তখন উমর বলেনঃ কারন আল্লাহ কসম! তোমারে এ কথার উপর অবশ্যই প্রমান পেশ করতে হবে। তিনি সবাইকে জিজ্ঞেস করলেন তোমাদের মধ্যে কেউ আছে কি? যিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ হাদীস শুনেছে? তখন উবাই ইবনু কাব (রাঃ) বললেন আল্লাহর কসম! আপনার কাছে প্রমাণ দিতে দলের সর্ব কনিষ্ঠ বাক্তই উঠে দাঁড়াবে। আর আমিই দলের সর্ব কনিষ্ঠ ছিলাম। সুতরাং আমি তার সঙ্গে উঠে দাঁড়িয়ে বললামঃ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবশ্যই এ কথা বলেছেন।
হাদিস নম্বরঃ ৫৮১২ | 5812 | ۵۸۱۲
পরিচ্ছদঃ ২৫৭৪. যখন কোন ব্যক্তিকে ডাকা হয় আর সে আসে, সেও কি প্রবেশের অনুমতি নিবে? আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত । নাবী (সাঃ) বলেছেনঃ এ ডাকাই তার জন্য অনুমতি।
৫৮১২। আবূ নুয়াঈম ও মুহাম্মদ ইবনু মুকাতিল (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন একদিন আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে তার ঘরে প্রবেশ করলাম। তিনি ঘরে গিয়ে একটি পেয়ালা দুধ পেলেন। তিনি আমাকে বললেনঃ হে আবূ হির! তুমি আহলে সুফফার নিকট গিয়ে তাদের আমার নিকট ডেকে আন। তখন আমি তাদের কাছে গিয়ে দাওয়াত দিয়ে এলাম। তারপর তারা এল এবং প্রবেশের অনুমতি চাইলে তাদের অনুমতি দেয়া হলো। তারপর তারা প্রবেশ করলো।
হাদিস নম্বরঃ ৫৮১৩ | 5813 | ۵۸۱۳
পরিচ্ছদঃ ২৫৭৫. শিশুদের সালাম দেয়া
৫৮১৩। আলী ইবনু জাদ (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, একবার তিনি একদল শিশুর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি তাদের সালাম করে বললেনঃ যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও তা করতেন।
হাদিস নম্বরঃ ৫৮১৪ | 5814 | ۵۸۱٤
পরিচ্ছদঃ ২৫৭৬. মহিলাকে পুরুষেদের এবং পুরুষকে মহিলাদের সালাম দেয়া
৫৮১৪। আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামা (রহঃ) … সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা জুমুআর দিনে আনন্দিত হতাম। রাবী বলেন, আমি তাকে বললামঃ কেন? তিনি বললেনঃ আমাদের একজন বৃদ্ধা মহিলা ছিল। সে কোন একজনকে ‘বুদাআ’ নামক খেজুর বাগানে পাঠাত সে বীট চিনির শিকড় আনতো। তা একটি ডেগচিতে ফেলে সে তাতে কিছুটা যবের দানা দিয়ে ঘুটত ফলে তাতে এক প্রকার খাবার তৈরী করত। এরপর আমরা যখন জুমু’আর সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে ফিরতাম, তখন আমরা ঐ মহিলাকে সালাম দিতাম। তখন সে আমাদের ঐ খাবার পরিবেশন করত আমরা এজন্য খুশী হতাম। আমাদের অভ্যাস ছিল যে, আমরা জুমু’আর পরেই মধ্যাহ্ন ভোজন ও মধ্যাহ্ন বিশ্রাম করতাম।
হাদিস নম্বরঃ ৫৮১৫ | 5815 | ۵۸۱۵
পরিচ্ছদঃ ২৫৭৬. মহিলাকে পুরুষেদের এবং পুরুষকে মহিলাদের সালাম দেয়া
