হাদিস নম্বরঃ ৬৮২৩ | 6823 | ٦۸۲۳
পরিচ্ছদঃ ৩০৯০. নবী (সাঃ) যা বলেছেন এবং আলেমদেরকে ঐক্যের প্রতি যে উৎসাহ প্রদান করেছেন। আর যেসব বিষয়ে হারামাঈন মক্কা ও মদীনার আলেমগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন। মদীনায় নবী করীম (সাঃ) মুহাজির ও আনসারদের স্মৃতিচিহ্ন এবং নবী (সাঃ) এর নামাযের স্থান, মিন্বর ও কবর সম্পর্কে
৬৮২৩। ইসমাঈল (রহঃ) … জাবির ইবনু আবদুল্লাহ সালামী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, জনৈক বেদুঈন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট ইসলামের উপর বায়’আত গ্রহণ করল। এরপর সে মদিনায় জ্বরে আক্রান্ত হল। বেদুঈন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমতে হাযির হয়ে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার বায়আত প্রত্যাহার করুন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করলেন। পূনরায় সে এসে বলল, আমার বায়আত প্রত্যাহার করুন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অস্বকৃতি জানালেন। এরপর সে আবার এসে বলল, আমার বায়আত প্রত্যাহার করুন। এবারও নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অস্বীকৃতি জানালে বেদুঈন বেরিয়ে গেল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ মদিনা হচ্ছে কামারের হাপরের মত। সে তার মধ্যকার-আবর্জনাকে বিদূরিত করে এবং খাঁটিটুকু ধরে রাখে।
হাদিস নম্বরঃ ৬৮২৪ | 6824 | ٦۸۲٤
পরিচ্ছদঃ ৩০৯০. নবী (সাঃ) যা বলেছেন এবং আলেমদেরকে ঐক্যের প্রতি যে উৎসাহ প্রদান করেছেন। আর যেসব বিষয়ে হারামাঈন মক্কা ও মদীনার আলেমগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন। মদীনায় নবী করীম (সাঃ) মুহাজির ও আনসারদের স্মৃতিচিহ্ন এবং নবী (সাঃ) এর নামাযের স্থান, মিন্বর ও কবর সম্পর্কে
৬৮২৪। মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রাঃ) কে পবিত্র কুরআনের তালীম দিতাম। উমর (রাঃ) যখন জীবনের সর্বশেষ হাজ্জ (হজ্জ) পালন করতে আসলেন, তখন আবদুর রহমান (রাঃ) মিনায় আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, তুমি আজ আমীরুল মুমিনীনদের নিকট থাকলে দেখতে পেতে যে, তার কাছে এক ব্যাক্তি এসে বলল, জনৈক ব্যাক্তি বলেছে, যদি আমীরুল মু’মিনীন মারা যেতেন, তাহলে আমরা অমুক ব্যাক্তির হাতে বায়’আত নিতে পারতাম। উমর (রাঃ) বললেন, আজ বিকেলে দাঁড়িয়ে আমি তাদেরকে সতর্ক করব, যারা মুসলমানদের অধিকারকে ছিনিয়ে নিতে চায়। আমি বললাম, আপনি এটি করবেন না। কেননা, এখন হাজ্জের (হজ্জ) মৌসুম। এখন সাধারণ লোকের উপস্থিতির সময়। তারা আপনার মজলিসকে ঘিরে ফেলবে।
আমার ভয় হচ্ছে যে, তারা আপনার বক্তব্য যথাযথভাবে অনুধাবন করবে না। রদবদল করে চারদিকে ছড়িয়ে দেবে। বরং এখন আপনি হিজরত ও সুন্নাতের আবাসগৃহ মদিনায় পৌছা পর্যন্ত একটু অপেক্ষা করুন। এরপর একমাত্র রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুহাজির ও আনসার সাহাবাদের নিকট আপনার বক্তব্য পেশ করুন। তারা আপনার বক্তব্য সংরক্ষণ করবে এবং তার যথাযথ মর্যাদা প্রদান করবে। উমর (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! আমি মদিনায় পৌছলে সবচেয়ে আগে এটি করব। