হাদীস নং ২২৫৪
মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যাপারে এক ব্যক্তিকে ধোঁকা দেওয়া হত। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি যখন বেচা-কেনা কর তখন বলে দেবে যে, ধোঁকা দিবে না। এরপর সে এ কথাই বলত।
হাদীস নং ২২৫৫
আসিম রহ………জাবির রা. থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি তার গোলাম আযাদ করে দিয়েছিল। তার কাছে এ ছাড়া অন্য কিছু ছিল না। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার গোলাম আযাদ করে দেয়া রদ করে দিলেন।পরে সে গোলামটি তার থেকে নুআইম নাহহাম ক্রয় করে নিলেন।
হাদীস নং ২২৫৬
মুহাম্মদ রহ………..আবদুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : কোন ব্যক্তি যদি কোন মুসলিমের অর্থ সম্পদ আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা শপথ করে, তাহলে সে আল্লাহর সমীপে এমন অবস্থায় হাযির হবে যে, আল্লাহ তার উপর রাগান্বিত থাকবেন। আশআস রা. বলেন, আল্লাহর কসম ! এটা আমার সম্পর্কেই ছিল, আমার ও এক ইয়াহুদী ব্যক্তির সাথে যৌথ মালিকানায় এ খণ্ড জমি ছিল। সে আমার মালিকানার অংশ অস্বীকার করে বসল। আমি তাকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে নিয়ে গেলাম। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন : তোমার কোন সাক্ষী আছে কি ? আমি বললাম, না। তখন তিনি (নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইয়াহুদীকে বললেন, তুমি কসম কর। আমি তখন বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! সে তো কসম করবে এবং আমার সম্পত্তি নিয়ে নেবে। তখন আল্লাহ তা’আলা (এ আয়াত) নাযিল করেন : “যারা আল্লাহর সঙ্গে কৃত প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রি করে……….আয়াতের শেষ পর্যন্ত (ত :৭৭)।
হাদীস নং ২২৫৭
আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ………কাব ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি মসজিদের মধ্যে ইবনে আবু হাদরাদের কাছে তার প্রাপ্য কর্জের তাগাদা করেন। তাদের আওয়াজ বুলন্দ হয়ে গিয়েছিল, এমন কি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ঘর থেকে তা শুনতে পেলেন। তিনি (নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হুজরার পর্দা তুলে বাইরে এলেন এবং হে কাব ! বলে ডাকলেন। কাব রা. বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি হাযির । তিনি ইশারায় তাকে কর্জের অর্ধেক মাফ করে দিতে বললেন। কাব রা. বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমি মাফ করে দিলাম, তিনি (নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইবনে আবু হাদরাদকে বললেন, উঠ, কর্জ পরিশোধ করে দাও।
হাদীস নং ২২৫৮
আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………….উমর ইবনে খাত্তাব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হিশাম ইবনে হাকীম ইবনে হিযামকে সূরা ফুরকান আমি যেভাবে পড়ি তা থেকে ভিন্ন পড়তে শুনলাম। আর যেভাবে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এ সূরা পড়িয়েছেন। আমি তাড়াতাড়ি তাকে বাঁধা দিতে চাচ্ছিলাম। কিন্তু তার সালাত শেষ করা পর্যন্ত অপেক্ষা করলাম। এরপর তার গলায় চাদর পেঁচিয়ে তাকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে নিয়ে এলাম এবং বললাম, আপনি আমাকে যা পড়তে শিখিয়েছেন, আমি তাকে তা থেকে ভিন্ন পড়তে শুনেছি। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ছেড়ে দিতে আমাকে বললেন। তারপর তাকে পড়তে বললেন, সে পড়ল। তিনি (নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এরূপই নাযিল হয়েছে। কুরআন সাত হরফে নাযিল হয়েছে। তাই যেরূপ সহজ হয় তোমরা সেরূপেই তা পড়।
হাদীস নং ২২৫৯
মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : আমি ইচ্ছা করেছিলাম যে, সালাত আদায় করার আদেশ করব। সালাত দাঁড়িয়ে গেলে পরে যে সম্প্রদায় সালাতে উপস্থিত হয় না, আমি তাদের বাড়ি গিয়ে তা জ্বালিয়ে দেই।
হাদীস নং ২২৬০
আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, আবদ ইবনে যামআ ও সাদ ইবনে আবু ওয়াক্কাস রা. যামআর দাসীর পুত্র সংক্রান্ত বিবাদ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে পেশ করলেন। সাদ বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমার ভাই আমাকে ওসীয়াত করে গেছেন যে, আমি (মক্কায়) পৌঁছলে যেন যামআর দাসীর পুত্রের প্রতি লক্ষ্য রাখি। দেখতে পেলে যেন তাকে হস্তগত করে নেই। কেননা সে তার পুত্র । আবদ ইবনে যামআ রা. বললেন, সে আমার ভাই এবং আমার পিতার দাসীর পুত্র। আমার পিতার ঔরসে তার জন্ম। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উতবার সাথে তার চেহারা-সুরতের স্পষ্ট মিল দেখতে পেলেন, তখন তিনি (নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন : তুমিই তার হকদার। হে আবদ ইবনে যামআ ! সন্তান যার ঔরসে জন্মগ্রহণ করে তারই হয়। হে সাওদা, তুমি তার থেকে পর্দা কর।
হাদীস নং ২২৬১
কুতাইবা রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাজদের দিকে এক অশ্বারোহী সেনাদল পাঠালেন। তারা ইয়ামামাবাসীদের সরদার বনূ হানীফা গোত্রের সুমামা ইবনে উসাল নামের একজন লোককে গ্রেফতার করে এনে মসজিদের একটি খুটির সাথে বেঁধে রাখলেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে কাছে এসে জিজ্ঞাসা করলেন, সুমামা তোমার কি খবর ? সে বলল, হে মুহাম্মদ ! আমার কাছে ভাল খবর আছে। সে (বর্ণনাকারী) সম্পূর্ণ হাদীস বর্ণনা করল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: সুমামাকে ছেড়ে দাও।
