যায়িদ (রাঃ) বলেন যে, এরপর আবূ বকর (রাঃ) বললেনঃ তুমি একজন বুদ্ধিদীপ্ত যুবক, তোমার ব্যাপারে আমাদের কোন অভিযোগ নেই। তাছাড়া তুমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওহী লিপিবদ্ধ করতে। সুতরাং কুরআনকে তুমি অনুসন্ধান কর এবং তা একত্রিত কর। যায়িদ (রাঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ! কুরআন সংগ্রহ করে একত্রিত করার আদেশ না দিয়ে যদি আমাকে একটি পাহাড়কে সরিয়ে নেওয়ার গুরু ভার অর্পণ করতো, তাও আমার জন্য ভারী মনে হত না। আমি বললাম, কি করে আপনারা এমন একটি কাজ করবেন যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেননি। আবূ বকর (রাঃ) বললেনঃ আল্লাহর শপথ! এটি একটি ভাল কাজ। আমার পক্ষ থেকে এ কথা বারবার উন্থাপিত হতে থাকল। এক পর্যায়ে আল্লাহ তা’আলা আমার অন্তরে প্রশান্তি দান করলেন, যে বিষয়ে আবূ বকর (রাঃ) ও উমর (রাঃ)-এর অন্তরে প্রশান্তি দান করেছিলেন। এবং তারা যা ভাল মনে করলেন আমিও তা ভাল মনে করলাম।
সুতরাং আমি কুরআন অনুসন্ধান করতে শুরু করলাম। খেজুরের ডাল, পাতলা চামড়ার টুকরা, শ্বেত পাথর ও মানুষের অন্তঃকরণ থেকে আমি কুরআনকে একত্রিত করলাম। সুরা তাওবার শেষ অংশ لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِنْ أَنْفُسِكُمْ إِلَى آخِرِهَا “তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের কাছে এক রাসুল এসেছেন …” (৯ঃ ১২৮) থেকে নিয়ে শেষ পর্যন্ত এই অংশটুকু খুযায়মা কিংবা আবূ খুযায়মার কাছে পেলাম। আমি তা সূরার সাথে সংযোজন করলাম। কুরআনের এই সংকলিত সহীফাগুলো আবূ বকরের জীবনকাল পর্যন্ত তাঁর কাছে ছিল। এরপর আল্লাহ তা’আলা তাকে ওফাত দিলেন। পরে উমরের জীবনকাল পর্যন্ত তার নিকট ছিল। তাঁর মৃত্যুর পর তা হাফসা বিনত উমর (রাঃ) এর কাছে ছিল। মুহাম্মদ ইবনু উবায়দুল্লাহ বলেনঃ হাদীসে ব্যবহাত اللِّخَافُ অর্থ হল চাঁড়া।
হাদিস নম্বরঃ ৬৭০২ | 6702 | ٦۷۰۲
পরিচ্ছদঃ ৩০৪২. শাসকের পত্র কর্মকর্তাদের প্রতি এবং বিচারকের পত্র সচিবদের প্রতি
৬৭০২। আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ ও ইসমাঈল (রহঃ) … সাহল ইবনু আবূ হাসমা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি ও তাঁর গোত্রের কতিপয় বড় বড় ব্যাক্তি বর্ণনা করেন যে, আবদুল্লাহ ইবনু সাহল ও মুহাইয়াসা ক্ষুধায় আক্রান্ত হয়ে খায়বারে আসেন। একদা মুহাইয়াসা জানতে পারেন যে, আবদুল্লাহ নিহত হয়েছে এবং তার লাশ একটি গর্তে অথবা কূপে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তখন তিনি ইহুদীদের কাছে এসে বললেন, আল্লাহর শপথ! নিঃসন্দেহে তোমরাই তাকে হত্যা করেছ। তারা বলল, আল্লাহর কসম করে বলছি, আমরা তাকে হত্যা করিনি। তারপর তিনি তার গোত্রের নিকট এসে এ ঘটনা বর্ণনা করলেন। পরে তিনি, তার বড় ভাই হুওয়াইয়াসা এবং আবদুর রহমান ইবনু সাহল আসলেন। মুহাইয়াসা যিনি খায়বারে ছিলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে এ ঘটনা বলার জন্য অগ্রসর হলেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ বড়কে কথা বলতে দাও, বড়কে কথা বলতে দাও। তিনি এতে উদ্দেশ্য করেছেন বয়সে প্রবীণকে।
