হাদিস নম্বরঃ ৫২০৯ | 5209 | ۵۲۰۹
পরিচ্ছদঃ ২২৩২. সুপেয় পানি তালাশ করা
৫২০৯। আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামা (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ তালহা (রাঃ) ছিলেন মদিনার আনসারীদের মধ্যে সবার চাইতে বেশী খেজুর গাছের মালিক। আর তার নিকট তার প্রিয় সম্পদ ছিল ‘বায়রুহা’ নামক বাগানটি। সেটি ছিল মসজিদে নববীর ঠিক সামনে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বাগানে যেতেন এবং সেখানে অবস্থিত সুপেয় পানি পান করতেন।
আনাস (রাঃ) বলেন, যখন আয়াত অবর্তীর্ণ হলঃ তোমরা ততক্ষন পর্যন্ত কল্যাণ অর্জন করতে সক্ষম হবে না যতক্ষন তোমরা তোমাদের প্রিয় জিনিস থেকে ব্যয় করবে”। তখন আবূ তালহা (রাঃ) দাড়িয়ে গেলেন এবং বললেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আল্লাহ ইরশাদ করেছেন যা ভালবাস তা থেকে ব্যয় না করা পর্যন্ত তোমরা কখনো পূণ্য লাভ করবে না। (আলে ইমরানঃ ৯২)। আর আমার নিকট সবচাইতে প্রিয় সম্পপদ হল ‘বায়রুহা’ নামক বাগান। এটিকে আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সাদকা করে দিলাম এবং আমি আল্লাহর কাছে এটির সাওয়াব এবং এটির সঞ্চয় আশা করি। ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি এটিকে গ্রহন করুন আল্লাহর ইচ্ছায় যেখানে ব্যয় করতে আপনি ভাল মনে করেন! সেখানে ব্যয় করুন।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন খুব ভাল, এটিতো লাভজনক সম্পপদ কিংবা তিনি বলেছেন এটিতো মুনাফা দানকারী সম্পদ। কথাটির মধ্যে রাবী আবদুল্লাহ দ্বিধা পোষণ করেছেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তুমি যা বলেছ, আমি তা শুনেছি। তবে আমি ভাল মনে করি যে, তুমি এটিকে আপন আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে বণ্টন করে দেবে। আবূ তালহা (রাঃ) বললেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি এমনটই করবো। এরপর আবূ তালহা (রাঃ) বাগানটি তার আত্মীয়দের মধ্যে এবং তার চাচাত ভাইদেয় মধ্যে বণ্টন করে দিলেন। ইসমাঈল ও ইয়াহইয়া رَابِحٌ এর স্থলে رائح বর্ণনা করেছেন।
হাদিস নম্বরঃ ৫২১০ | 5210 | ۵۲۱۰
পরিচ্ছদঃ ২২৩৩. পানি মিশ্রিত দুধ পান করা
৫২১০। আবদান (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তাঁর বাড়ীতে এসে দুধ পান করতে দেখেন। আনাস (রাঃ) বলেন, আমি একটি বকরী দোহন করলাম। এবং কূপ থেকে পানি তুলে তা মিশিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে পেশ করলাম। তিনি পেয়ালাটি নিয়ে পান করেন। তার বাঁদিকে ছিলেন আবূ বকর (রাঃ) ও ডান দিকে ছিল জনৈক বেদুঈন। তিনি বেদুঈনকে তার অবশিষ্ট দুধ দিলেন। এরপর বললেনঃ ডান দিকের রয়েছে অগ্রাধিকার।
হাদিস নম্বরঃ ৫২১১ | 5211 | ۵۲۱۱
পরিচ্ছদঃ ২২৩৩. পানি মিশ্রিত দুধ পান করা
