হাদিস ৩৫৫
মুসাদ্দাদ (র)……সাহল (রা) থেকে বর্ণিত যে, লোকেরা বাচাদের মত নিজেদের তহবন্দ কাঁধে বেঁধে নবী (সঃ) –এর সাথে সালাত আদায় করতেন। আর মহিলাদের প্রতি নির্দেশ ছিল যে, তাঁরা যেন পুরুষদের ঠিকমত বসে যাওয়ার পূর্বে সিজদা থেকে মাথা না উঠায়।
হাদিস ৩৫৬
ইয়াহইয়া (র)……মুগীর ইবন শু’বা থেকে বরনিত,তিনি বলেনঃ আমি কোন এক সফরে নবী (সঃ) –এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি বললেনঃ হে মুগীরা! লোটাটি লও। আমি তা নিলাম। তিনি আমার দৃষ্টির বাইরে গিয়ে প্রয়োজন সমাধা করলেন। তখন তাঁর দেহে ছিল শামী জুব্বা। তিনি জুব্বার আস্তিন থেকে হাত বের করতে চাইলেন। কিন্তু আস্তিন সংকীর্ণ হওয়ায় তিনি নিচের দিক দিয়ে হাত বের করলেন। আমি পানী ঢেলে দিলাম এবং তিনি সালাতের উযূর ন্যায় উযূ করলেন। আর তাঁর উভয় মোজার উপর মাসেহ করলেন ও পরে সালাত আদায় করলেন।
হাদিস ৩৫৭
মাতার ইবন ফযল (র) জাবির ইবন ‘আবদুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সঃ) (নবুওয়াতের পূর্বে) কুরাইশদের সাথে কা’বার (মেরামতের) জন্য পাথর তুলে দিচ্ছিলেন। তাঁর পরনে ছিল লুঙ্গী। তাঁর চাচা ‘আব্বাস (রা) তাঁকে বললেন; ভাতিজা! তুমি লুঙ্গী খুলে কাঁধে পাথরের নীচে রাখলে ভাল হ’ত। জাবির (রা) বলেনঃ তিনি লুঙ্গী খুলে কাঁধে রাখলেন এবং তৎক্ষণাৎ বেহুশ হয়ে পরলেন। এরপর তাঁকে আর কখনও বিবস্ত্র অবস্থাই দেখা যায়নি।
হাদিস ৩৫৮
সুলায়মান ইবন হারব (র)……আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সঃ) –এর কাছে দাড়িয়ে এক কাপড়ে সালাত আদায়ের হুকুম জিজ্ঞাসা করল। তিনি বল্ললেনঃ তোমাদের প্রত্যেকের কাছে কি দু’খানা করে কাপড় আছে? এরপর এক ব্যক্তি ‘উমর (রা) –কে জিজ্ঞাসা করল। তিনি বললেনঃ আল্লাহ যখন তোমাদের সামর্থ্য তখন তোমরাও নিজেদের সামর্থ্য প্রকাশ কর। লোকেরা যেন পুর পোশাক একত্রে পরিধান করে অর্থাৎ মানুষ তহবন্দ ও চাদর, তহবন্দ ও জামা, তহবন্দ ও কাবা, পায়জামা ও চাদর, পায়জামা ও জামা, পায়জামা ও কাবা, জাঙ্গিয়া ও কাবা, জাঙ্গিয়া ও জামা পরে সালাত আদায় করে। আবূ হুরায়রা (রা) বলেন যে, আমার মনে হয় ‘উমর (রা) জাঙ্গিয়া ও চাদরের কথাও বলেছিলেন।
হাদিস ৩৫৯
‘আসিম ইবন ‘আলী (র)……ইবন ‘উমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সঃ) –কে জিজ্ঞাসা করলো, ইহরামকারী কি পরিধান করবে? সে জামা পরবে না, পায়জামা পরবে না, তুপি পরবে না, যাফরান বা ওয়ারস* রঙে রঞ্জিত কাপড় পরবে না। আর জুতা না পেলে মজা পরবে। তবে তা পায়ের গিরার নীচে পর্যন্ত কেটে নেবে। নাফি’ (র)। ইবন ‘উমর (রা) সুত্রে নবী (সঃ) থেকে অনুরুপ বর্ণনা করেছেন।
*ওয়ারসঃ এক প্রকার হলুদ রঙের তৃণ জাতীয় সুগন্ধি।
হাদিস ৩৬০
