হাদিস নম্বরঃ ৬২৬৪ | 6264 | ٦۲٦٤
পরিচ্ছদঃ ২৭৯০. কসম ভঙ্গ করার পূর্বে এবং পরে কাফফারা আদায় করা
৬২৬৪। আলী ইবনু হুজর (রহঃ) … যাহদাম জারমী (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, আমরা একদা আবূ মূসা আশআরী (রাঃ) এর নিকট ছিলাম। আমাদের এবং জারম গোত্রের মাঝে ভ্রাতৃত্ব ও সুসম্পর্ক বিদ্যমান ছিল। রাবী বলেনঃ তার জন্য খানা পেশ করা হল, তাতে ছিল মুরগীর গোশত। তাদের দলের মাঝে বনী তাইমিল্লাহ গোত্রের এক ব্যাক্তি ছিল যার গায়ের রং ছিল লাল যেন দেখতে গোলাম। রাবী বলেনঃ লোকটি খানার কাছেও গেল না। আবূ মূসা আশআরী তাকে বললেনঃ কাছে এসো (খানাতে শরীক হও)। কেননা, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর গোশত খেতে দেখেছি। লোকটি বলল, আমি একে (মুরগী) কিছু খেতে দেখেছি; ফলে আমি এটিকে ঘৃণা করছি। এবং সে থেকে কসম করেছি যে, কখনও আর এটি খাব না।
আবূ মূসা (রাঃ) বলেন, কাছে এসো; আমি তোমাকে এ সম্পর্কে অবহিত করব। একদা আমরা আশআরী সম্প্রদায়ের একটি দলের সঙ্গে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে একটি বাহন চাইবার জন্য আসলাম। তখন তিনি যাকাতের উট বণ্টন করছিলেন। আইয়্যুব বলেন, আমার মনে হয় তিনি তখন রাগান্বিত হয়ে বলেছিলেনঃ আল্লাহর কসম! আমি তোমাদেরকে বাহন দিব না। আর আমার কাছে বাহনযোগ্য কোন কিছুই নেই। বাবী বলেনঃ আমরা তখন প্রস্হান করলাম। এমন সময় তাঁর নিকট গনীমতের কয়েকটি উট আনা হল। তিনি বললেনঃ ঐ আশআরী লোকগুলো কোথায়? ঐ আশ আরী লোকগুলো কোথায়? তখন আমরা ফিরে এলাম এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঁচটি আকর্ষনীয় উট আমাদেরকে দেওয়ার জন্য হুকুম করলেন। আমরা উটগুলো নিয়ে রওনা হলাম।
এমন সময় আমি আমার সঙ্গীদেরকে বললাম, আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে বাহন চাওয়ার জন্য এসেছিলাম। আর তিনি আমাদেরকে বাহন দিবেন না বলে কসম করেছিলেন। কিন্তু এরপরে আমাদের কাছে লোক পাঠালেন এবং আমাদেরকে বাহন দিয়ে দিলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কসম ভুলে গিয়েছেন। আল্লাহর কসম! আমরা যদি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তার কসমকে ভুলিয়ে দিয়ে থাকি তাহলে তো আমরা কখনও কৃতকার্য হতে পারব না। চল, আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে ফিরে যাই এবং তার কসম সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দেই।
এরপর আমরা ফিরে গিয়ে বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমরা আপনার কাছে বাহন চাওয়ার জন্য এসেছিলাম, আপনি আমাদেরকে বাহন দিবেন না বলে কসম করেছিলেন। কিন্তু পরে আবার বাহন দিয়েছিলেন। এতে আমরা ধারণা করলাম বা বুঝতে পারলাম, আপনি হয়ত কসম ভুলে গিয়েছেন। তখন তিনি বললেনঃ তোমরা চলে যাও। নিশ্চয়ই আল্লাহই তো তোমাদেরকে বাহন দিয়েছেন। আল্লাহর কসম! নিশ্চয়ই আমি যখন আল্লাহর ইচ্ছায় কোন বিষয়ে কসম করি আর তার অন্যটির মাঝে মঙ্গল দেখতে পাই তখন যেটার মধ্যে কল্যান আছে সেটি বাস্তবায়িত করি এবং কসমের কাফফারা আদায় করে দেই।