৫২১১। আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) … জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে,, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারদের এক ব্যাক্তির নিকট গেলেন। তার সঙ্গে ছিলেন তাঁর এক সাহাবী। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারীকে বললেনঃ তোমার নিকট যদি মশকে রক্ষিত গত রাতের পানি থাকে তাহলে আমাদের পান করাও আর না থাকলে আমরা সামনে গিয়ে পান করব। রাবী বলেন লোকটি তখন তার বাগানে পানি দিচ্ছিল। বর্ণনাকারী বলেন, লোকটি উত্তর করল ইয়া রাসুলাল্লাহ আমার কাছে গত রাতের পানি আছে। আপনি ঝুপড়ীতে চলুন। বর্ণনাকারী বলেনঃ এরপর লোকটি তাদের দুজনকে নিয়ে গেল এবং একটি পেয়ালায় পানি নিয়ে তাতে তার একট বকরীর দুধ দোহন করল। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা পান করলেন, তারপর তাঁর সঙ্গে আগন্তক লোকটিও পান করলেন।
হাদিস নম্বরঃ ৫২১২ | 5212 | ۵۲۱۲
পরিচ্ছদঃ ২২৩৪. মিষ্টি দ্রব্য ও মধু পান করা। যুহরী (র) বলেছেন, ভীষণ মারাত্মক অবস্থার সৃষ্টি হলেও মানুষের পেশাব নাপাক। কেননা পেশাব অপবিত্র। আল্লাহ তা’আলা ইরশাদঃ “তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে সকল পবিত্র জিনিস।” ইবন মাসউদ (রাঃ) নেশাদ্রব্য সম্পর্কে বলেছেনঃ আল্লাহ্ তোমাদের উপর যে সকল জিনিস হারাম করেছেন তাতে তোমাদের জন্য কোন নিরাময় রাখেন নি।
৫২১২। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট সবচেয়ে পছন্দনীয় জিনিস ছিল মিষ্টি দ্রব্য ও মধু।
হাদিস নম্বরঃ ৫২১৩ | 5213 | ۵۲۱۳
পরিচ্ছদঃ ২২৩৫. দাঁড়ানো অবস্থায় পান করা
৫২১৩। আবূ নুআয়ম (রহঃ) … নাযযাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কুফা মসজিদের ফটকে আলী (রাঃ) এর নিকট পানি আনা হলে তিনি দন্ডায়মান অবস্থায় তা পান করলেন। এরপর বললেনঃ লোকজনের মধ্যে কেউ কেউ দণ্ডায়মান অবস্থায় পান করাকে মাকরূহ মনে করে, অথচ আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখেছি তোমরা আমাকে যেরূপভাবে পান করতে দেখলে তিনিও সে রূপ করেছেন।
হাদিস নম্বরঃ ৫২১৪ | 5214 | ۵۲۱٤
পরিচ্ছদঃ ২২৩৫. দাঁড়ানো অবস্থায় পান করা
৫২১৪। আদম (রহঃ) … নাযযাল ইবনু সাবরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) এর সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি যোহরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেন। এরপর তিনি মানুষের নানাবিধ প্রয়োজনীয় কাজে কুফা মসজিদের চত্বরে বসে পড়লেন। অবশেষে আসরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায়ের সময় হয়ে গেল। তখন পানি আনা হল। তিনি পানি পান করলেন এবং নিজের মুখমণ্ডল ও উভয় হাত ধৌত করলেন। বর্ণনাকারী আদম এখানে তাঁর মাথার কথাও উল্লেখ করেন এবং ধৌত করার কথাও উল্লেখ করেন। এরপর আলী (রাঃ) দাঁড়ালেন এবং তিনি দাঁড়ান অবস্থায় উযূ (ওজু/অজু/অযু)র উদ্বৃত্ত পানি পান করে নিলেন। এরপর তিনি বললেনঃ লোকজন দণ্ডায়মান অবস্থায় পান করাকে মাকরূহ মনে করে, অথচ আমি যেমন করেছি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও তেমন করেছেন।
