হাদিস নম্বরঃ ৬৬৯৮ | 6698 | ٦٦۹۸
পরিচ্ছদঃ ৩০৩৮. অত্যন্ত ঝগড়াটে সে, যে সর্বক্ষন ঝগড়ায় লিপ্ত থাকে। لُدًّا عُوجًا অর্থাৎ বক্রতা।
৬৬৯৮। মুসাদ্দাদ (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহর কাছে সবচাইতে ঘৃণ্য ব্যাক্তি হল সে, যে সর্বক্ষণ ঝগড়ায় লিপ্ত থাকে।
হাদিস নম্বরঃ ৬৬৯৯ | 6699 | ٦٦۹۹
পরিচ্ছদঃ ৩০৩৯. বিচারক যদি রায় প্রদানের ক্ষেত্রে অবিচার করেন কিংবা আহলে ইলমের মতামতের উল্টো ফায়সালা প্রদান করেন তাহলে তা গ্রহনযোগ্য নয়
৬৬৯৯। মাহমুদ ও নুআয়ম (রহঃ) … ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খালিদ ইবনু ওয়ালীদকে জাযীমা গোত্রের দিকে প্রেরণ করলেন। কিন্তু তারা উত্তমরূপে ‘আমরা ইসলাম গ্রহণ করেছি’ কথাটি বলতে পারল না। বরং বলল, ‘সাবানা’ ‘সাবানা’ (আমরা পুরাতন ধর্ম ত্যাগ করে নতুন ধর্ম গ্রহণ করেছি)। এরপর খালিদ তাদের হত্যা ও বন্দী করতে শুরু করলেন। আর আমাদের প্রত্যেকের কাছে বাদী হাওয়ালা করলেন এবং প্রত্যেককে নিজ বন্দীকে হত্যা করার নির্দেশ দিলেন। আমি বললাম, আল্লাহর কসম! আমি আমার বন্দীকে হত্যা করব না এবং আমার সঙ্গীদের কেউ তার বন্দীকে হত্যা করবে না। এরপর এ ঘটনা আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে বর্ণনা করলাম। তখন তিনি বললেনঃ ইয়া আল্লাহ! খালিদ ইবনু ওয়ালীদ যা করেছে তা থেকে আমি আপনার অব্যাহতি কামনা করছি। এ কথাটি তিনি দু’বার বললেন।
হাদিস নম্বরঃ ৬৭০০ | 6700 | ٦۷۰۰
পরিচ্ছদঃ ৩০৪০. ইমামের কোন গোত্রের কাছে গিয়ে তাদের মধ্যে নিষ্পত্তি করে দেওয়া
৬৭০০। আবু নুমান (রহঃ) … সাহল ইবনু সা’দ সাঈদী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বনী আমের গোত্রে (আত্নঘাতী) সংঘর্ষ ছিল। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এ সংবাদ পৌছল। তিনি যোহরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করার পর তাদের মধ্যে মিমাংসা করার জন্য আসলেন। (আসার সময়) তিনি বিলালকে বললেনঃ যদি সালাত (নামায/নামাজ) এর সময় হয়ে যায় আর আমি এসে না পৌছি, তাহলে আবূ বকরকে বলবে, সে যেন লোকদের নিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে। যখন আসরের সময় হল, বিলাল (রাঃ) আযান দিলেন। অতঃপর ইকামত দিয়ে আবূ বকরকে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে বললেন। আবূ বকর (রাঃ) সামনে গেলেন। আবূ বকর (রাঃ) এর সালাত (নামায/নামাজ)রত অবস্থায়ই নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এলেন এবং মানুষকে ফাঁক করে আবূ বকরের পিছনে দাঁড়ালেন। অর্থাৎ আবূ বকরের সংলগ্ন কাতার পর্যন্ত অগ্রসর হলেন। রাবী বলেন, লোকেরা হাততালি দিল। তিনি আরও বলেন যে, আবূ বকর (রাঃ) যখন সালাত (নামায/নামাজ) শুরু করতেন তখন সালাত (নামায/নামাজ) শেষ না হওয়া পর্যন্ত এদিক-সেদিক তাকাতেন না।
তিনি যখন দেখলেন যে, হাততালি বন্ধ হচ্ছে না তখন তিনি তাকালেন এবং নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তার পিছনে দেখতে পেলেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাতের ইশারায় তাকে সালাত (নামায/নামাজ) পুর্ণ করতে বললেন এবং যেভাবে আছো সে ভাবেই থাকতে বললেন। আবূ বকর (রাঃ) কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলেন এবং নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নির্দেশের উপর আল্লাহর প্রশংসা করলেন। এরপর পিছনে সরে আসলেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ অবস্থা দেখে সামনে গেলেন এবং লোকদের নিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। যখন সালাত (নামায/নামাজ) শেষ হল, তখন তিনি আবূ বকরকে বললেনঃ আমি যখন তোমাকে ইশারা করলাম, তখন তোমায় কি জিনিস বাধা দিল যে, তুমি সালাত (নামায/নামাজ) পূর্ন করলে না। তিনি বললেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইমামত করার দুঃসাহস ইবনু আবূ কুহাফার কখনই নেই। এরপর তিনি লোকদের বললেনঃ সালাতে তোমাদের কোনরূপ জটিলতা সৃষ্টি হলে পুরুষরা সুবহানাল্লাহ বলবে আর নারীরা হাতের উপর হাত মেরে আওয়াজ দেবে।
হাদিস নম্বরঃ ৬৭০১ | 6701 | ٦۷۰۱
পরিচ্ছদঃ ৩০৪১. লিপিবদ্ধকারীকে আমানতদার ও বুদ্ধিমান হওয়া বাঞ্ছনীয়
৬৭০১। আবূ সাবিত মুহাম্মাদ ইবনু উবায়দুল্লাহ (রহঃ) … যায়িদ ইবনু সাবিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আবূ বকর (রাঃ) আমার নিকট লোক পাঠালেন, ইয়ামামার যুদ্ধে শাহাদত বরণকারীদের কারণে তখন তার কাছে উমর (রাঃ)-ও উপস্থিত ছিলেন। আবূ বকর (রাঃ) বললেন, উমর (রাঃ) আমার কাছে এসে বলেছেন যে, কুরআনের বহু সংখ্যক হাফিয ইয়ামামার যুদ্ধে শহীদ হয়েছে। এজন্য আমার ভয় হচ্ছে যে, আরো অনেক স্থানে যদি কুরআনের হাফিযগণ এরূপ ব্যাপক হারে শহীদ হন তাহলে কুরআনের বহু অংশ বিলুপ্ত হয়ে যাবে। সুতরাং আমি মনে করি যে, আপনি কুরআন সংকলনের নির্দেশ দিন। আমি বললাম, কি করে আমি এমন কাজ করব যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেননি। উমর (রাঃ) বললেনঃ আল্লাহর কসম! এটা একটা ভাল কাজ। উমর (রাঃ) আমাকে এ ব্যাপারে বারবার বলছিলেন। এক পর্যায়ে আল্লাহ তা’আলা এ বিষয়ে আমার অন্তরে প্রশান্তি দান করলেন। যে বিষয়ে তিনি উমর (রাঃ) এর অন্তরেও প্রশান্তি দান করেছিলেন এবং আমিও এ বিষয়ে একমত পোযণ করলাম যা উমর (রাঃ) মত পোষন করেছিলেন।
