হাদিস নম্বরঃ ৬২৫৭ | 6257 | ٦۲۵۷
পরিচ্ছদঃ ২৭৮৫. মাদীনার সা’ ও নাবী (সাঃ) এর মুদ্দ এবং এর বরকত। আর মাদীনাহবাসীগণ এর থেকে যুগযুগান্তর ধরে উত্তরাধিকারসুত্রে যা পেয়েছেন
৬২৫৭। আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দোয়া করেছেনঃ হে আল্লাহ! তুমি তাদের (উম্মাতের) কায়ল (মাপে), সা ও মুদ্দের মাঝে বরকত প্রদান কর।
হাদিস নম্বরঃ ৬২৫৮ | 6258 | ٦۲۵۸
পরিচ্ছদঃ ২৭৮৬. মহান আল্লাহর বাণীঃ অথবা গোলাম আযাদ করা। এবং কোন প্রকারের গোলাম আযাদ করা উত্তম
৬২৫৮। মুহাম্মাদ ইবনু আবদুর রহীম (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) সুত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি একটি মুসলমান গোলাম আযাদ করবে আল্লাহ তা’আলা সে গোলামের প্রতিটি অঙ্গের বিনিময়ে জাহান্নামের আগুন থেকে তার প্রতিটি অংকে মুক্ত করবেন। এমন কি তার গুপ্তাঙ্গকেও গোলামের গুপ্তাঙ্গের বিনিময়ে মুক্ত করবেন।
হাদিস নম্বরঃ ৬২৫৯ | 6259 | ٦۲۵۹
পরিচ্ছদঃ ২৭৮৭. কাফফারা আদায়ের ক্ষেত্রে মুদাব্বার, উম্মু ওয়ালাদ, মুতাকাব এবং যিনার সন্তান আযাদ করা। এবং তাউস বলেছেন, উম্মে ওয়ালাদ এবং মুদাব্বার আদায় করা চলবে।
৬২৫৯। আবূ নুমান (রহঃ) … জাবির (রাঃ) থেকে বর্নিত যে, আনসার সম্প্রদায়ের এক ব্যাক্তি তার গোলামকে মুদাব্বীর বানালো। ঐ গোলাম ব্যতীত তার আর কোন মাল ছিল না। খবরটি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে পৌছল। তিনি বললেনঃ গোলামটিকে আমার কাছ থেকে কে ক্রয় করবে? নুআয়ম ইবনু সাহহাম (রাঃ) তাকে আটশ দিরহামের বিনিময়ে ক্রয় করে নিল। সনদস্হিত রাবী আমর (রাঃ) বলেনঃ আমি জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) কে বলতে শুনেছি যে, সে গোলামটি ছিল কিবতী আর (আযাদ করার) প্রথম বছরেই সে মারা গিয়েছিল।
হাদিস নম্বরঃ ৬২৬০ | 6260 | ٦۲٦۰
পরিচ্ছদঃ ২৭৮৮. যখন কেউ দুজনের মধ্যে শরীকানা কোন গোলাম আযাদ করে অথবা কাফফারার ক্ষেত্রে গোলাম আযাদ করে তখন তার ওয়ালাতে (স্বত্বাধিকারী) কে পাবে?