৫৮১৫। ইবনু মুকাতিল (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে আয়শা! ইনি জিবরীল (আলাইহিস সালাম) তোমাকে সালাম দিয়েছেন। তখন আমিও বললাম ওয়া আলাইকুমুসসালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে উদ্দেশ্য করে বললেনঃ আমরা যা দেখছিনা, তা আপনি দেখছেন। ইউনুস যুহরি সুত্রে বলেন এবং ‘বারাকাতুহু’ও বলেছেন।
হাদিস নম্বরঃ ৫৮১৬ | 5816 | ۵۸۱٦
পরিচ্ছদঃ ২৫৭৭. যদি কেউ কারো সম্পরকে জিজ্ঞেস করেন যে, ইনি কে? আর তিনি বলেন, আমি
৫৮১৬। আবূল ওয়ালীদ হিশাম ইবনু আব্দুল মালিক (রহঃ) … জাবির (রাঃ) বলেন, আমার পিতার কিছু ঋণ ছিল। এ বিষয়ে আলোচনা করার জন্য আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এলাম এবং দরজায় করাঘাত করলাম। তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ কে? আমি বললামঃ আমি। তখন তিনি বললেনঃ আমি আমি যেন তিনি তা অপছন্দ করলেন।
হাদিস নম্বরঃ ৫৮১৭ | 5817 | ۵۸۱۷
পরিচ্ছদঃ ২৫৭৮. যে সালামের জবাব দিল এবং বললঃ ‘ওয়ালাইকাস সালাম’। [জিবরীল (আঃ) এর সালামের জবাবে আয়শা (রাঃ)] ‘ওয়া আলাইহিস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ ওয়া বারাকাতুহু’ বলেছেন। আর নবী (সাঃ) বলেনঃ আদম (আঃ) এর সালামের জবাবে ফিরিশতাগণ বলেনঃ আসসালামু আলাইকা ওয়া রাহমাতুল্লাহ
৫৮১৭। ইসহাক ইবনু মানসুর (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যাক্তি মসজিদে প্রবেশ করল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদের একপার্শ্বে উপবিষ্ট ছিলেন। সে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে এসে তাকে সালাম করন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ওয়া আলাইকাস সালাম; তুমি ফিরে যাও এবং সালাত (নামায/নামাজ) আদায় কর। কেননা তুমি সালাত (নামায/নামাজ) আদায় কর নি। সে ফিরে গিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে এসে আবার সালাম করল। তিনি বলেনঃ ওয়া আলাইকাস সালাম তুমি ফিরে যাও এবং সালাত (নামায/নামাজ) আদায় কর। কেননা তুমি সালাত (নামায/নামাজ) আদায় কর নি। সে ফিরে গিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে তাকে সালাম করল। তখন সে দ্বিতীয় বারের সময় অথবা তার পরের বারে বললঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি আমাকে সালাত (নামায/নামাজ) শিখিয়ে দিন।
তিনি বললেনঃ যখন তুমি সালাতে দাঁড়াবার ইচ্ছা করবে, তখন প্রথমে তুমি যথাবিধি উযূ (ওজু/অজু/অযু) করবে। তারপর কিবলামুখী দাঁড়িয়ে তাকবীর বলবে। তারপর কুরআন থেকে যে অংশ তোমার পক্ষে সহজ হবে তা তিলাওয়াত করবে। তারপর তুমি রুকু করবে প্রশান্তভাবে। তারপর মাথা তুলে ঠিক সোজা হয়ে দাঁড়াবে। তারপর তুমি সিজদা করবে প্রশান্তভাবে। তারপর মাথা তুলে বসবে প্রশান্তভাবে। তারপর সিজদা করবে প্রশান্তভাবে। তারপর আবার মাথা তুলে বসবে প্রশান্তভাবে। তারপর ঠিক এভাবেই তোমার সালাত (নামায/নামাজ) এর সকল কাজ সম্পন্ন করবে। আবূ উসামা বলেন, এমনকি শেষে তুমি সোজা হয়ে দাঁড়াবে।
