হাদিস নম্বরঃ ৬৮৫২ | 6852 | ٦۸۵۲
পরিচ্ছদঃ ৩০৯৬. প্রমান তাদের উক্তির বিরুদ্ধে, যারা বলে নবী (সাঃ) এর সব কাজই সুষ্পষ্ট ছিল। কোন কোন সাহাবী নবী (সাঃ) এর দরবার থেকে অনুপস্থিত থাকা যে স্বাভাবিক ছিল যদ্দরুন তাঁদের জন্য ইসলামের বিধিবিধান থেকে লাওয়াকিফ থাকাও স্বাভাবিক ছিল এর প্রমান
৬৮৫২। আলী (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমাদের ধারনা আবূ হুরায়রা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীস বর্ণনায় বাড়াবাড়ি করছে। আল্লাহর কাছে একদিন আমাদেরকে হাযির হতে হবে। আমি ছিলাম একজন মিসকীন। খেয়ে না খেয়েই আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সান্নিধ্যে লেগে থাকতাম। মুহাজিরদেরকে বাজারের বেচাকেনা লিপ্ত রাখত। আর আনসারগণকে ব্যস্ত রাখত তাদের ধন দৌলতের ব্যবস্তাপনা। একদা আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে উপস্থিত ছিলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার কথা শেষ হওয়া পর্যন্ত যে ব্যাক্তি স্বীয় চাঁদর বিছিয়ে তারপর তা গুটিয়ে নেবে, সে আমার কাছ থেকে শ্রুত বানী কোন দিন ভুলবে না। তখন আমি আমার গায়ের চাদরখানা বিছিয়ে দিলাম। সে সত্তার কসম, যিনি তাঁকে হকের সাথে প্রেরণ করেছেন। এরপর থেকে আমি তার কাছে যা শুনেছি, আর ভুলিনি।
হাদিস নম্বরঃ ৬৮৫৩ | 6853 | ٦۸۵۳
পরিচ্ছদঃ ৩০৯৭. কোন বিষয় নবী (সাঃ) কর্তৃক অস্বীকৃতি জ্ঞাপন না করাই তা বৈধ হওয়ার প্রমাণ। অন্য কারো অস্বীকৃতি বৈধতার প্রমান নয়
৬৮৫৩। হাম্মাদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) … মুহাম্মদ ইবনু মুনকাদির (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) কে আল্লাহর কসম খেয়ে বলতে শুনেছি যে, ইবনু সায়িদ অবশ্যই (একটা) দাজ্জাল। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, আল্লাহর কসম খেয়ে বলছেন? তিনি উত্তরে বললেনঃ আমি উমর (রাঃ) কে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপস্থিতিতে কসম খেয়ে এ কথা বলতে শুনেছি। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথা অস্বীকার করেননি।
হাদিস নম্বরঃ ৬৮৫৪ | 6854 | ٦۸۵٤
পরিচ্ছদঃ ৩০৯৮. দলীল-প্রমাণাদির দ্বারা যেসব বিধিবিধান সম্পর্কে অবগত হওয়া যায়। দলীল প্রমাণাদির অর্থ ও বিশ্লেষণ কিভাবে করা যায়? নবী (সাঃ) ঘোড়া ইত্যাদির হুকুম বলে দিয়েছেন। এরপর তাঁকে গাধার হুকুম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি মহান আল্লাহর নিম্নোক্ত বাণীর দিকে ইশারা করেনঃ কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলেও তা দেখতে পাবে (৯৯ঃ ৭)। নবী (সাঃ) কে ‘দব্ব’ (গুঁইসাপ) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেনঃ আমি এটি খাই না, তবে হারামও বলি না। নবী (সাঃ) এর দস্তরখানে (‘দব্ব’ খাওয়া হয়েছে। এর দ্বারা ইবন আব্বাস (রাঃ) প্রমাণ করেছেন যে, ‘দব্ব’ হারাম নয়
