হাদীস নং ১০৯৪
বায়ান ইবনে আমর রহ……আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন নফল সালাতকে ফজরের সুন্নাতের ন্যায় অধিক হিফাযত ও গুরুত্ব প্রদানকারী ছিলেন না।
হাদীস নং ১০৯৫
আবদুল্লাহ ইবেন ইউসুফ রহ……….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে তের রাকাআত সালাত আদায় করতেন, এরপর সকালে (ফজরের) আযান শোনার পর সংক্ষিপ্ত (কিরাআতে) দু’রাকআত সালাত আদায় করতেন।
হাদীস নং ১০৯৬
মুহাম্মদ ইবনে বাশশার ও আহমদ ইবনে ইউনুস রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের (ফরয) সালাতের আগের দু’রাকাআত (সুন্নাত) এত সংক্ষিপ্ত করতেন এমনকি আমি (মনে মনে) বলতাম, তিনি কি (শুধু) উম্মুল কিতাব (সুরা ফাতিহা) তিলাওয়াত করলেন ?
হাদীস নং ১০৯৭
কুতাইবা রহ………..জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সব কাজে ইস্তিখারাহ শিক্ষা দিতেন। যেমন পবিত্র কুরআনের সূরা আমাদের শিখাতেন। তিনি বলেছেন : তোমাদের কেউ কোন কাজের ইচ্ছা করলে সে যেন ফরয নয় এমন দু’রাকাআত (নফল) সালাত আদায় করার পর এ দুআ পড়ে : “ ইয়া আল্লাহ ! আমি আপনার ইলমের ওয়াসীলায় আপনার কাছে (উদ্দীষ্ট বিষয়ের) কল্যাণ চাই এবং আপনার কুদরতের ওয়াসীলায় আপনার কাছে শক্তি চাই এর আপনার কাছে চাই আপনার মহান অনুগ্রহ। কেননা, আপনিই (সব কিছুতে) ক্ষমতা রাখেন, আমি কোন ক্ষমতা রাখি না; আপনিই (সব বিষয়ে) অবগত আর আমি অবগত নই; আপনিই গায়েব সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত। ইয়া আল্লাহ ! আমার দীন, আমার জীবন-জীবিকা ও আমার কাজের পরিণাম বিচারে, অথবা বলেছেন, আমার কাজের আশু ও শেষ পরিণতি হিসাবে যদি এ কাজটি আমার জন্য কল্যাণকর বলে জানেন তাহলে আমার জন্য তার ব্যবস্থা করে দিন। আর তা আমার দীন, আমার জীবন-জীবিকা ও আমার কাজের পরিণাম অথবা বলেছেন, আমার কাজের আশু ও শেষ পরিণতি হিসাবে আমার জন্য ক্ষতি হয় বলে জানেন; তাহলে আপনি তা আমার থেকে সরিয়ে নিন এবং আমাকে তা থেকে ফিরিয়ে রাখুন আর আমার জন্য কল্যাণ নির্ধারিত রাখুন ; তা যেখানেই হোক। এরপর সে বিষয়ে আমাকে রাযী থাকার তৌফিক দিন। তিনি ইরশাদ করেন هذا الأمر এখানে তার প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করবে।
হাদীস নং ১০৯৮
মাক্কী ইবনে ইবরাহীম রহ………আবু কাতাদা ইবনে রিবআ আনসারী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন : তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করলে দু’রাকাআত সালাত (তাহিয়্যাতুল মসজিদ) আদায় করার আগে বসবে না।
হাদীস নং ১০৯৯
আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে দু’রাকআত সালাত আদায় করলেন, তারপর চলে গেলেন।
হাদীস নং ১১০০
ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে যুহরের আগে দু’রাকাআত, যুহরের পরে দু’রাকাআত, জুমুআর পরে দু’রাকাআত, মাগরিবের পরে দু’রাকাআত এবং ইশার পরে দু’রাকাআত (সুন্নাত) সালাত আদায় করেছি।
হাদীস নং ১১০১
আদম রহ………জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর খুতবা প্রদান কালে ইরশাদ করলেন : তোমরা কেউ এমন সময় মসজিদে উপস্থিত হলে, যখন ইমাম (জুমুআর) খুতবা দিচ্ছেন, কিংবা মিম্বরে আরোহণের জন্য (হুজরা থেকে) বেরিয়ে পড়েছেন, তাহলে সে তখন দু’রাকাআত সালাত আদায় করে নেয়।
হাদীস নং ১১০২
আবু নুআইম রহ……..মুজাহিদ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি ইবনে উমর রা. এর বাড়িতে এসে তাকে খবর দিল, এই মাত্র নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাবা শরীফে প্রবেশ করলেন। ইবনে উমর রা. বলেন, আমি অগ্রসর হলাম। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাবা ঘর থেকে বের হয়ে পড়েছেন। বিলাল রা. দরওয়াজার কাছে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। আমি বললাম, হে বিলাল ! নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাবা শরীফের ভিতরে সালাত আদায় করেছেন কি ? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, কোন স্থানে ? তিনি বললেন, দুস্তম্ভের মাঝখানে। এরপর তিনি বেরিয়ে এসে কাবার সামনে দু’রাকাআত সালাত আদায় করলেন। ইমাম বুখারী রহ. বলেন, আবু হুরায়রা রা. বলেছেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দু’রাকাআত সালাতুয যুহা (চাশতের সালাত) এর আদেশ করেছেন। ইতবান (ইবনে মালিক আনসারী) রা. বলেন, একদিন বেশ বেলা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বকর এবং উমর রা. আমার এখানে আগমন করলেন। আমরা তাঁর পিছনে কাতারবন্দী হয়ে দাঁড়ালাম আর তিনি (আমাদের নিয়ে) দু’রাকআত সালাত (চাশত) আদায় করলেন।
হাদীস নং ১১০৩
মুসাদ্দাদ রহ…………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর অনুসরণে আমি যুহরের আগে দু’রাকাআত, যুহরের পর দু’রাকাআত, মাগরিবের পর দু’রাকাআত, ইশার পর দু’রাকাআত এবং জুমুআর পর দু’রাকাআত সালাত আদায় করেছি। তবে মাগরিব ও ইশার পরের সালাত তিনি তাঁর ঘরে আদায় করতেন। ইবনে উমর রা. আরও বলেন, আমার বোন (উম্মুল মু’মিনীন) হাফসা রা. আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজর হওয়ার পর সংক্ষিপ্ত দু’রাকাআত সালাত আদায় করতেন। (ইবনে উমর রা. বলেন) এটি ছিল এমন একটি সময়, যখন আমরা কেউ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমতে হাজির হতাম না। (তাই সে সময়ের আমল সম্পর্কে উম্মহাতুল মু’মিনীন অধিক জানতেন)। কাসীর ইবনে ফরকাদ ও আইয়্যূব রহ. নাফি রহ. থেকে হাদীস বর্ণনায় উবাইদুল্লাহ রহ.-এর অনুসরণ করেছেন। ইবনে আবুয যিনাদ রহ. বলেছেন, মূসা ইবনে উকবা রহ. নাফি রহ. থেকে ইশার পরে তাঁর পরিজনের মধ্যে কথাটি বর্ণনা করেছেন।
