হাদীস নং ২৩৭৮
আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ……..ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, গোলাম যদি তার মনিবের হিতাকাঙ্ক্ষী হয় এবং তার প্রতিপালকের উত্তম ইবাদত করে, তাহলে তার সাওয়াব হবে দ্বিগুণ।
হাদীস নং ২৩৭৯
মুহাম্মদ ইবনে কাছীর রহ……….আবু মূসা আশআরী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, লোক তার দ্বিগুণ সাওয়াব লাভ করবে। আর যে গোলাম আল্লাহর হক আদায় করে এবং মনিবের হকও আদায় করে, সেও দ্বিগুণ সাওয়াব লাভ করবে।
হাদীস নং ২৩৮০
বিশর ইবনে মুহাম্মদ রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সৎ ক্রীতদাসের সাওয়াব হবে দ্বিগুণ। আবু হুরায়রা রা. বলেন, যার হাতে আমার প্রাণ, তাঁর শপথ করে বলছি, আল্লাহর পথে জিহাদ, হজ্জ এবং আমার মায়ের সেবার মত উত্তম কাজ যদি না থাকত তাহলে ক্রীতদাস রূপে মৃত্যুবরণ করাই আমি পছন্দ করতাম।
হাদীস নং ২৩৮১
ইসহাক ইবনে নাসর রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কত ভাগ্যবান সে, যে উত্তমরূপে আপন প্রতিপালকের ইবাদত করে এবং নিজ মনিবের হিতাকাঙ্ক্ষী হয়।
হাদীস নং ২৩৮২
মুসাদ্দাদ রহ………আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, গোলাম যদি আপন মনিবের হিতাকাঙ্ক্ষী হয় এবং আপন প্রতিপালকের উত্তম ইবাদত করে তাহলে তার সাওয়াব হবে দ্বিগুণ।
হাদীস নং ২৩৮৩
মুহাম্মদ ইবনে আলা রহ……….আবু মূসা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে গোলাম আপন প্রতিপালকের উত্তম রূপে ইবাদত করে এবং আপন মনিবের যে হক আছে তা আদায় করে, তার কল্যাণ কামনা করে আর তার আনুগত্য করে, সে দ্বিগুণ সাওয়াব লাভ করবে।
হাদীস নং ২৩৮৪
মুহাম্মদ রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন এমন কথা না বলে তোমার প্রভুকে আহার করাও তোমার প্রভুকে উযূ করাও, তোমার প্রভুকে পান করাও আর যেন (গোলাম বাদীরা) এরূপ বলে, আমার মনিব আমার অভিভাবক তোমাদের কেউ যেন এরূপ না বলে আমার দাস, আমার দাসী। বরং বলবে আমার বালক আমার বালিকা। আমার খাদিম।
হাদীস নং ২৩৮৫
আবু নুমান রহ………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কেউ যেন (শরীকী) গোলাম থেকে নিজের অংশ আযাদ করে দিলে এবং তার কাছে সেই গোলামের মূল্য পরিমাণ সম্পদ থাকলে তার ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ করা হবে এবং তার সম্পদ থেকেই সেই গোলাম সম্পূর্ণ আযাদ হয়ে যাবে, অন্যথায় সে যতটুকু আযাদ করেছে ততটুকুই আযাদ হবে।
হাদীস নং ২৩৮৬
মুসাদ্দাদ রহ………আবদুল্লাহ (ইবনে মাসউদ রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল। কাজেই প্রত্যেকেই নিজ অধীনস্থদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। যেমন- জনগণের শাসক তাদের দায়িত্বশীল, কাজেই সে তাদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। একজন পুরুষ তার পরিবার পরিজনদের দায়িত্বশীল, কাজেই সে তাদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে।অ স্ত্রী স্বামীর ঘরের এবং তার সন্তানের দায়িত্বশীল, কাজেই সে তাদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। আর গোলাম আপন মনিবের সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণকারী। কাজেই সে বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। শোন ! তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল। কাজেই প্রত্যেকেই আপন অধীনস্থদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে।
হাদীস নং ২৩৮৭
মালিক ইবনে ইসমাঈল রহ……….আবু হুরায়রা রা. ও যায়েদ ইবনে খালিদ রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : বাদী যিনায় লিপ্ত হলে তাকে চাবুক লাগাবে। আবার যিনা করলে আবারও চাবুক লাগবে। তৃতীয়বার বা চতুর্থবার বলেছেন, একগাছি রশির বিনিময়ে হলেও তাকে বিক্রি করে ফেলবে।
হাদীস নং ২৩৮৮
হাজ্জাজ ইবনে মিনহাল রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : তোমাদের কারো খাদিম খাবার নিয়ে হাযির হলে তাকেও নিজের সাথে বসানো উচিত। তাকে সাথে না বসালে দু’ এক লোকমা কিংবা দু’ এক গ্রাস তাকে দেওয়া উচিত। কেননা সে এর জন্য পরিশ্রম করেছে।
হাদীস নং ২৩৮৯
আবুল ইয়ামান রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেকেই নিজ অধীনস্থদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। ইমাম (শাসক) একজন দায়িত্বশীল, কাজেই সে আপন অধীনস্থদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। একজন পুরুষ তার পরিবার পরিজনদের দায়িত্বশীল, কাজেই সে আপন অধীনস্থদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। স্ত্রী তার স্বামীর ঘরের দায়িত্বশীল, কাজেই সে আপন অধীনস্থদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। আর গোলাম আপন মনিবের সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণকারী। কাজেই সে বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। (আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা.) বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এদের সম্পর্কে (নিশ্চিতভাবেই) শুনেছি। তবে আমার ধারণা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন, আর সন্তান তার পিতার সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণকারী। কাজেই তার দায়িত্বাধীন বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। মোটকথা তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল। কাজেই প্রত্যেকেই আপন অধীনস্থদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে।