কুতায়বা (র)……আবূ সা’ঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ নবী (সঃ) ইশ্তিমালে সাম্মা এবং কাপড়ে ইহতিবা করতে নিষেধ করেছেন যাতে তাঁর লজ্জাস্থানে কাপড়ের কোন অংশ না থাকে।
১. সাম্মাঃ একই কাপড়ে সমস্ত শরীর এমনভাবে জড়ানো যাতে হাত-পা নাড়াচাড়া করতে অসুবিধা হয়।
২.ইহতিবাঃ পা ও হাঁটু দাড় করিয়ে বাহু বা কাপড় দিয়ে তা এমন ভাবে বেষ্টন করে নিতম্বের উপর বসা যাতে লজ্জাস্থান খুলে যাওয়ার আশংকা থাকে।
হাদিস ৩৬১
কাবীসা ইবন ‘উকবা (র)….. আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ নবী (সঃ) দু’ধরনের ক্রয়-বিক্রয় নিষেধ করেছেন। তা হল লিমাস ও নিবায* আর ইশ্তিমালে সাম্মা এবং এক কাপড়ে ইহতিবা করতে নিষেধ করেছেন।
*জাহিলী যুগের ক্রয়-বিক্রয়ের দু’টি পদ্ধতি। লিমাস বলতে ক্রেতা কতৃক কোন বস্তুকে স্পর্শ করামত্র অনিচ্ছা সত্ত্বেও ক্রয় করতে বাধ্য হওয়া বুঝায়। আর নিবায বলতে ক্রেতা বা বিক্রেতা কতৃক কোন বস্তুর উপর পাথর ছুড়ে মারামাত্র অনিচ্ছা সত্ত্বেও ক্রয় করতে বাধ্য হওয়া বুঝায় (বুখারী ১ম খণ্ড, হাশিয়া নং৪. পৃ. ৫৬)। বিস্তারিত জানার জন্য ক্রয়-বিক্রয় (بيع ) অধ্যায় দেখুন।
হাদিস ৩৬২
ইসহাক (র)……আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমাকে আবু বকর (রা) [যখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) এর পক্ষ থেকে তাঁকে হজ্জের আমীর বানানো হয়েছিল] কুরবানীর দিন ঘোষককদের সাথে মিনায় এ ঘোষণা করার জন্য পাঠালেন যে, এ বছরের পরে কোন মুশরিক বায়তুল্লাহর হজ্জ করতে পারবে না। আর কোন উলঙ্গ লোকও বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করতে পারবে না। হুমায়দ ইবন ‘আবদুর রহমান (র) বলেনঃ এরপর রাসূলুল্লাহ (সঃ) ‘আলী (রা) –কে আবূ বকর (রা) –এর পেছনে প্রেরণ করেন আর তাঁকে সুরা বারাআতের (প্রথম অংশের) ঘোষণা করার নির্দেশ দেন। আবূ হুরায়রা (রা) বলেনঃ তখন আমাদের সঙ্গে ‘আলী (রা) কুরবানীর দিন মিনায় ঘোষণা দেন যে, এ বছরের পর থেকে আর কোন মুশরিক হজ্জ করতে পারবে না এবং কোন উলঙ্গ ব্যক্তিও তাওয়াফ করতে পারবে না।
হাদিস ৩৬৩
‘আবদুল ‘আযীয ইবন ‘আবদুল্লাহ (র)……মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদির (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি জাবির ইবন ‘আবদুল্লাহ (র)-এর কাছে গিয়ে দেখি তিনি এক্তিমাত্র কাপড় নিজের শরীরে জড়িয়ে সালাত আদায় করছেন অথচ তাঁর একটা চাদর সেখানে রাখা ছিল। সালতের পর আমার বল্লামঃ হে আবূ ‘আবদুল্লাহ। আপনি সালাত আদায় করছেন, অথচ আপনার চাদর তুলে রেখেছেন? তিনি বললেন, হাঁ, তোমাদের মত নির্বোধদের দেখানর জন্য আমি এরুপ করেছি। আমি নবী (সঃ) –কে এভাবে সালত আদায় করতে দেখেছি।
