হাদিস নম্বরঃ ৫৮১৮ | 5818 | ۵۸۱۸
পরিচ্ছদঃ ২৫৭৮. যে সালামের জবাব দিল এবং বললঃ ‘ওয়ালাইকাস সালাম’। [জিবরীল (আঃ) এর সালামের জবাবে আয়শা (রাঃ)] ‘ওয়া আলাইহিস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ ওয়া বারাকাতুহু’ বলেছেন। আর নবী (সাঃ) বলেনঃ আদম (আঃ) এর সালামের জবাবে ফিরিশতাগণ বলেনঃ আসসালামু আলাইকা ওয়া রাহমাতুল্লাহ
৫৮১৮। ইবনু বাশশার (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তারপর উঠে বস প্রশান্তির সাথে।
হাদিস নম্বরঃ ৫৮১৯ | 5819 | ۵۸۱۹
পরিচ্ছদঃ ২৫৭৯. যদি কেউ বলে যে, অমুক তোমাকে সালাম করেছে
৫৮১৯। আবূ নুয়াইম (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। একদিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ জিবরীল (আলাইহিস সালাম) তোমাকে সালাম করেছেন। তখন তিনি বললেনঃ ওয়ালাইহিসসালাম সালাম ওয়ারাহমাতুল্লাহ।
হাদিস নম্বরঃ ৫৮২০ | 5820 | ۵۸۲۰
পরিচ্ছদঃ ২৫৮০. মুসলিম ও মুশরিকদের মিশ্রিত মাজলিসে সালাম দেয়া
৫৮২০। ইবরাহীম ইবনু মূসা (রহঃ) … উসামা ইবনু যায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, একবার নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন একটি গাধার উপর সাওয়ার হলেন, যার জ্বীনের নীচে ফাদাকের তৈরী একখানি চাঁদর ছিল। তিনি উসামা ইবনু যায়দকে নিজের পেছনে বসিয়ে ছিলেন। তখন তিনি হারিস ইবনু খাযরাজ গোত্রের সা’দ ইবনু উবাদা এর দেখাশোনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন। এটি ছিল বদর যুদ্ধের আগের ঘটনা। তিনি এমন এক মজলিসের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, সেখানে মুসলমান, প্রতিমাপূজক মুশরিক ও ইয়াহুদী ছিল। তাদের মধ্যে আবদুল্লাহ ইবনু উবাই ইবনু সালুলও ছিল। আর এ মজলিসে আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা (রাঃ)ও উপস্থিত ছিলেন। যখন সাওয়ারীর পদাঘাতে উড়ন্ত ধূলাবালী মজলিসকে ঢেকে ফেলছিল। তখন আবদুল্লাহ ইবনু উবাই তার চাঁদর দিয়ে তার নাক ঢাকল।
তারপর বললঃ তোমরা আমাদের উপর ধুলাবালু উড়িয়োনা। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সালাম করলেন। তারপর এখানে থামলেন ও সাওয়ারী থেকে নেমে তাদের আল্লাহর প্রতি আহবান করলেন এবং তাদের কাছে কুরআন পাঠ করলেন। তখন আবদুল্লাহ ইবনু উবাই ইবনু সালুল বললোঃ হে আগত ব্যাক্তি! আপনার এ কথার চেয়ে সুন্দর আর কিছু নেই। তবে আপনি যা বলছেন, যদিও তা সত্য, তবুও আপনি আমাদের মজলিসে এসব বসে আামাদের বিরক্ত করবেন না। আপনি আপনার নিজ ঠিকানায় ফিরে যান।
এরপর আমাদের মধ্য থেকে কেউ আপনার নিকট গেলে তাকে এসব কথা বলবেন। তখন ইবনু রাওয়াহা (রাঃ) বললেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি আমাদের মজলিসে আসবেন, আমরা এসব কথা পছন্দ করি। তখন মুসলিম, মুশরিক ও ইয়াহুদীদের মধ্যে পরস্পর গালাগালি শুরু হয়ে গেল। এমন কি তারা একে অন্যের উপর আক্রমণ করতে উদ্যত হল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের থামাতে লাগলেন। অবশেষে তিনি তার সাওয়ারীতে আরোহন করে রওয়ানা হলেন এবং সা’দ ইবনু উবাদার কাছে পৌছলেন।