৬৮৫৪। ইসমাঈল (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ঘোড়া ব্যবহারের দিক দিয়ে মানুষ তিন প্রকার। এক প্রকার লোকের জন্য ঘোড়া সাওয়ারের মাধ্যম আর এক প্রকার লোকের জন্য তা গুনাহ থেকে রক্ষা পাওয়ার অবলম্বন এবং আর এক প্রকার লোকের ব্জন্য তা শাস্তির কারণ। যার জন্য ঘোড়া সাওয়ারের মাধ্যম সে এমন ব্যাক্তি যে ঘোড়াকে আল্লাহর রাস্তায় ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রাখে এবং চারণভূমি বা বাগানে প্রশস্ত রশিতে বেধে বিচরণ করতে দেয়। এই রশি যত প্রশস্ত এবং যত দুরত্বে ঘোড়া বিচরণ করতে পারে, সে তত বেশি প্রতিদান পায়। যদি ঘোড়া এ রশি ছিড়ে এক চক্কর অথবা দু’টি চক্কর দেয়। তবে ঐ ঘোড়ার প্রতিটি পদক্ষেপ এবং মালের বিনিময়ে তাকে প্রতিদান দেওয়া হয়। ঘোড়া যদি কোন নদী বা নালায় গিয়ে পানি পান করে ফেলে অথচ মালিক পানি পান করানোর নিয়ত করেনি। এগুলো খুবই নেক কাজ। এর জন্য এ ব্যাক্তির সওয়াব রয়েছে।
আর যে ব্যাক্তি ঘোড়া পালন করে একমাত্র স্বয়ংসম্পূর্নতা এবং সুনির্ভরতা বজায় বাখার জন্য; এর সাথে সাথে ঘোড়ার ঘাড় ও পিঠে বর্তানো আল্লাহর হক সমূহও আদায় করতেও সে ভুলে যায় না। এ ক্ষেত্রে ঘোড়া তার জন্য শাস্তি থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় হবে। আর যে ব্যাক্তি অহংকার ও আত্মগৌরব প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে ঘোড়া পোষে, তার জন্য এই ঘোড়া শাস্তির কারন হবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করা হল গাধা সম্পর্কে তখন তিনি বললেনঃ এ সম্পর্কে আমার প্রতি ব্যাপক অর্থবোধক একটি আয়াত ছাড়া আল্লাহ আর কিছু নাযিল করেননি। (তা হল এই) যে অণু পরিমাণ ভাল কাজও করবে, সে তাও দেখতে পাবে এবং যে অনু পরিমাণ খারাপ কাজ করবে সেও তা দেখতে পাবে।
হাদিস নম্বরঃ ৬৮৫৫ | 6855 | ٦۸۵۵
পরিচ্ছদঃ ৩০৯৮. দলীল-প্রমাণাদির দ্বারা যেসব বিধিবিধান সম্পর্কে অবগত হওয়া যায়। দলীল প্রমাণাদির অর্থ ও বিশ্লেষণ কিভাবে করা যায়? নবী (সাঃ) ঘোড়া ইত্যাদির হুকুম বলে দিয়েছেন। এরপর তাঁকে গাধার হুকুম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি মহান আল্লাহর নিম্নোক্ত বাণীর দিকে ইশারা করেনঃ কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলেও তা দেখতে পাবে (৯৯ঃ ৭)। নবী (সাঃ) কে ‘দব্ব’ (গুঁইসাপ) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেনঃ আমি এটি খাই না, তবে হারামও বলি না। নবী (সাঃ) এর দস্তরখানে (‘দব্ব’ খাওয়া হয়েছে। এর দ্বারা ইবন আব্বাস (রাঃ) প্রমাণ করেছেন যে, ‘দব্ব’ হারাম নয়
৬৮৫৫। ইয়াহইয়া ও মুহাম্মাদ ইবনু উকবা (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। জনৈক মহিলা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করল, হায়েয থেকে গোসল (পবিত্রতা অর্জন) কিভাবে করতে হয়? তিনি বললেনঃ তুমি সুগন্ধিমুক্ত এক টুকরা কাপড় হাতে নেবে। তারপর এর সারা পবিত্রতা অর্জন করে নেবে। মহিলা বলে উঠল, আমি এর দ্বারা কিভাবে পবিত্রতা অর্জন করে নেব? নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি এর দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করে নেবে। মহিলা আবার বলে উঠল, এর দ্বারা কিভাবে পবিত্রতা অর্জন করে নেব? নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি এর দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করে নেবে। আয়িশা (রাঃ) বলেনঃ আমি বুঝতে পারলাম রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দ্বারা কি বোঝাতে চাচ্ছেন। এরপর মহিলাটিকে আমার দিকে টেনে আনলাম এবং বিযয়টি তাকে জানিয়ে দিলাম।
