হাদিস নম্বরঃ ৫৭৮২ | 5782 | ۵۷۸۲
পরিচ্ছদঃ ২৫৫০. আসমানের দিকে চোখ তোলা। মহান আল্লাহর বানীঃ “লোকেরা কি উষ্ট্রের প্রতি লক্ষ্য করে না যে, তা কিভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে। আর তারা কি আসমানের দিকে তাকায় না যে, তা কিভাবে এত উচু করে রাখা হয়েছে” আয়শা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, একদিন নবী (সাঃ) আসমানের দিকে মাথা তোলেন
৫৭৮২। ইবনু আবূ মারইয়াম (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এক রাতে মায়মুনা (রাঃ) এর ঘরে অবস্থান করছিলাম। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও তার গৃহে ছিলেন। যখন রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অথবা কিয়দংশ বাকী ছিল তখন তিনি উঠে বসলেন এবং আসমানের দিকে তাকিয়ে পাঠ করলেনঃ নিশ্চয়ই আসমানসমুহের ও যমীনের সৃষ্টি করার মধ্যে এবং দিন রাতের পরিবরর্তনে জ্ঞানীদের জন্য নিদর্শন রয়েছে।
হাদিস নম্বরঃ ৫৭৮৩ | 5783 | ۵۷۸۳
পরিচ্ছদঃ ২৫৫১. (কোন কিছু তালাশ করার উদ্দেশ্যে) পানি ও কাদার মধ্যে লাঠি দিয়ে ঠোকা দেওয়া
৫৭৮৩। মুসাদ্দাদ (রহঃ) … আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। একবার তিনি মদিনার কোন এক বাগানে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাতে একটা লাঠি ছিল। তিনি তা দিয়ে পানি ও কাদার মাঝে ঠোকা দিচ্ছিলেন। এমন সময় এক ব্যাক্তি এসে দরজা খোলার অনুমতি চাইলেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন তার জন্য খুলে দাও এবং তাকে জান্নাতের সংবাদ দাও। তখন আমি গিয়ে দেখলাম যে, তিনি আবূ বকর (রাঃ)। আমি তার জন্য দরজা খুলে দিলাম এবং জান্নাতের সংবাদ দিলাম। তারপর আরেক ব্যাক্তি দরজা খোলার অনুমতি চাইলেন। তিনি বললেনঃ খুলে দাও এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও। তখন দেখলামঃ তিনি উমর (রাঃ)। আমি তাকে দরজা খুলে দিলাম এবং জান্নাতের সুসংবাদ জানালাম। আবার আরেক ব্যাক্তি দরজা খোলার অনুমতি চাইলেন। তখন তিনি হেলান দিয়েছিলেন। তিনি সোজা হয়ে বসে বললেনঃ খুলে দাও এবং তাকে (দুনিয়াতে) একটি কঠিন বিপদের সম্মুখীন হওয়ার মাধ্যমে জান্নাতবাসী হওয়ার সুসংবাদ দাও। আমি গিয়ে দেখি, তিনি উসমান (রাঃ) আমি তাকেও দরজা খুলে দিলাম এবং জান্নাতের শুভ সংবাদ দিলাম। আর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা ভবিষ্যৎ বানী করেন, আমি তাও বর্ণনা করলাম। তিনি বললেনঃ আল্লাহ তাআলা আমার সহায়ক।
হাদিস নম্বরঃ ৫৭৮৪ | 5784 | ۵۷۸٤
পরিচ্ছদঃ ২৫৫২. কারো হাতের কোন কিছু দিয়ে যমীনে ঠোকা মারা
৫৭৮৪। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) … আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আমরা এক জানাযায় নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সথে ছিলাম। তিনি একটা লাকড়ী দিয়ে যমীনে ঠোকা দিয়ে বললেনঃ তোমাদের কোন ব্যাক্তি এমন নয় যার ঠিকানা জান্নাতে অথবা জাহান্নামে ফয়সালা হয়ে যায়নি। লোকেরা জিজ্ঞাসা করলঃ তা হলে কি আমরা তার উপর নির্ভর করব না। তিনি বললেনঃ আমল করে যাও। কারন যাকে যে জন্য পয়দা করা হয়েছে, তা তার জন্য সহজ করে দেয়া হবে। (এরপর তিলাওয়াত করলেন) “যে ব্যাক্তি দান খয়রাত করবে, তাকওয়া অর্জন করবে …… শেষ পর্যন্ত”।
হাদিস নম্বরঃ ৫৭৮৫ | 5785 | ۵۷۸۵
পরিচ্ছদঃ ২৫৫৩. বিস্ময়বোধে “আল্লাহু আকবার” অথবা “সুবহানাল্লাহ” বলা
৫৭৮৫। আবূল ইয়ামান (রহঃ) … উম্মে সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুম থেকে উঠে বললেনঃ সুবহানাল্লাহ! অদ্যকার রাতে কত যে ধন-ভাণ্ডার এবং কত যে বিপদ-আপদ নাযিল করা হয়েছে। কে আছ যে এ হুজরা বাসিনীদের অর্থাৎ তার বিবিদের জাগিয়ে দেবে? যাতে তারা সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে। দুনিয়ার কত কাপড় পরিহিতা, আখিরাতে উলঙ্গ হবে! উমর (রাঃ) বর্ণনা করেন, আমি একদিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কি আপনার বিবিগণকে তালাক দিয়েছেন? তিনি বললেনঃ না। তখন আমি বললামঃ আল্লাহু আকবার।
হাদিস নম্বরঃ ৫৭৮৬ | 5786 | ۵۷۸٦
পরিচ্ছদঃ ২৫৫৩. বিস্ময়বোধে “আল্লাহু আকবার” অথবা “সুবহানাল্লাহ” বলা
৫৭৮৬। আবূল ইয়ামান ও ইসমাঈল (রহঃ) … আদী ইবনু হুসায়ন (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী সাফিয়্যা (রাঃ) বর্ণনা করেন যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রামাযানের শেষ দশ দিনে মসজিদে ইতিকাফ থাকা অবস্থায় তিনি তার সাথে দেখা করতে গেলেন। তিনি রাতের প্রথম ভাগে কিছু সময় তার সঙ্গে কথেবার্তার পর ফিরে যাওয়ার জন্য দাঁড়ালেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে এগিয়ে দেওয়ার জন্য উঠে দাঁড়ালেন। অবশেষে যখন তিনি মসজিদেরই দরজার নিকট পৌছলেন, যা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী উম্মে সালামার ঘরের নিকটে অবস্থিত। তখন তাদের পাশ দিয়ে আনসারের দু’জন লোক চলে গেলে, তারা উভয়েই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সালাম দিল এবং নিজ পথে রওয়ানা হল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেনঃ ধীরে চল। তিনি সাফিয়্যা বিনত হুইয়াহ। তারা বললোঃ সুবহানাল্লাহ! ইয়া রাসুলাল্লাহ! তাদের উভয়ের মনে তা গুরুত্বপূর্ন মনে হল। তিনি বললেনঃ নিশ্চয়ই শয়তান মানুষের রক্তে চলাচল করে থাকে। তাই আমার আশংকা হলো যে, সম্ভবত সে তোমাদের অন্তরে সন্দেহের উদ্রেক করতে পারে।
