আসিম ইবনে আলী রহ……..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, হে মুসলিম মহিলাগণ ! কোন মহিলা প্রতিবেশীনী যেন অপর মহিলা প্রতিবেশীনী (প্রদত্ত হাদীয়া) তুচ্ছ মনে না করে, এমন কি তা স্বপ্ল গোশত বিশিষ্ট বকরীর হাড় হলেও।
হাদীস নং ২৩৯৭
আবদুল আযীয ইবনে আবদুল্লাহ উওয়াসী রহ……….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি একবার উরওয়া রা.-কে লক্ষ্য করে বললেন, বোনপো। আমরা (মাসের) নতুন চাঁদ দেখতাম, আবার নতুন চাঁদ দেখতাম। এভাবে দু’মাসে তিনটি নতুন চাঁদ দেখতাম। কিন্তু নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোন ঘরেই আগুন জ্বালানো হতো না। (উরওয়া রহ. বলেন) আমি জিজ্ঞাসা করলাম, খালা। আপনারা তাহলে বেচে থাকতেন কিভাবে? তিনি বললেন, দুটি কালো জিনিস অর্থাৎ খেজুর আর পানিই শুধু আমাদের বাঁচিয়ে রাখত। অবশ্য কয়েক ঘর আনসার পরিবার নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতিবেশী ছিল। তাদের কিছু দুধালো উটনী ও বকরী ছিল। তাঁরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য দুধ হাদিয়া পাঠাত। তিনি আমাদের তা পান করতে দিতেন।
হাদীস নং ২৩৯৮
মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যদি আমকে হালাল পশুর পায়া বা হাতা খেতে আহবান করা হয়, তবু তা আমি গ্রহণ করব আর যদি আমকে পায়া বা হাতা হাদিয়া দেওয়া হয়, তবে আমি তা গ্রহণ করব।
হাদীস নং ২৩৯৯
ইবনে আবু মারয়াম রহ………..সাহল রা. থেকে বর্ণিত যে, এক মুহাজির মহিলার কাছে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোক পাঠালেন। তাঁর এক গোলাম ছিল কাঠমিস্ত্রী। তিনি তাকে বললেন, তুমি তোমার গোলামকে বল, সে যেন আমদের জন্য একটা কাঠের মিম্বর বানিয়ে দেয়। তিনি তার গোলামকে নির্দেশ দিলেন। সে গিয়ে এক প্রকার গাছ কেটে এনে মিম্বর তৈরী করল। কাজ শেষ হলে তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে লোক পাঠায়ে জানালেন যে, গোলাম তার কাজ শেষ করেছে। তিনি বললেন, সেটা আমার কাছে পাঠিয়ে দাও। তখন লোকেরা সেটা নিয়ে এল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেটা বহন করে সেখানে স্থাপন করলেন, যেখানে তোমরা (এখন) দেখতে পাচ্ছ।
হাদীস নং ২৪০০
আবদুল আযীয ইবনে আবদুল্লাহ রহ…….আবু কাতাদা সালামী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন আমি মক্কার পথে কোন এক মনযিলে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কয়েকজন সাহাবীর সংগে বসা ছিলাম। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের অগ্রবর্তী কোন যমীনে অবস্থান করেছিলেন। সবাই ইহরাম অবস্থায় ছিলেন। আমি শুধু ইহরাম ছাড়া ছিলাম। তাঁরা একটি বন্য গাধা দেখতে পেলেন। আমি তখন আমার জুতা মেরামত করছিলাম। তাঁরা আমাকে সে সম্পর্কে অবহিত করেননি। অথচ সেটি আমার নযরে পড়ুক তাঁরা তা চাচ্ছিলেন। আমি হঠাৎ সেদিকে তাকালাম, সেটা আমার নযরে পড়ল। তখন আমি উঠে ঘোড়ার দিকে এগিয়ে গেলাম এবং জীন লাগিয়ে তাতে সাওয়ার হলাম। কিন্তু চাবুক ও বর্শা নিতে ভুলে গেলাম। তখন তাদের বললাম, চাবুক আর বর্শাটা আমাকে তুলে দাও। কিন্তু তাঁরা বললেন, আল্লাহর কসম । গাধা শিকার করার ব্যাপারে আমরা তোমাকে কোন সাহায্যই করব না। আমি তখন রাগ করে নেমে এলাম এবং সে দুটি তুলে নিয়ে সাওয়ার হলাম। আর গাধাটা আক্রমণ করে যখম করলাম। এতে সেটি মারা গেল। এরপর সেটাকে নিয়ে আসলাম। (পাকানোর পর) তারা সেই গাধার গোশত খেতে লাগলেন। পরে তাদের মনে ইহরাম অবস্থায় তা খাওয়া নিয়ে সন্দেহ দেখা দিল। কিছু সময় পর আমরা যাত্রা শুরু করলাম। এক ফাকে আমি আমার কাছে গাধার একটি হাতা লুকিয়ে রেখেছিলাম। (পথে) আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাক্ষাত পেয়ে সেই গোশত সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, তোমাদের সাথে সেটার গোশতের কিছু আছ কি? আমি বললাম, হ্যা, আছে। এরপর হাতাখানা তাকে দিলে তিনি ইহরাম অবস্থায় তার সবটুকু খেলেন। এ হাদীসটি যায়েদ ইবনে আসলাম রা.। আতা ইবনে ইয়াসার রহ.-এর মাধ্যমে আবু কাতাদা রা. থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন।
হাদীস নং ২৪০১
খালিদ ইবনে মাখলাদ রহ……..আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের এই ঘরে আগমন করেন এবং কিছু পান করতে চাইলেন। আমরা আমাদের একটা বকরীর দুধ দোহন করে তাতে আমাদের এই কুয়ার পানি মিশালাম। তারপর তা সম্মুখে পেশ করলাম। এ সময় আবু বকর রা. ছিলেন তাঁর বামে, উমর রা. ছিলেন তাঁর সম্মুখে, আর এক বেদুঈন ছিলেন তাঁর ডানে। তিনি যখন পান শেষ করলেন, তখন উমর রা. বললেন, ইনি আবু বকর রা. (তাকে দিন) কিন্তু নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেদুঈনকে তার অবশিষ্ট পানি দান করলেন। এরপর বললেন, ডান দিকের লোকদেরই (অগ্রাধিকার) ডান দিকের লোকদের (অগ্রাধিকার) শোন ! ডান দিক থেকেই শুরু করবে। আনাস রা. বলেন, এই সুন্নাত। এই সুন্নাত, তিনবার বললেন।
হাদীস নং ২৪০২
সুলাইমান ইবনে হারব রহ………..আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (মক্কার অদূরে) মাররায যাহারান নামক স্থানে আমরা একটি খরগোশ তাড়া করলাম। লোকেরা সেটার পিছনে ধাওয়া করে ক্লান্ত হয়ে পড়ল। অবশেষে আমি সেটাকে নাগালে পেয়ে ধরে আবু তালহা রা.-এর কাছে নিয়ে গেলাম। তিনি সেটাকে যবেহ করে তার পাছা অথবা রাবী বলেন, দু’উরু নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমতে পাঠালেন। শুবা রহ. বলেন দুটি উরুই পাঠিয়ে ছিলেন, এ শব্দের বর্ণনায় কোন সন্দেহ নেই । তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা গ্রহণ করেছিলেন। রাবী বলেন, আমি শুবা রহ.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি কি তা খেয়েছিলেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, খেয়েছিলেন। কিছুক্ষণ পর তিনি বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা গ্রহণ করেছিলেন।
