হাদিস নম্বরঃ ৬৮১১ | 6811 | ٦۸۱۱
পরিচ্ছদঃ ৩০৮২. ওহী অবতীর্ণ হয়নি এমন কোন বিষয়ে নবী (সাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলতেনঃ আমি জানি না কিংবা সে ব্যাপারে ওহী অবতীর্ণ না হওয়া পর্যন্ত কোন জবাব দিতেন না এবং তিনি ব্যক্তিগত মতের উপর ভিত্তি করে কিংবা অনুমান করে কিছু বলতেন না। কেননা, আল্লাহ্ তা’আলার বাণীঃ আল্লাহ্ আপনাকে যা কিছু জানিয়ে দিয়েছেন তার দ্বারা (ফয়সালা করুন)। ইব্ন মাসঊদ (রাঃ) বলেন, নবী (সাঃ) কে রূহ্ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে ওহী অবতীর্ণ হওয়া পর্যন্ত তিনি চুপ ছিলেন
৬৮১১। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি অসুস্থ ছিলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবূ বকর (রাঃ) আমাকে দেখতে এলেন। তাঁরা দু’জনেই হেঁটে এসেছিলেন। তারা যখন আমার কাছে আসলেন, তখন আমি বেহুশ অবস্থায় ছিলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওযু করলেন এবং ওযুর পানি আমার উপর ঢেলে দিলেন। ফলে আমি হুশ ফিরে পেলাম। তখন আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! বর্ণনাকারী সুফিয়ান কোন কোন সময় বলতেন হে আল্লাহর রাসুল, আমার সম্পদের ব্যাপারে কি ফায়সালা করব? আমার সম্পদগুলো কি করব? তিনি আমাকে কোন জবাব দিলেন না অবশেষে মীরাসের আয়াত নাযিল হল।
হাদিস নম্বরঃ ৬৮১২ | 6812 | ٦۸۱۲
পরিচ্ছদঃ ৩০৮৩. নবী (সাঃ) নারী-পুরুষ নির্বিশেষে তাঁর উম্মতদেরকে সে বিষয়েরই শিক্ষা দিতেন, যা আল্লাহ্ তাঁকে শিখিয়ে দিতেন, ব্যক্তিগত মত বা দৃষ্টান্তের উপর ভিত্তি করে নয়
৬৮১২। মুসাদ্দাদ (রহঃ) … আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈকা মহিলা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনার হাদীস তো কেবলমাত্র পুরুষ শুনভে পায়। সুতরাং আপনার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য একটি দিন নির্ধারন করে দিন, যে দিন আমরা আপনার নিকট আসব, আল্লাহ আপনাকে যা কিছু শিক্ষা দিয়েছেন তা থেকে আপনি আমাদের শিক্ষা দিবেন। তিনি বললেন, তোমরা অমুক অমুক দিন অমুক অমুক স্থানে সমবেত হবে। তারপর (নির্দিষ্ট দিনে) তাঁরা সমবেত হলেন এবং নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কাছে এলেন এবং আল্লাহ তাকে যা কিছু শিক্ষা দিয়েছেন তা থেকে তাদের শিক্ষা দিলেন এবং বললেনঃ তোমাদের কেউ যদি সন্তানদের থেকে তিনটি সন্তান আগে পাঠিয়ে দেয় (মৃত্যুবরণ করে) তাহলে এ সন্তানরা তার জন্য জাহান্নামের পথে অন্তরায় হয়ে যাবে। তাদের মাঝ থেকে একজন মহিলা জিজ্ঞাসা করল, ইয়া রাসুলুল্লাহ! যদি দু’জন হয়? বর্ণনাকারী বলেনঃ মহিলা কথাটি পরপর দুইবার জিজ্ঞাসা করলেন। তারপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ দু’জন হলেও, দু’জন হলেও, দু’জন হলেও।
হাদিস নম্বরঃ ৬৮১৩ | 6813 | ٦۸۱۳
পরিচ্ছদঃ ৩০৮৪. নবী (সাঃ) এর বাণীঃ আমার উম্মতের মাঝে এক জামাআত সর্বদাই হকের উপর বিজয়ী থাকবেন। আর তারা হলেন আহলে ইল্ম (দীনি ইল্মে বিশেষজ্ঞ)