তখন হুওয়াইয়াসা প্রথমে ঘটনা বর্ণনা করলেন। এরপর কথা বললেন, মুহাইয়াসা। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হয়ত তারা তোমাদের মৃত সঙ্গীর রক্তপণ আদায় করবে, না হয় তাদের সাথে যুদ্ধের ঘোষণা দেওয়া হবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কাছে এ মর্মে চিঠি লিখলেন। জবাবে তাদের পক্ষ থেকে লেখা হল যে, আমরা তাকে হত্যা করিনি। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুওয়াইয়াসা, মুহাইয়াসা ও আবদুর রহমানকে বললেনঃ তোমরা কি কসম খেয়ে বলতে পারবে? তাহলে তোমরা তোমাদের সাথীর রক্তপণের অধিকারী হতে পারবে। তারা বলল, না। তিনি বললেনঃ তাহলে ইহুদীরা কি তোমাদের সামনে কসম করবে? তাঁরা বলল, এরা তো মুসলিম নয়। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের পক্ষ থেকে একশ, উট রক্তপণ হিসাবে আদায় করে দিলেন। শেষ পর্যন্ত উটগুলোকে ঘরে প্রবেশ করানো হল। সাহল বলেন, একটি উট আমাকে লাথি মেরেছিল।
হাদিস নম্বরঃ ৬৭০৩ | 6703 | ٦۷۰۳
পরিচ্ছদঃ ৩০৪৩. কোন বিষয়ের তদন্ত করার জন্য প্রশাসকের পক্ষ থেকে একজন মাত্র লোককে পাঠানো বৈধ কিনা?
৬৭০৩। আদম (রহঃ) … আবূ হুরায়রা ও যায়িদ ইবনু খালিদ জুহানী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তারা বর্ননা করেন যে, একজন বেদুঈন এসে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাবের ভিত্তিতে বিচার করুন। তার বিবাদী পক্ষ দাঁড়িয়ে বলল, সে ঠিকই বলছে। আপনি আমাদের মধ্যে আল্লাহর কিতাবের ভিত্তিতে ফায়সালা করুন। তারপর বেদুঈন বলল যে, আমার ছেলে এই লোকটির এখানে মজুর হিসাবে কাজ করত। সে তার স্ত্রীর সাথে যিনা করে ফেলেছে। লোকেরা আমাকে বলল তোমার ছেলেকে রজম (প্রস্তরঘাতে হত্যার দণ্ড) করা হবে। আমি একশ’ বকরী ও একটি দাসী দিয়ে আমার ছেলেকে তার থেকে মুক্ত করে এনেছি।
পরে আমি এ বিষয়ে আলেমদের জিজ্ঞাসা করলে তাঁরা বললেন, তোমার পুত্রকে একশ’ বেত্রাঘাত ও এক বছরের জন্য দেশান্তরের শাস্তি ভোগ করতে হবে। (এ শুনে) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি অবশ্যই আল্লাহর কিতাবের ভিত্তিতে তোমাদের মাঝে ফায়সালা করব। দাসী ও বকরীগুলো তুমি ফেরত পাবে। আর তোমার ছেলেকে একশ’ বেত্রাঘাত ও এক বছরের জন্য দেশান্তরের শাস্তি ভোগ করতে হবে। হে উনায়স! তুমি কাল এ লোকের স্ত্রীর নিকট যাও এবং তাকে রজম কর। অতঃপর উনায়স সেই স্ত্রী লোকের কাছে গিয়ে তাকে রজম করল।
