হাদিস নম্বরঃ ৬৩৭৭ | 6377 | ٦۳۷۷
পরিচ্ছদঃ ২৮৫৭. যিম্মিরা যিনা করলে এবং ইমামের নিকট তাদের মোকাদ্দামা পেশ করা হলে এবং তাদের ইহসান (বিবাহিত হওয়া) সম্পর্কিত বিধান
৬৩৭৭। মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) … শায়বানী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আউফা (রাঃ) কে রজম সন্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলাম। তখন তিনি বললেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রজম করেছেন। আমি বললাম, সুরায়ে নূরের (এ সম্পকীয় আয়াত নাযিলের) আগে না পরে? তিনি বললেন, তা আমি অবগত নই। আলী ইবনু মুসহির, খালিদ ইবনু আবদুল্লাহ মুহারিবী ও আবিদা ইবনু হুমায়দ (রহঃ) আশ-শায়বানী (রহঃ) থেকে আবদুল ওয়াহিদ এর অনুসরণ করেছেন।
হাদিস নম্বরঃ ৬৩৭৮ | 6378 | ٦۳۷۸
পরিচ্ছদঃ ২৮৫৭. যিম্মিরা যিনা করলে এবং ইমামের নিকট তাদের মোকাদ্দামা পেশ করা হলে এবং তাদের ইহসান (বিবাহিত হওয়া) সম্পর্কিত বিধান
৬৩৭৮। ইসমাঈল ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইহুদীগণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে জানাল তাদের একজন পুরুষ ও একজন নারী যিনা করেছে। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন যে, তোমরা তাওরাতে রজম সম্পর্কে কি পাচ্ছ? তারা বলল, তাদেরকে অপমান ও কশাঘাত করা হয়। আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) বললেন, তোমরা মিথ্যে বলেছ। তাওরাতে অবশ্যই রজমের উল্লেখ রয়েছে। তারা তাওরাত নিয়ে এল এবং তা খুলল। আর তাদের একজন রজমের আয়াতের ওপর হাত রেখে দিয়ে তার আংশিক পাঠ করল। তখন আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) বললেন, তোমার হাত উঠাও। সে তার হাত উঠালে দেখা গেল যে, তাতে রজমের আয়াত বিদ্যমান রয়েছে। তারা বলল, আবদুল্লাহ ইবনু সালাম সত্যই বলেছেন। হে মুহাম্মাদ! তাতে রজমের আয়াত সত্যই বিদ্যমান রয়েছে। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উভয় সম্বন্ধে নির্দেশ করলেন এবং তাদের উভয়কে রজম করা হল। আমি দেখলাম, পুরুষটি নারীটির ওপর উপুড় হয়ে আছে। সে তাকে পাথরের আঘাত থেকে রক্ষা করছে।
হাদিস নম্বরঃ ৬৩৭৯ | 6379 | ٦۳۷۹
পরিচ্ছদঃ ২৮৫৮. বিচারক ও লোকদের কাছে আপন স্ত্রী বা অন্যের স্ত্রীর উপর যখন যিনার অভিযোগ করা হয় তখন বিচারকের জন্য কি জরুরী নয় যে, তার কাছে পাঠিয়ে তাকে ঐ বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করবে, যে বিষয়ে তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
৬৩৭৯। আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) ও যায়িদ ইবনু খালিদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। দু’জন লোক রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে তাদের বিবাদ নিয়ে এল। তাদের একজন বলল, আমাদের মধ্যে আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফায়সালা করে দিন। অপরজন বলল, আর সে ছিল উভয়ের মধ্যে অধিক বিজ্ঞ। হে আল্লাহর রাসুল! আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী