অধ্যায়ঃ ৭৬/ রক্তপন (كتاب الديات)
হাদিস নম্বরঃ ৬৪৪৭ | 6447 | ٦٤٤۷
পরিচ্ছদঃ ২৮৯৬. কাফেরের বদলে মুসলমানকে হত্যা করা হবে না
৬৪৪৭। সাদাকা ইবনুল ফযল (রহঃ) … আবূ জুহায়ফা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আলী (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনাদের কাছে এমন কিছু আছে কি যা কুরআনে নেই? তিনি বললেন, দিয়াতের বিধান, বন্দী-মুক্তির বিধান এবং (এ বিধান যে) কাফেরের বদলে কোন মুসলমানকে হত্যা করা যাবে না।
অধ্যায়ঃ ৭৬/ রক্তপন (كتاب الديات)
হাদিস নম্বরঃ ৬৪৪৮ | 6448 | ٦٤٤۸
পরিচ্ছদঃ ২৮৯৭. যখন কোন মুসলমান কোন ইয়াহুদীকে ক্রোধের সময় থাপ্পড় লাগাল। এ প্রসঙ্গে আবু হুরায়রা (রাঃ) নবী (সাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন।
৬৪৪৮। আবূ নুআয়ম (রহঃ) … আবূ সাঈদ (রাঃ) সুত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ তোমরা নাবীদের একজনকে অপর জনের উপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করো না।
অধ্যায়ঃ ৭৬/ রক্তপন (كتاب الديات)
হাদিস নম্বরঃ ৬৪৪৯ | 6449 | ٦٤٤۹
পরিচ্ছদঃ ২৮৯৭. যখন কোন মুসলমান কোন ইয়াহুদীকে ক্রোধের সময় থাপ্পড় লাগাল। এ প্রসঙ্গে আবু হুরায়রা (রাঃ) নবী (সাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন।
৬৪৪৯। মুহাম্মাদ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) … আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ইহুদী, যার মুখমণ্ডলে চপোটাঘাত করা করেছে। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলল হে মুহাম্মাদ! আপনার জনৈক আনসারী সাহাবী আমার মুখমণ্ডলে চপেটাঘাত করেছে। তিনি বললেন, তোমরা তাকে ডেকে আন। তারা তাকে ডেকে আনল। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি তাকে কেন চড় মারলে? সে বলল, হে আল্লাহর রাসুল! আমি এক ইহুদীর কাছ দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন আমি তাকে বলতে শুনলাম যে, ঐ সত্তার কসম! যিনি মূসা কে মানবমণ্ডলীর উপরে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছেন। তখন আমি বললাম, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপরেও কি? অতঃপর আমার ভীষণ রাগ এসে গেল। ফলে আমি তাকে চড় মেরে ফেলি। তিনি বললেনঃ তোমরা আমাকে নাবীদের মাঝে কারো উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিও না। কেননা সকল মানুষই কিয়ামতের দিন বেহুশ হয়ে পড়বে। তখন আমিই হব প্রথম ব্যাক্তি যে হুশ ফিরে পাব। কিন্তু আমি তখন মূসা (আলাইহিস সালাম) কে এমন অবস্থায় পাব যে, তিনি আরশের খুটিসমূহ থেকে একটি খুটি ধরে আছেন। আমি বুঝতে পারব না যে তিনি আমার আগে হুশ ফিরে পেলেন, না তুর পর্বতে বেহুশ হওয়ার বিনিময় দেয়া হয়েছে যে (এখন বেহুশই হননি)?