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, আমরা মদিনায় উপিস্থিত হলাম। তখন উমর (রাঃ) ভাষণ প্রসঙ্গে বললেন, আল্লাহ তাআলা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সত্য বাণী দিয়ে প্রেরণ করেছেন, তাঁর উপর কিতাব অবতীর্ণ করেছেন। তন্মধ্যে ‘রজম’ (তথা পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করা) এর আয়াতও রয়েছে।
হাদিস নম্বরঃ ৬৮২৫ | 6825 | ٦۸۲۵
পরিচ্ছদঃ ৩০৯০. নবী (সাঃ) যা বলেছেন এবং আলেমদেরকে ঐক্যের প্রতি যে উৎসাহ প্রদান করেছেন। আর যেসব বিষয়ে হারামাঈন মক্কা ও মদীনার আলেমগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন। মদীনায় নবী করীম (সাঃ) মুহাজির ও আনসারদের স্মৃতিচিহ্ন এবং নবী (সাঃ) এর নামাযের স্থান, মিন্বর ও কবর সম্পর্কে
৬৮২৫। সুলায়মান ইবনু হারব (রহঃ) … মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আবূ হুরায়রা (রাঃ) এর নিকটে ছিলাম। তিনি লাল রঙের দুটি কাতান পরিহিত ছিলেন। এরপর তিনি নাক পরিষ্কার করলেন এবং বললেনঃ বাহ! বাহ! আবূ হুরায়রা আজ কাতান দ্বারা নাক পরিস্কার করছে। অথচ আমি এমন অবস্থায়ও ছিলাম, যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মিম্বর ও আয়িশা (রাঃ) এর হুজরার মধ্যবর্তী স্থানে বেহুশ অবস্থায় পড়ে থাকতাম। আগন্তুক আসত, তার স্বীয় পা আমার গর্দানে রাখত! মনে হতো আমি যেন পাগল। অথচ আমার কিঞ্চিতও পাগলামী ছিল না। একমাত্র ক্ষুধার যন্ত্রণায় এমনটি হত।
হাদিস নম্বরঃ ৬৮২৬ | 6826 | ٦۸۲٦
পরিচ্ছদঃ ৩০৯০. নবী (সাঃ) যা বলেছেন এবং আলেমদেরকে ঐক্যের প্রতি যে উৎসাহ প্রদান করেছেন। আর যেসব বিষয়ে হারামাঈন মক্কা ও মদীনার আলেমগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন। মদীনায় নবী করীম (সাঃ) মুহাজির ও আনসারদের স্মৃতিচিহ্ন এবং নবী (সাঃ) এর নামাযের স্থান, মিন্বর ও কবর সম্পর্কে
৬৮২৬। মুহাম্মদ ইবনু কাসীর (রহঃ) … আবদুর রহমান ইবনু আবিস (রহঃ) থেকে বর্ণিত। আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, আপনি কি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে কোন ঈদে অংশ গ্রহণ করেছেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। যদি তার নিকটে আমার বিশেষ একটা অবস্থান না থাকত তবে এত অল্প বয়সে তার সাথে যোগদানের সুযোগ পেতাম না। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাসীর ইবনু সালতের বাড়ির নিকটস্থ স্থানের পতাকার কাছে তশরীফ আনলেন। এরপর ঈদের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। তারপর তিনি ভাষণ প্রদান করলেন। রাবী আযান এবং ইকামত এর উল্লেখ করেননি। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শ্রোতাদেরকে সাদাকা আদায়ের হুকম করলেন। নারীরা স্বীয় কান ও গলার (অলংকার) দিকে ইঙ্গিত করলেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলাল (রাঃ) কে (তাদের কাছে যাওয়ার জন্য) নির্দেশ দিলেন। বিলাল (রাঃ) (তাদের নিকট থেকে অলংকারাদি নিয়ে) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে ফিরে এলেন।