৬২৬০। সুলায়মান ইবনু হারব (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বাবীরা নাম্নী বাদীকে ক্রয় করতে চাইলে তার মালিকগণ তার উপর ওয়ালা এর শর্তারোপ করল। আয়িশা (রাঃ) ব্যাপারটি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে উল্লেখ করলে তিনি বললেনঃ তাকে তুমি ক্রয় করে নাও কেননা ওয়ালা (স্বত্বাধিকার) হল ঐ ব্যাক্তির জন্য যে আযাদ করে দেয়।
হাদিস নম্বরঃ ৬২৬১ | 6261 | ٦۲٦۱
পরিচ্ছদঃ ২৭৮৯. কসমের ক্ষেত্রে ইনশাআল্লাহ বলা
৬২৬১। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) … আবূ মূসা আল-আশআরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একদা কতিপয় আশাআরী লোকের সঙ্গে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে একটি বাহন চাইবার জন্য এলাম। তিনি বললেনঃ আল্লাহর কসম! আমি তোমাদেরকে বাহন দিতে পারব না। কারণ, এমন কিছু আমার নিকট নেই যা বাহন হিসাবে তোমাদেরকে দিতে পারি। এরপর আল্লাহ তা’আলা যতক্ষন চাইলেন আমরা অবস্থান করলাম। এমন সময় তাঁর নিকট কিছু উট আনা হল। তখন তিনি আমাদেরকে তিনটি উট দেওয়ার জন্য হুকুম করলেন। আমরা যখন রওনা করলাম, তখন পরস্পরে বলতে লাগলাম যে, আল্লাহ তো আমাদের বরকত দিবেন না।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে বাহন চাওয়ার জন্য যখন এলাম তখন তিনি আমাদেরকে বাহন দিবেন না বলে কসম করলেন। এরপরও আমাদেরকে বাহন দিয়ে দিলেন। আবূ মূসা (রাঃ) বলেন, আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে ফিরে এসে ব্যাপারটি তাঁর কাছে উল্লেখ করলাম। তখন তিনি বললেনঃ আমি তো তোমাদেরকে বাহন দেইনি; বরং আল্লাহ তা’আলা দিয়েছেন। আল্লাহর কসম! ইনশাআল্লাহ আমি যখন কোন বিষয়ে কসম কবি আর তার বিপরীতটির মাঝে মঙ্গল দেখতে পাই তখন কসমের কাফফারা আদায় করে দেই। আর যেটি কল্যাণকর সেটিই বাস্তবায়িত করি।
হাদিস নম্বরঃ ৬২৬২ | 6262 | ٦۲٦۲
পরিচ্ছদঃ ২৭৮৯. কসমের ক্ষেত্রে ইনশাআল্লাহ বলা
৬২৬২। আবু নুমান (রহঃ) … হাম্মাদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিন্তু আমি আমার কৃত কসমের কাফফারা আদায় করি এবং যেটি কল্যাণকর সেটি বাস্তবায়িত করি। অথবা বলেছেনঃ যেটি কল্যাণকর সেটি বাস্তবায়িত করি এবং এর কাফফারা আদায় করে দেই।
হাদিস নম্বরঃ ৬২৬৩ | 6263 | ٦۲٦۳
পরিচ্ছদঃ ২৭৮৯. কসমের ক্ষেত্রে ইনশাআল্লাহ বলা
৬২৬৩। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সুলায়মান (আলাইহিস সালাম) একদা বলেছিলেন যে, অবশ্যই আজ রাতে আমি নব্বইজন স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হব। তারা প্রত্যেকেই পুত্র সন্তান প্রসব করবে যারা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করবে। তখন তার সাথী (রাবী সুফিয়ান সাথী দ্বারা ফেরেশতা বুঝিয়েছেন) বলল, আপনি ইনশাআল্লাহ বলুন। কিন্তু তিনি তা ভুলে গেলেন এবং সকল স্ত্রীর সাথে মিলিত হলেন। তবে একজন ব্যতীত অন্য কোন স্ত্রীর গর্ভ থেকেই কোন সন্তান পয়দা হল না; তাও ছিল অপূর্ণাঙ্গ।
আবূ হুরায়রা (রাঃ) এ ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিনি কসমের মাঝে যদি ইনশাআল্লাহ বলতেন তাহলে তার কসময় ভঙ্গ হত না আবার উদ্দেশ্যও সাধিত হত। একবার আবূ হুরায়রা (রাঃ) এরূপ বর্ণনা করলেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিনি যদি “ইস্তিসনা” করতেন (অর্থাৎ ইনশাআল্লাহ বলতেন)। আবূ যিনাদ আরাজের মাধ্যমে আবূ হুরায়রা (রাঃ) বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ননা করেছেন।