হাদিস নম্বরঃ ৬৪৫০ | 6450 | ٦٤۵۰
পরিচ্ছদঃ ২৮৯৮. যে ব্যক্তি আল্লাহ্র সাথে শিরক করে তার গুনাহ এবং দুনিয়া ও আখিরাতে তার শাস্তি। আল্লাহ্ তা’আলা বলেন, নিশ্চয়ই শিরক চরম জুলম। (৩১ঃ ১৩) তুমি আল্লাহ্র শরীক স্থির করলে তোমার কর্ম তো নিষ্ফল হবে এবং তুমি হবে ক্ষতিগ্রস্ত (৩৯ঃ ৬৫)
৬৪৫০। আবদুল্লাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) … আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন এ আয়াত নাযিল হলঃ যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে জুলুম দ্বারা কুলুষিত করেনি …… (৬ঃ ৮২)। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবাদের কাছে গুরুতর মনে হলো। তারা বললেন, আমাদের মাঝে এমন কে আছে যে তার ঈমানকে জুলুম দ্বারা কলুষিত করে না। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তা অবশ্যই এমনটা নয়, তোমরা কি লুকমানের কথার প্রতি লক্ষ্য করনি? শিরকই চরম জুল্ম (সীমালংঘন)। (৩১ঃ ১৩)।
অধ্যায়ঃ ৭৭/ আল্লাহদ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদেরকে তওবার প্রতি আহবান ও তাদের সাথে যুদ্ধ (كتاب استتابة المرتدين والمعاندين وقتالهم)
হাদিস নম্বরঃ ৬৪৫১ | 6451 | ٦٤۵۱
পরিচ্ছদঃ ২৮৯৮. যে ব্যক্তি আল্লাহ্র সাথে শিরক করে তার গুনাহ এবং দুনিয়া ও আখিরাতে তার শাস্তি। আল্লাহ্ তা’আলা বলেন, নিশ্চয়ই শিরক চরম জুলম। (৩১ঃ ১৩) তুমি আল্লাহ্র শরীক স্থির করলে তোমার কর্ম তো নিষ্ফল হবে এবং তুমি হবে ক্ষতিগ্রস্ত (৩৯ঃ ৬৫)
৬৪৫১। মুসাদ্দাদ (রহঃ) … আবূ বাকরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সবচেয়ে কঠিন কবীরা গুনাহ হচ্ছে আল্লাহর সঙ্গে শরীক করা, পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া ও মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া। মিথ্যা সাক্ষ্য কথাটি তিনবার বললেন। অথবা বলেছেন, মিথ্যা বক্তব্য। কথাটি বারবার বলতে থাকলেন এমন কি আমরা আকাঙ্ক্ষা করতে লাগলাম, হায় যদি তিনি নিরব হয়ে যেতেন।
অধ্যায়ঃ ৭৭/ আল্লাহদ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদেরকে তওবার প্রতি আহবান ও তাদের সাথে যুদ্ধ (كتاب استتابة المرتدين والمعاندين وقتالهم)
হাদিস নম্বরঃ ৬৪৫২ | 6452 | ٦٤۵۲
পরিচ্ছদঃ ২৮৯৮. যে ব্যক্তি আল্লাহ্র সাথে শিরক করে তার গুনাহ এবং দুনিয়া ও আখিরাতে তার শাস্তি। আল্লাহ্ তা’আলা বলেন, নিশ্চয়ই শিরক চরম জুলম। (৩১ঃ ১৩) তুমি আল্লাহ্র শরীক স্থির করলে তোমার কর্ম তো নিষ্ফল হবে এবং তুমি হবে ক্ষতিগ্রস্ত (৩৯ঃ ৬৫)
৬৪৫২। মুহাম্মদ ইবনু হুসায়ন ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক বেদুঈন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসুল! কবীরা গুনাহ সমূহ কি? তিনি বললেনঃ আল্লাহর সাথে শরীক করা। সে বলল, তারপর কোনটি? তিনি বললেনঃ তারপর পিতা-মাতার অবাধ্যতা। সে বলল, তারপর কোনটি? তিনি বললেনঃ তারপর মিথ্যা কসম করা। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, মিথ্যা কসম কি? তিনি বললেনঃ যে ব্যাক্তি (কসম দ্বারা) মুসলমানের ধন সম্পদ হরণ করে নেয়। অথচ সে এ কসমের ব্যাপারে মিথ্যাবাদী।
