হাদীস নং ২৩০৭
ইবনে সালাম রহ………..আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মাস তাঁর সহধর্মিণীদের কাছে যাবেন না বলে কসম করেন। এ সময় তাঁর পা মচকে গিয়েছিল। তাই তিনি একটি চিলেকোঠায় অবস্থান করেন। একদিন উমর রা. এসে বললেন, আপনি কি আপনার সহধর্মিণীদের তালাক দিয়েছেন ? তিনি বললেন : না তবে আমি একমাস তাদের কাছে যাব না; বলে কসম করেছি। তিন ঊনত্রিশ দিন সেখানে অবস্থান করেন এরপর তিনি অবতরণ করলেন এবং নিজের সহধর্মিণীদের কাছে আসেন।
হাদীস নং ২৩০৮
মুসলিম রহ……….জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে প্রবেশ করলেন। আমি উটটাকে মসজিদের আঙিনার পাশে বেঁধে রেখে তাঁর কাছে গেলাম এবং বললাম, এটা আপনার উট। তিনি বেরিয়ে এলেন এবং উটের পাশে ঘুরাফেরা করতে লাগলেন। তারপর বললেন, উট ও তার মূল্য দুটোই তোমার ।
হাদীস নং ২৩০৯
সুলাইমান ইবনে হারব রহ………হুযায়ফা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছি। (রাবী বলেন) অথবা তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এলেন লোকদের ময়লা-আবর্জনা ফেলার স্থানে এরপর তিনি দাঁড়িয়ে পেশাব করলেন (বিশেষ কারণে)।
হাদীস নং ২৩১০
আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : এক ব্যক্তি রাস্তা দিয়ে চলার সময় কাঁটাদার গাছের একটি ডাল রাস্তায় পেল, তখন সেটাকে রাস্তা থেকে অপসারণ করল, আল্লাহ তার এ কাজকে কবুল করলেন এবং তাকে মাফ করে দিলেন।
হাদীস নং ২৩১১
মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন মালিকেরা রাস্তার ব্যাপারে পরস্পরে বিবাদ করল, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাস্তার জন্য সাত হাত জমি ছেড়ে দেওয়ার ফয়সালা দেন।
হাদীস নং ২৩১২
আদম ইবনে আবু ইয়াস রহ………আদী ইবনে সাবিত রা. -এর নানা ইবনে ইয়াযীদ আনসারী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লুটতারাজ করতে এবং জীবকে বিকলাঙ্গ করতে নিষেধ করেছেন।
হাদীস নং ২৩১৩
সাঈদ ইবনে উফায়র রহ……..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : কোন ব্যভিচারী মুমিন অবস্থায় ব্যভিচার করে না এবং কোন মদ্যপায়ী মুমিন অবস্থায় মদ পান করে না। কোন চোর মুমিন অবস্থায় চুরি করে না। কোন লুটতরাজকারী মুমিন অবস্থায় এরূপ লুটতরাজ করে না যে, যখন সে লুটতরাজ করে তখন তার প্রতি লোকজন চোখ তুলে তাকিয়ে থাকে। সাঈদ ও আবু সালামা রা. আবু হুরায়রা রা. সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণিত, তবে তাঁতে লুটতরাজের উল্লেখ নেই। ফিরাবরী রহ. বলেন, আমি আবু জাফর রহ. -এর লেখা পাণ্ডুলিপিতে পেয়েছি যে, আবু আবদুল্লাহ রহ. বলেন, এ হাদীসের ব্যাখ্যায় ইবনে আব্বাস রা. বলেছেন, এর অর্থ হল, তার থেকে ঈমানের নূর ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
হাদীস নং ২৩১৪
আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ………আবু হুরায়রা রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন : ইবনে মারয়াম (ঈসা আ.) তোমাদের মাঝে ন্যায়বিচারক হয়ে অবতরণ না করা পর্যন্ত কিয়ামত হবে না। তিনি এসে ক্রুশ ভেঙ্গে ফেলবেন, শূকর হত্যা করবেন এবং জিযয়া কর তুলে দিবেন। তখন ধন-সম্পদের এত প্রাচুর্য হবে যে, তা গ্রহণ করার মত কেউ থাকবে না।
হাদীস নং ২৩১৫
আবু আসিম যাহহাক ইবনে মাখলাদ রহ…….সালামা ইবনে আকওয়া রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বার যুদ্ধে আগুন প্রজ্বলিত দেখে জিজ্ঞাসা করলেন, এ আগুন কেন জ্বালানো হচ্ছে ? সাহাবীগণ বললেন, গৃহপালিত গাধার গোশত রান্না করার জন্য। তিনি বললেন : পাত্রটি ভেঙ্গে দাও এবং গোশত ফেলে দাও। তাঁরা বললেন, আমরা গোশত ফেলে দিয়ে পাত্রটা ধুয়ে নিব কি ? তিনি বললেন : ধুয়ে নাও। আবু আবদুল্লাহ রহ. বলেন, ইবনে আবু উয়াইস বললেন যে, الإنسية শব্দটি আলিফ ও নুনে যবর হবে।
হাদীস নং ২৩১৬
আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ………আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত ,তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন (বিজয়ের বেশে) মক্কায় প্রবেশ করেন, তখন কা’বা শরীফের চারপাশে তিনশত ষাটটি মূর্তি ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের হাতের লাঠি দিয়ে মূর্তিগুলোকে আঘাত করতে থাকেন আর বলতে থাকেন : সত্য এসেছে এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে, (আয়াতের শেষ পর্যন্ত(১৭ : ৮১)।
হাদীস নং ২৩১৭
ইবরহামী ইবনে মুনযির রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত যে, তিনি তার (কামরার) তাকের সম্মুখে একটি পর্দা ঝুলিয়ে দিলেন, যাতে ছিল প্রাণীর ছবি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা ছিড়ে ফেললেন। এরপর আয়িশা রা. তা দিয়ে দু’খানা গদি তৈরী করেন। এই গদি দু’খানা ঘরেই ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উপর বসতেন।
হাদীস নং ২৩১৮