তারপর তিনি বললেন হে সা’দ! আবূ তুরাব অর্থাৎ আবদুল্লাহ ইবনু উবাই কি বলেছে, তা কি তুমি শুনোনি? সা’দ (রাঃ) বললেনঃ সে এমন কথাবার্তা বলেছে। তিনি আরো বললেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি তাকে মাফ করে দিন। আর তার কথা ছেড়ে দিন। আল্লাহর কসম! আল্লাহ তা আলা আপনাকে যে সব নিয়ামত দান করার ছিল তা সবই দান করেছেন। পক্ষান্তরে এ শহরের অধিবাসীরা তো পরামর্শ করে সিধান্ত নিয়েছিল যে, তারা তাকে রাজ মুকুট পরবে। আর তার মাথায় রাজকীয় পাগড়ী বেধে দিবে। কিন্তু আল্লাহ তাআলা আপনাকে যে দ্বীনে হক দান করেছেন, তা দিয়ে তিনি তাদের সিদ্ধান্তকে বাতিল করে দিয়েছেন। ফলে সে (ক্ষোভানলে) জ্বলছে এজন্যই সে আপনার সঙ্গে যে আচরন করেছে, তা আপনি নিজেই প্রত্যাক্ষ করেছেন। তারপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে মাফ করে দিলেন।
হাদিস নম্বরঃ ৫৮২১ | 5821 | ۵۸۲۱
পরিচ্ছদঃ ২৫৮১. গুনাহগার ব্যক্তির তাওবাহ করার আলামাত প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত যিনি তাকে সালাম করেননি এবং তার সালামের জবাবও দেননি। আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলেনঃ শারাবখোরদের সালাম দিবে না।
৫৮২১। ইবনু বুকায়র (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু কা’ব (রাঃ) বলেনঃ যখন কাব ইবনু মালিক (রাঃ) তাবুকের যূদ্ধে অংশ গ্রহন না করে পশ্চাতে রয়ে যান, আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাথে সালাম কালাম করতে সবাইকে নিষেধ করে দেন। (তখনকার ঘটনা) আমি কাব ইবনু মালিক (রাঃ) কে বলতে শুনেছি যে, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসতাম এবং তাকে সালাম করতাম আর মনে মনে বলতাম যে, আমার সালামের জবাবে তার ঠোট দুখানা নড়ছে কিনা। পঞ্চাশ দিন পূর্ণ হলে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাত (নামায/নামাজ) এর সময় ঘোষনা দিলেন যে, আল্লাহ তা’আলা আমাদের তাওবা কবুল করেছেন।
হাদিস নম্বরঃ ৫৮২২ | 5822 | ۵۸۲۲
পরিচ্ছদঃ ২৫৮২. অমুসলিমদের সালামের জবাব কিভাবে দিতে হয়
৫৮২২। আবূল ইয়ামান (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার একদল ইয়াহুদী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললোঃ আসসামু আলায়কা। (তোমার মূত্যু হোক! (নাউযুবিল্লাহ) আমি একথার মর্ম বুঝে বললাম, আলাইকুমুস সামু ওয়ালা লানাতু। (তোমাদের উপর মৃত্যু ও লানত)। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে “আয়িশা! তুমি থামো। আল্লাহ সর্বাবস্থায়ই বিনয় পছন্দ করেন। আমি বললাম ইয়া রাসুলাল্লাহ! তারা যা বললো তা কি আপনি শুনেন নি? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ জন্যই আমিও বলেছি, ওয়া আলাইকুম (তোমাদের উপরও)।
