হাদিস নম্বরঃ ৬৭৮৬ | 6786 | ٦۷۸٦
পরিচ্ছদঃ ৩০৭৬. নবী (সাঃ) এর সুন্নাতের অনুসরণ বাঞ্জনীয়। আর আল্লাহ্ তা’আলার বাণীঃ আমাদেরকে মুত্তাকীদের জন্য আদর্শস্বরূপ কর (২৫ঃ ৭৪)। জনৈক বর্ণনাকারী বলেছেন, এরূপ ইমাম যে আমরা আমাদের পূর্ববর্তীদের অনুসরণ করব, আর আমাদের পরবর্তীরা আমাদের অনুসরণ করবে। ইবন আউন বলেন, তিনটি জিনিস আমি আমার নিজের জন্য ও আমার ভাইদের জন্য পছন্দ করি। (তার একটি হল) এই সুন্নাত, যা শিখবে এবং জানবার জন্য এর সম্পর্কে প্রশ্ন করবে। (দ্বিতীয়টি হল) কুরআন যা তারা ভালভাবে বুঝতে চেষ্টা করবে এবং জানবার জন্য এর সম্পর্কে প্রশ্ন করবে। এবং কল্যাণ ব্যতীত লোকদের থেকে পৃথব থাকবে (অর্থাৎ কল্যাণের প্রতি আহবান করবে)
৬৭৮৬। আবূ কুরায়ব (রহঃ) … আবূ মূসা (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার ও আমাকে আল্লাহ যা কিছু দিয়ে প্রেরন করেছেন তার উপমা হল এমন যে, এক ব্যাক্তি কোন এক সম্প্রদায়ের নিকট এসে বলল, হে কাওম! আমি নিজের চোখে সেনাবাহিনীকে দেখে এসেছি। আমি সুস্পষ্টসতর্ককারী। সুতরাং তোমরা আত্মরক্ষার চেষ্টা কর। কাওমের কিছু লোক তার কথা মেনে নিল, সুতরাং রাতের প্রথম ভাগে তারা সে স্থান ছেড়ে রওনা হল এবং একটি নিরাপদ স্থানে গিয়ে পৌছল। ফলে তারা রক্ষা পেল তাদের থেকে আর একদল লোক তার কথা অবিশ্বাস করল, ফলে তারা নিজেদের আবাসস্থলেই রয়ে গেল। প্রভাভে শক্রবাহিনী তাদের উপর আক্রমণ করল, তাদেরকে ধ্বংস করে দিল এবং তাদেরকে নির্মূল করে দিল। এটাই হল তাদের উপমা, যারা আমার আনুগত্য করে এবং আমি যা নিয়ে এসেছি তার অনুসরণ করে। আর যারা আমার নাফরমানী করে এবং আমি যে সত্য নিয়ে এসেছি তাকে নিথ্যা প্রতিপন্ন করে।
হাদিস নম্বরঃ ৬৭৮৭ | 6787 | ٦۷۸۷
পরিচ্ছদঃ ৩০৭৬. নবী (সাঃ) এর সুন্নাতের অনুসরণ বাঞ্জনীয়। আর আল্লাহ্ তা’আলার বাণীঃ আমাদেরকে মুত্তাকীদের জন্য আদর্শস্বরূপ কর (২৫ঃ ৭৪)। জনৈক বর্ণনাকারী বলেছেন, এরূপ ইমাম যে আমরা আমাদের পূর্ববর্তীদের অনুসরণ করব, আর আমাদের পরবর্তীরা আমাদের অনুসরণ করবে। ইবন আউন বলেন, তিনটি জিনিস আমি আমার নিজের জন্য ও আমার ভাইদের জন্য পছন্দ করি। (তার একটি হল) এই সুন্নাত, যা শিখবে এবং জানবার জন্য এর সম্পর্কে প্রশ্ন করবে। (দ্বিতীয়টি হল) কুরআন যা তারা ভালভাবে বুঝতে চেষ্টা করবে এবং জানবার জন্য এর সম্পর্কে প্রশ্ন করবে। এবং কল্যাণ ব্যতীত লোকদের থেকে পৃথব থাকবে (অর্থাৎ কল্যাণের প্রতি আহবান করবে)
৬৭৮৭। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করলেন। আর তার পরে আবূ বকর (রাঃ) কে খলীফা নির্বাচন করা হল এবং আরবের যারা কাফের হওয়ার তারা কাফের হরে গিয়েছিল। তখন উমর (রাঃ) আবূ বকর (রাঃ) কে বললেন, আপনি কি করে লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন, অথচ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি মানুষের সাথে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলার পূর্ব পর্যন্ত যুদ্ধ করে যাওয়ার জন্য নির্দেশিত হয়েছি। অতএব যে ব্যাক্তি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলে ফেলল সে তার জান ও মাল আমার থেকে নিরাপদ ও সংরক্ষিত করে ফেলল। তবে ইসলামী বিধানের আওতায় পড়ে গেলে সে ভিন্নকথা। তাদের প্রকৃত হিসাব আল্লাহর কাছে হবে।
