তারপর যখন উয়ায়না উমর (রাঃ) এর নিকট গেলেন, তখন সে বলল, হে ইবনু খাত্তাব! আপনি আমাদের (প্রচুর পরিমাণে) মাল দিচ্ছেন না, আবার ইনসাফের ভিত্তিতে আমাদের মাঝে ফায়সালাও করছেন না। তখন উমর (রাঃ) রাগান্বিত হলেন, এমন কি তিনি তাকে প্রহার করতে উদ্যত হলেন। তখন হুর বললেন, হে আমীরুল মুমিনীন। আল্লাহ তাঁর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলেছেন, তুমি ক্ষমাপরায়ণতা অবলম্বন কর, সৎকাজের নির্দেশ দাও, আর অজ্ঞদেরকে উপেক্ষা কর। (৭ঃ ১৯৯)। এ লোকটি নিঃসন্দেহে একজন মুর্খ। আল্লাহর শপথ! উমর (রাঃ) এর সামনে এই আয়াতটি পাঠ করা হলে তিনি মোটেও তা লংঘন করলেন না। বস্তুত তিনি মহান আল্লাহ তা’আলার কিতাবের বড়ই অনুগত ছিলেন।
হাদিস নম্বরঃ ৬৭৮৯ | 6789 | ٦۷۸۹
পরিচ্ছদঃ ৩০৭৬. নবী (সাঃ) এর সুন্নাতের অনুসরণ বাঞ্জনীয়। আর আল্লাহ্ তা’আলার বাণীঃ আমাদেরকে মুত্তাকীদের জন্য আদর্শস্বরূপ কর (২৫ঃ ৭৪)। জনৈক বর্ণনাকারী বলেছেন, এরূপ ইমাম যে আমরা আমাদের পূর্ববর্তীদের অনুসরণ করব, আর আমাদের পরবর্তীরা আমাদের অনুসরণ করবে। ইবন আউন বলেন, তিনটি জিনিস আমি আমার নিজের জন্য ও আমার ভাইদের জন্য পছন্দ করি। (তার একটি হল) এই সুন্নাত, যা শিখবে এবং জানবার জন্য এর সম্পর্কে প্রশ্ন করবে। (দ্বিতীয়টি হল) কুরআন যা তারা ভালভাবে বুঝতে চেষ্টা করবে এবং জানবার জন্য এর সম্পর্কে প্রশ্ন করবে। এবং কল্যাণ ব্যতীত লোকদের থেকে পৃথব থাকবে (অর্থাৎ কল্যাণের প্রতি আহবান করবে)
৬৭৮৯। আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামা (রহঃ) … আসমা বিনত আবূ বকর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার সুর্যগ্রহণের সময় আমি আয়িশা (রাঃ) এর নিকট এলাম। লোকেরা তখন (সালাতে) দাঁড়িয়েছিল এবং তিনিও দাঁড়িয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করছিলেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, লোকদের কি হল? তিনি হাত দিয়ে আসমানের দিকে ইশারা করলেন এবং বললেন, সুবহানাল্লাহ! আমি বললাম, এটা কি কোন নিদর্শন? তখন তিনি মাথা দুলিয়ে হ্যাঁ বললেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত (নামায/নামাজ) শেষ করলেন, তখন (প্রথমে) তিনি আল্লাহর হামদ ও ছানা পাঠ করলেন। তারপর বললেনঃ আমি যা দেখিনি তার সবকিছুই আজকের এই স্থানে দেখেছি। এমন কি জান্নাত ও জাহান্নামও দেখেছি।
আর আমার নিকট ওহী প্রেরণ করা হয়েছে যে, কবরে তোমাদের পরীক্ষায় ফেলা হবে, যা প্রায় দাজ্জালের পরীক্ষার ন্যায়ই (কঠিন) হবে। তবে যারা মুমিন হবে, অথবা (বলেছিলেন) মুসলিম হবে। বর্ণনাকারী বলেন, আসমা (রাঃ) ‘মুমিন’ বলেছিলেন, না ‘মুসলিম’ বলেছিলেন তা আমার স্মরণ নেই। তারা বলবে, মুহাম্মাদ আমাদের কাছে সূস্পষ্ট দলীল নিয়ে এসেছিলেন, আমরা তার আহবানে সাড়া দিয়েছি এবং ঈমান এনেছি। তখন তাকে বলা হবে, তুমি আরামে ঘুমিয়ে থাক, আমরা জানি তুমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী ছিলে। আর যারা মুনাফিক হবে অথবা (বলেছিলেন) সন্দেহকারী হবে, বর্ণনাকারী বলেন, আসমা ‘মুনাফিক’ বলেছিলেন না ‘সন্দেহকারী’ বলেছিলেন তা আমার মনে নেই। তারা বলবে, আমি কিছুই জানিনা, আমি মানুষকে কিছু কথা বলতে শুনেছি, আমিও তাই বলেছি।