হাম্মাদ ইবনু যায়িদ, আইউব, আবূ কিলাবা এবং কাসিম ইবনু আসিম কুলায়বী (রহঃ) থেকে উপরোক্ত হাদীসে ইসমাঈল ইবনু ইব্রাহিমের অনুসরণ করেছেন।
হাদিস নম্বরঃ ৬২৬৫ | 6265 | ٦۲٦۵
পরিচ্ছদঃ ২৭৯০. কসম ভঙ্গ করার পূর্বে এবং পরে কাফফারা আদায় করা
৬২৬৫। কুতায়রা (রহঃ) … যাহদাম (রাঃ) থেকে উক্তরূপ বর্ণিত আছে। (দেখুন হাদিস নম্বর ৬২৬৪)
হাদিস নম্বরঃ ৬২৬৬ | 6266 | ٦۲٦٦
পরিচ্ছদঃ ২৭৯০. কসম ভঙ্গ করার পূর্বে এবং পরে কাফফারা আদায় করা
৬২৬৬। আবূ মামার (রহঃ) … যাহদাম (রাঃ) থেকেও উক্তরূপ বর্ণিত আছে। (দেখুন হাদিস নম্বর ৬২৬৪)
হাদিস নম্বরঃ ৬২৬৭ | 6267 | ٦۲٦۷
পরিচ্ছদঃ ২৭৯০. কসম ভঙ্গ করার পূর্বে এবং পরে কাফফারা আদায় করা
৬২৬৭। মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … আবদুর রাহমান ইবনু সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তুমি নেতৃত্ব চাইও না। কেননা, চাওয়া ব্যতীত যদি তোমাকে তা দেওয়া হয় তবে তোমাকে তাতে সাহায্য করা হবে। আর যদি চাওয়ার পর তা তোমাকে দেওয়া হয় তবে তা তোমার দায়িত্বেই ছেড়ে দেওয়া হবে (অর্থাৎ ভাল মন্দের দায়িত্ব তোমারই থাকবে)। তুমি যখন কোন কিছুতে কসম কর আর কল্যাণ তার অন্যটির মাঝে দেখতে পাও। তখন যেটির মাঝে কল্যান সেটাই বাস্তবায়িত কর। আর তোমার কৃত কসমের কাফফারা আদায় করে দাও। আশহাল ইবনু হাতিম, ইবনু আউন থেকে এবং উসমান ইবনু আমর এর অনূসরণ করেছেন এবং ইউনুস, সিমাক ইবনু আতিয়্যা, সিমাক ইবনু হারব, হুমায়দ, কাতাদা, মানসুর, হিশাম ও রাবী উক্ত বর্ননায় আবদুল্লাহ ইবনু আউন এর অনুসরণ করেছেন।
হাদিস নম্বরঃ ৬২৬৮ | 6268 | ٦۲٦۸
পরিচ্ছদঃ মহান আল্লাহর বাণীঃ আল্লাহ তোমাদের সন্তান সম্বন্ধে নির্দেশ দিচ্ছেন … দুই আয়াত পর্যন্ত
৬২৬৮। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) … জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি অসুস্থ হয়ে পড়লাম। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবূ বকর (রাঃ) আমার শুশ্রুষা করলেন। তাঁরা উভয়েই পদব্রজে আসলেন এবং আমার কাছে উপস্থিত হলেন। আমি তখন বেহুশ অবস্হায় ছিলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলেন এবং আমার উপর উযূ (ওজু/অজু/অযু)র পানি ঢেলে দিলেন। আমি হুশে এসে বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার সম্পদের ব্যাপারে কি করব। আমার সস্পদের ব্যাপারে কি ব্যবস্হা গ্রহণ করব? তখন তিনি আমাকে কোন উত্তর দিলেন না। অবশেষে উত্তরাধিকার সংক্রান্ত আয়াত নাযিল হল।