৬৮১৩। উবায়দুল্লাহ ইবনু মূসা (রহঃ) … মুগীরা ইবনু শুবা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহর হুকুম অর্থাৎ কিয়ামত আসা পর্যন্ত আমার উম্মাতের এক জামাআত সর্বদাই বিজয়ী থাকবে। আর তাঁরা হলেন (সেই দল যারা প্রতিপক্ষের উপর) প্রভাবশালী।
হাদিস নম্বরঃ ৬৮১৪ | 6814 | ٦۸۱٤
পরিচ্ছদঃ ৩০৮৪. নবী (সাঃ) এর বাণীঃ আমার উম্মতের মাঝে এক জামাআত সর্বদাই হকের উপর বিজয়ী থাকবেন। আর তারা হলেন আহলে ইল্ম (দীনি ইল্মে বিশেষজ্ঞ)
৬৮১৪। ইসমাঈল (রহঃ) … মুআবিয়া ইরন আবূ সুফয়ান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, আল্লাহ তা’আলা যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের জ্ঞান দান করেন। আমি তো (ইল্মের) বন্টনকারী মাত্র; আল্লাহ তা প্রদান করে থাকেন। এ উম্মাতের কর্মকাণ্ড কিয়ামত পর্যন্ত কিংবা বলেছিলেন, মহান আল্লাহ তা’আলার হুকুম আসা পর্যন্ত (সত্যের উপর) সুদৃঢ় থাকবে।
হাদিস নম্বরঃ ৬৮১৫ | 6815 | ٦۸۱۵
পরিচ্ছদঃ ৩০৮৫. আল্লাহ্ তা’আলার বাণীঃ অথবা তোমাদেরকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করতে ……… (৬ঃ ৬৫)
৬৮১৫। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর এই আয়াতঃ বল, তিনি সক্ষম তোমাদের ঊর্ধ্বদেশ থেকে শাস্তি প্রেরণ করতে …… নাযিল হল, তখন তিনি বললেনঃ (হে আল্লাহ!) আমি আপনার কাছে (এহেন আযাব থেকে) আশ্রয় প্রার্থনা করি (তারপর যখন নাযিল হল) অথবা তোমাদের পায়ের নিচে থেকে। তখনও তিনি বললেনঃ (হে আল্লাহ!) আমি আপনার নিকট (এহেন আযাব থেকে) আশ্রয় প্রার্থনা করি। এরপর যখন অবতীর্ণ হলঃ অথবা তোমাদেরকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করতে এবং একদলকে অপর দলের সংঘর্ষের স্বাদ গ্রহন করাতে তখন তিনি বললেনঃ এ দুটি অপেক্ষাকৃত নরম অথবা বলেছেনঃ সহজ।
হাদিস নম্বরঃ ৬৮১৬ | 6816 | ٦۸۱٦
পরিচ্ছদঃ ৩০৮৬. কোন বিষয় সম্পর্কে প্রশ্নকারীকে সুষ্পষ্টরূপে বুঝিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে (আল্লাহ্র পক্ষ থেকে) সুষ্পষ্ট হুকুম বর্ণিত আছে এরূপ কোন বিষয়ের সাথে অন্য আর একটি বিষয়ের নিয়ম মোতাবেক তুলনা করা
৬৮১৬। আসবাগ ইবনু ফারজ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, জনৈক বেদুঈন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বলল, আমার স্ত্রী একটি কালো সন্তান প্রসব করেছে। আর আমি তাকে (আমার সন্তান হিসাবে) অস্বীকার করছি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার কি উট আছে? সে বলল হ্যাঁ আছে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, সেগুলোর কি রং? সে বলল, লাল। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, সেগুলোর মাঝে সাদা কালো মিশ্রিত রঙের কোন উট আছে কি? সে বলল, হ্যাঁ, সাদা কালো মিশ্রিত রঙের অনেকগুলোই আছে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন এ রং কি করে এল বলে তুমি মনে কর? সে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! বংশের পূর্ব সুত্রের প্রভাবে এরূপ হয়েছে। তিনি বললেনঃ সম্ভবত তোমার সন্তানও বংশের পূর্ব সূত্রের প্রভাবে এরূপ হয়েছে (অর্থাৎ পূর্বপুরুষের কারো বর্ণ কালো ছিল বলে এ সন্তান কালো হয়েছে) এবং তিনি এ সন্তানকে অস্বীকার কবার অনুমতি তাকে দিলেন না।
