হাদীস নং ৩৮৫৫
মূসা রহ………..মুসায়্যিব রা. থেকে বর্ণিত, বৃক্ষের নিচে যারা বায়আত গ্রহণ করেছিলেন তিনি ছিলেন তাদের মধ্যে একজন। তিনি বলেন, পরবর্তী বছর আমরা আবার সে গাছের স্থানে উপস্থিত হলে আমরা গাছটিকে চিনতে পারলাম না। গাছটি আমাদের কাছে সন্দেহপূর্ণ হয়ে গেল।
হাদীস নং ৩৮৫৬
কাবীসা রহ……….তারিক রহ. থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন, সাঈদ ইবনে মুসায়্যিব রা.-এর কাছে সে গাছটির কথা উল্লেখ করা হলে তিনি হেসে বললেন, আমার পিতা আমাকে জানিয়েছেন যে, তিনি বৃক্ষের নিচে বায়আতে অংশগ্রহণ করেছিলেন।
হাদীস নং ৩৮৫৭
আদম ইবনে আবু ইয়াস রহ………..আমর ইবনে মুররা রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বৃক্ষের নিচে বায়আতকারী সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে আবু আউফাকে বলতে শুনেছি যে, তিনি বর্ণনা করেছেন, কোন কাওম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে সাদকার অর্থ নিয়ে আসলে তিনি তাদের জন্য দোয়া করে বলতেন, ‘হে আল্লাহ আপনি তাদের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন’। এ সময় আমার পিতা তাঁর কাছে সাদকার অর্থ নিয়ে আসলে তিনি বললেন, হে আল্লাহ ! আপনি আবু আউফার বংশধরদের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন।
হাদীস নং ৩৮৫৮
ইসমাঈল রহ………….আব্বাদ ইবনে তামীম রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হাররার ঘটনার দিন যখন লোকজন আবদুল্লাহ ইবনে হানযালা রা.-এর হাতে বায়আত গ্রহণ করছিলেন, তখন ইবনে যায়েদ রা. জিজ্ঞাসা করলেন, ইবনে হানযালা রা. লোকদেরকে কিসের উপর বায়আত গ্রহণ করেছেন? তখন তাকে বলা হল, মৃত্যুর উপর বায়আত গ্রহণ করেছেন। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরে এ ব্যাপারে আমি আর কারো উপর বায়আত গ্রহণ করব না। তিনি হুদায়বিয়ার সন্ধিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে অংশগ্রহণ করেছিলেন।
হাদীস নং ৩৮৫৯
ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ালা মুহারিবী রহ………….ইয়াস ইবনে সালামা ইবনে আকওয়া রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বৃক্ষের নিচে অনুষ্ঠিত বায়আতে অংশগ্রহণকারী আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে জুমআর নামায আদায় করে যখন বাড়ি ফিরতাম তখনও প্রাচীরের নিচে ছায়া পড়ত না, যার ছায়ায় বসে আরাম করা যায়।
হাদীস নং ৩৮৬০
কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ………..ইয়াযীদ ইবনে আবু উবাইদ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি সালামা ইবনে আকওয়া রা.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, হুদায়বিয়ার দিন আপনারা কিসের উপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতে বায়আত করেছিলেন। তিনি বললেন, মৃত্যুর উপর।
হাদীস নং ৩৮৬১
আহমদ ইবনে আশকা রহ……….মুসায়্যিব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমি বারা ইবনে আযিব রা.-এর সাথে সাক্ষাত করে তাকে বললাম, আপনার জন্য সুসংবাদ, আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহচর্য লাভ করেছেন এবং বৃক্ষের নিচে তাঁর হাতে বায়আতও করেছেন। তখন তিনি বললেন, ভাতিজা তুমি তো জান না, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তিকালের পর আমরা কি করেছি।
হাদীস নং ৩৮৬২
ইসহাক রহ…………..আবু কিলাবা রহ. থেকে বর্ণিত যে, সাবিত ইবনে দাহহাক রা. তাকে জানিয়েছেন, তিনি গাছের নিচে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতে বায়আত করেছেন।
হাদীস নং ৩৮৬৩
আহমদ ইবনে ইসহাক রহ………..আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, “নিশ্চয়ই আমি আপনাকে দিয়েছি সুস্পষ্ট বিজয়”। তিনি বলেন, এ আয়াতটিতে ‘সুস্পষ্ট বিজয়’ বলে হুদায়বিয়ার সন্ধিকেই বোঝানো হয়েছে। (আয়াতটি নাযিল হওয়ার পর) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ বললেন, (আপনার জন্য তো) এটা খুশী ও আনন্দের ব্যাপার। কিন্তু আমাদের জন্য কিছু আছে কি? তখন আল্লাহ তায়ালা নাযিল করলেন, “এটা এ জন্য যে, তিনি মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীগণকে দাখিল করবেন জান্নাতে”। শুবা রহ. বলেন, এরপর আমি কুফায় পৌঁছলাম এবং কাতাদা থেকে হাদীসটির সবটুকু বর্ণনা করলাম, এরপর কুফা থেকে ফিরে সে কাতাদাকে সবকিছু জানালে তিনি বললেন, إنا فتحنا لك (এর অর্থ হুদায়বিয়ায় অনুষ্ঠিত বায়আতে রিদওয়ান) আয়াতখানা আনাস থেকে বর্ণিত। আর هنيئا مريئا কথাটি ইকরামা রা. থেকে বর্ণিত।
হাদীস নং ৩৮৬৪
আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ………..মাজযা ইবনে যাহির আসলামী রহ.-এর পিতা “যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতে হুদায়বিয়ার গাছের নিচে বায়আত গ্রহণ করেছিলেন” তাঁর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমি ডেকচিতে করে গাধার গোশত পাকাতে ছিলাম, এমন সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে তাঁর মুনাদী (ঘোষক আবু তালহা) ঘোষণা দিয়ে বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদেরকে গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন। (অন্য এক সনদে) মাজযা রহ……… অপর এক ব্যক্তি থেকে অর্থাৎ বৃক্ষের নিচে অনুষ্ঠিত বায়আতে রিদওয়ানে অংশগ্রহণকারী সাহাবী উহবান ইবনে আউস রা. থেকে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তাঁর (উহবান ইবনে আউস রা.) এর হাঁটুতে আঘাত লেগেছিল। তাই তিনি নামায আদায় করার সময় হাঁটুর নিচে বালিশ রাখতেন।
হাদীস নং ৩৮৬৫
