতিপয় লোক নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসেছিল।
হাদীস নং ৩৮৭৯
মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহীম রহ………….উমর ইবনে আবদুল আযীয রহ. থেকে বর্ণিত যে, একদিন তিনি লোকদের কাছে কাসমাত সম্পর্কে পরামর্শ জানতে চেয়ে বললেন, তোমরা এ কাসামা সম্পর্কে কি বল? তাঁরা বললেন, এটা সত্য এবং হক। আপনার পূর্বে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং খলীফাগণ সকলেই কাসামাতের নির্দেশ দিয়েছেন। রাবী বলেন, এ সময় আবু কিলাবা র. উমর ইবনে আবদুল্লাহ রহ.-এর পেছনে দাঁড়িয়েছিলেন। তখন আম্বাসা ইবনে সাঈদ রহ. বললেন, উরায়না গোত্র সম্পর্কে আনাস রা.-এর হাদীসটি কোথায় এবং কে জান? তখন আবু কিলাবা রহ . বলেন, হাদীসটি আমার জানা আছে। আনাস ইবনে মালিক রা. আমার কাছেই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আবদুল আযীয ইবনে সুহাইব রহ. আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আনাস ইবনে মালিক রা. উরায়না গোত্রের কিছু লোক কথা উল্লেখ করেছেন। আর আবু কিলাবা রহ. আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে উকল গোত্রের কথা উল্লেখ করে ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন।
হাদীস নং ৩৮৮০
কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ…………সালমা ইবনে আকওয়া রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (একদা) আমি ফজরের নামাযের আযানের পূর্বে (মদীনার বাইরে মাঠের দিকে) বের হলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দুগ্ববতী উটগুলোকে যি-কারাদ নামক স্থানে চরানো হতো। সালমা রা. বলেন, তখন আমার সাথে আবদুর রাহমান ইবনে আউফ রা.-এর গোলামের সাক্ষাত হল। সে বলল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দুগ্ধবতী উটগুলো লুণ্ঠিত হয়েছে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, কে ওগুলো লুণ্ঠন করেছে? সে বলল, গাতফানের লোকজন। তিনি বলেন, তখন আমি ইয়া সাবাহা বলে তিনবার উচ্চস্বরে চীৎকার দিলাম। আর মদীনার উভয় পর্বতের মধ্যবর্তী সকল অধিবাসীর কানে আমার এ চীৎকার শুনিয়ে দিলাম। তারপর দ্রুতপদে সামনের দিকে অগ্রসর হয়ে তাদের (শত্রুদের) কাছে পৌঁছে গেলাম। এ সময় তারা উটগুলোকে পানি পান করাতে আরম্ভ করেছিল। আমি ছিলাম একজন দক্ষ তীরন্দাজ, তাই তখন তাদের দিকে তীর নিক্ষেপ করছিলাম আর বলছিলাম, আমি হলাম আকওয়া-এর পুত্র, আজকের দিনটি তোদের সবচেয়ে নিকৃষ্ট। এভাবে শেষ পর্যন্ত আমি তাদের কাছ থেকে উটগুলোকে কেড়ে নিলাম এবং সে সঙ্গে তাদের ত্রিশখানা চাদরও কেড়ে নিলাম। তিনি বললেন, এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও অন্যান্য লোক সেখানে পৌঁছলে আমি বললাম, হে আল্লাহর নবী ! কাফেলাটি পিপাসার্ত ছিল, আমি তাদেরকে পানি পান করতেও দেইনি। আপনি এখনই এদের পিছু ধাওয়া করার জন্য সৈন্য প্রেরণ করুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে ইবনুল আকওয়া ! তুমি (তাদেরকে তাড়িয়ে দিতে) সক্ষম হয়েছ, এখন একটু শান্ত হও। সালমা রা. বলেন, এরপর আমরা (মদীনার দিকে) ফিরে আসলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তাঁর উটনীর পেছনে বসালেন এবং এ অবস্থায় আমরা মদীনায় প্রবেশ করলাম।