হাদিস নম্বরঃ ৬৭৯০ | 6790 | ٦۷۹۰
পরিচ্ছদঃ ৩০৭৬. নবী (সাঃ) এর সুন্নাতের অনুসরণ বাঞ্জনীয়। আর আল্লাহ্ তা’আলার বাণীঃ আমাদেরকে মুত্তাকীদের জন্য আদর্শস্বরূপ কর (২৫ঃ ৭৪)। জনৈক বর্ণনাকারী বলেছেন, এরূপ ইমাম যে আমরা আমাদের পূর্ববর্তীদের অনুসরণ করব, আর আমাদের পরবর্তীরা আমাদের অনুসরণ করবে। ইবন আউন বলেন, তিনটি জিনিস আমি আমার নিজের জন্য ও আমার ভাইদের জন্য পছন্দ করি। (তার একটি হল) এই সুন্নাত, যা শিখবে এবং জানবার জন্য এর সম্পর্কে প্রশ্ন করবে। (দ্বিতীয়টি হল) কুরআন যা তারা ভালভাবে বুঝতে চেষ্টা করবে এবং জানবার জন্য এর সম্পর্কে প্রশ্ন করবে। এবং কল্যাণ ব্যতীত লোকদের থেকে পৃথব থাকবে (অর্থাৎ কল্যাণের প্রতি আহবান করবে)
৬৭৯০। ইসমাঈল (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, তোমরা আমাকে প্রশ্ন করা থেকে বিরত থাক, যতক্ষন না আমি তোমাদের কিছু বলি। কেননা, তোমাদের পূর্বে যারা ছিল, তারা তাদের নাবীদের অধিক প্রশ্ন করা ও নাবীদের সাথে মতবিরোধ করার কারনেই ধ্বংস হয়েছে। তাই আমি যখন তোমাদের কোন বিষয়ে নিষেধ করি তখন তা থেকে বেঁচে থাক। আর যদি কোন বিষয়ে আদেশ করি তাহলে সাধ্যমত পালন কর।
হাদিস নম্বরঃ ৬৭৯১ | 6791 | ٦۷۹۱
পরিচ্ছদঃ ৩০৭৭. অধিক প্রশ্ন করা এবং অনর্থক কষ্ট করা নিন্দনীয় এবং আল্লাহ্ তা’আলার বাণীঃ তোমরা সেসব বিষয়ে প্রশ্ন করো না, যা প্রকাশিত হলে তোমরা দুঃখিত হবে (৫ঃ ১০১)
৬৭৯১। আবদুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদ মুকরী (রহঃ) … আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুসলিমদের সবচেয়ে বড় অপরাধী সেই ব্যাক্তি যে এমন বিষয়ে প্রশ্ন করে যা পূর্বে হারাম ছিল না। কিন্তু তার প্রশ্নের কারণে তা হারাম হয়ে গেছে।
হাদিস নম্বরঃ ৬৭৯২ | 6792 | ٦۷۹۲
পরিচ্ছদঃ ৩০৭৭. অধিক প্রশ্ন করা এবং অনর্থক কষ্ট করা নিন্দনীয় এবং আল্লাহ্ তা’আলার বাণীঃ তোমরা সেসব বিষয়ে প্রশ্ন করো না, যা প্রকাশিত হলে তোমরা দুঃখিত হবে (৫ঃ ১০১)
৬৭৯২। ইসহাক (রহঃ) … যায়িদ ইবনু সাবিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাটাই দিয়ে মসজিদে একটি কামরা তৈরি করেছিলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাতে কয়েক রাত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। এতে লোকেরা তার সঙ্গে সমবেত হত। তারপর এক রাতে তারা তার আওয়াজ শুনতে পেল না এবং তারা মনে করল তিনি ঘুমিয়ে পড়েছেন। তাদের কেউ কেউ গলা খাকার দিতে শুরু করল, যেন তিনি তাদের কাছে বেরিয়ে আসেন। তখন তিনি (নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তোমাদের নিত্য দিনের কার্যকলাপ আমি লক্ষ্য করছি, তাতে আমার ভয় হচ্ছে যে, তোমাদের উপর তা ফরয করে দেওয়া হয়। কিন্তু যদি তোমাদের উপর ফরব করে দেওয়া হয় তাহলে তোমরা তা কায়েম করবে না। অতএব হে লোকেরা! তোমরা নিজ নিজ ঘরে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করো। কেননা, ফরয সালাত (নামায/নামাজ) ছাড়া একজন লোকের সবচেয়ে উত্তম সালাত (নামায/নামাজ) হল যা সে তার ঘরে আদায় করে।