আবূ বকর (রাঃ) বললেন, যারা সালাত (নামায/নামাজ) ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করে, আমি অবশ্যই তাদের সাথে যুদ্ধ করব। কেননা, যাকাত হল সম্পদের হক (অবশ্য পালনীয় বিধান)। আল্লাহর শপথ! যদি তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট যা আদায় করত, এখন তা (সেভাবে) দিতে অস্বীকার করে, তাহলেও আমি তাদের সাথে যুদ্ধ করব। উমর (রাঃ) বললেনঃ আল্লাহর কসম! আমি দেখছিলাম যে, যুদ্ধ করার ব্যাপারে আল্লাহ তা আলা আবূ বকরের সিনা উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। সুতরাং আমি বুঝতে পারলাম এ সিদ্ধান্তই সঠিক।
(ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেন) ইবন বুকায়র ও আবদুল্লাহ (রহঃ) লায়স এর সুত্রে উকায়ল থেকে বর্ণনা করতে গিয়ে لو منعوني كذا (যদি তারা এই পরিমাণ দিতে অস্বীকার করে) এর স্থলে لو منعوني عناقا (যদি তারা একটি ছোট উটের বাচ্ছাও দিতে অস্বীকার করে) উল্লেখ করেছেন। আর এটাই বিশুদ্ধতম। আর এতিকে লোকেরা عناقا বর্ণনা করেছেন। عز وجل বস্তুত এ স্থানে عقالا পড়া বৈধ নয়। আর عقالا শব্দটি শাবী এর হাদীসে মুরসাল সুত্রে বর্ণিত হয়েছে। অনুরূপভাবে কুতায়বা (রহঃ) عقالا বলেছেন।
হাদিস নম্বরঃ ৬৭৮৮ | 6788 | ٦۷۸۸
পরিচ্ছদঃ ৩০৭৬. নবী (সাঃ) এর সুন্নাতের অনুসরণ বাঞ্জনীয়। আর আল্লাহ্ তা’আলার বাণীঃ আমাদেরকে মুত্তাকীদের জন্য আদর্শস্বরূপ কর (২৫ঃ ৭৪)। জনৈক বর্ণনাকারী বলেছেন, এরূপ ইমাম যে আমরা আমাদের পূর্ববর্তীদের অনুসরণ করব, আর আমাদের পরবর্তীরা আমাদের অনুসরণ করবে। ইবন আউন বলেন, তিনটি জিনিস আমি আমার নিজের জন্য ও আমার ভাইদের জন্য পছন্দ করি। (তার একটি হল) এই সুন্নাত, যা শিখবে এবং জানবার জন্য এর সম্পর্কে প্রশ্ন করবে। (দ্বিতীয়টি হল) কুরআন যা তারা ভালভাবে বুঝতে চেষ্টা করবে এবং জানবার জন্য এর সম্পর্কে প্রশ্ন করবে। এবং কল্যাণ ব্যতীত লোকদের থেকে পৃথব থাকবে (অর্থাৎ কল্যাণের প্রতি আহবান করবে)
৬৭৮৮। ইসমাঈল (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উয়ায়না ইবনু হিসন ইবনু হুযায়ফা ইবনু বাদর (রহঃ) তাঁর ভ্রাতূষ্পুত্র হুর ইবনু কায়স ইবনু হিসন এর নিকট এলেন। উমর (রাঃ) যাদের নিজের সান্নিধ্যে রাখতেন, হুর ইবনু কায়স (রহঃ) ছিলেন তাদেরই একজন। যুবক হোক কিংবা বৃদ্ধ কারী (আলিম) ব্যাক্তিরাই উমর (রাঃ) এর মজলিসের সভাসদ ও পরামর্শদাতা ছিলেন। উয়ায়না তার ভাতিজাকে বললেন, হে ভাতিজা! তোমার কি আমীরের নিকট এতটুকু প্রভাব আছে যে আমার জন্য সাক্ষাতের অনুমতি গ্রহণ করতে পারবে? সে বলল, আমি আপনার ব্যাপারে তাঁর নিকট অনুমতি প্রার্থনা করব। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ তিনি (হুর) উয়ায়নার জন্য অনুমতি চাইলেন।