আমাদের বিচার করে দিন। আর আমাকে কথা বলার অনুমতি দিন। তিনি বললেনঃ বল। সে বলল, আমার ছেলে তার মজুর ছিল। মালিক (রাবী) (রহঃ) বলেন, আসীফ অর্থ মজুর। সে তার স্ত্রীর সহিত যিনা করে ফেলে। লোকেরা আমাকে বলল যে, আমার ছেলের উপর শাস্তি হবে রজম। আমি এর বিনিময়ে তাকে একশ- ছাগল ও আমার একজন দাসী দিয়ে দেই। তারপর আলিমদেরকে জিজ্ঞেস করি। তারা আমাকে বললেন যে, আমার ছেলের শাস্তি একশ কশাঘাত ও এক বছরের নির্ধাসন। আর রজম তার স্ত্রীর ওপরই প্রযোজ্য হবে। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ জেনে রেখ, কসম ঐ সত্তার যার হাতে আমার প্রাণ! অবশ্যই আমি আল্লাহর কিতাব অনূযায়ী তোমাদের উভয়ের ফয়সালা করব। তোমার ছাগল ও দাসী তোমার কাছে ফেরত আসবে এবং তার ছেলেকে একশ’ কশাঘাত করলেন ও এক বছরের জন্য নির্বাসিত করলেন। আর উনাইস আসলামী (রাঃ) কে নির্দেশ দিলেন যেন সে অপর ব্যাক্তির স্ত্রীর কাছে যায় এবং যদি সে স্বীকার করে তাহলে যেন তাকে রজম করে। সে স্বীকার করল। ফলে তাকে সে রজম করল।
হাদিস নম্বরঃ ৬৩৮০ | 6380 | ٦۳۸۰
পরিচ্ছদঃ ২৮৫৯. প্রশাসক ছাড়া অন্য কেউ যদি নিজ পরিবার কিংবা অন্য কাউকে শাসন করে। আবু সাঈদ (রাঃ) নবী (সাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, কেউ নামায আদায় করে, আর কোন ব্যক্তি তার সম্মুখ দিয়ে অতিক্রম করার ইচ্ছা করে, তাহলে সে যেন তাকে বাধা দেয়। যদি সে বাধা না মানে তাহলে যেন তার সাথে লড়াই করে। আবু সাঈদ (রাঃ) এরূপ করেছেন
৬৩৮০। ইসমাঈল (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আবূ বকর (রাঃ) এলেন। এ সময় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় মাথা মুবারক আমার উরূর ওপর রেখে আছেন। তখন তিনি বললেন, তুমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও লোকদেরকে আটকে রেখেছ, এদিকে তাদের পানির কোন ব্যবস্থা নেই। তিনি আমাকে তিরষ্কার করলেন ও স্বীয় হাত দিয়ে আমার কোমরে আঘাত করতে লাগলেন। আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অবস্থানই আমাকে নড়াচড়া থেকে বিরত রাখছিল। তখন আল্লাহ তাআলা তায়াম্মুমের আয়াত নাযিল করেন।
হাদিস নম্বরঃ ৬৩৮১ | 6381 | ٦۳۸۱
পরিচ্ছদঃ ২৮৫৯. প্রশাসক ছাড়া অন্য কেউ যদি নিজ পরিবার কিংবা অন্য কাউকে শাসন করে। আবু সাঈদ (রাঃ) নবী (সাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, কেউ নামায আদায় করে, আর কোন ব্যক্তি তার সম্মুখ দিয়ে অতিক্রম করার ইচ্ছা করে, তাহলে সে যেন তাকে বাধা দেয়। যদি সে বাধা না মানে তাহলে যেন তার সাথে লড়াই করে। আবু সাঈদ (রাঃ) এরূপ করেছেন
৬৩৮১। ইয়াহইয়া ইবনু সূলায়মান (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, একদা আবূ বকর (রাঃ) এলেন ও আমাকে খুব জোরে ঘুষি মারলেন এবং বললেন, তুমি লোকদেরকে একটি হারের জন্য আটকে রেখেছ। আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অবসানের দরুন মৃত সদৃশ ছিলাম। অথচ তা আমাকে ভীযণ যন্ত্রণা দিয়েছে। সামনে অনুরুপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। لَكَزَ – وَكَزَ সমার্থ।
