তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেনঃ এ উট চালক লোকটি কে? সে যে এ রকম উট চালিয়ে যাচ্ছে। লোকেরা বললেনঃ তিনি আমির ইবনু আকওয়া। তিনি বললেনঃ আল্লাহ তার উপর রহম করুন। দলের একজন বললেন ইয়া নাবী আল্লাহ! তার জন্য তো শাহাদাত নির্দিষ্ট হয়ে গেলো। হায়! যদি আমাদের এ সুযোগ দান করতেন। তারপর আমরা খায়বারে পৌছে শত্রুদের অবরোধ করে ফেললাম। এ সময় আমরা অতিশয় ক্ষুধার্ত হয়ে পড়লাম। অবশেষে আল্লাহ (খায়বার যুদ্ধে) তাদের উপর আমাদের বিজয় দান করলেন। তারপর যেদিন খায়বার বিজিত হলো, সেদিন লোকেরা অনেক আগুন জ্বালাল।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেনঃ তোমরা এত সব আগুন কি জন্য জ্বালাচ্ছ? লোকেবা বললোঃ গোশত রান্নার জন্য। তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ কিসের গোশত? তারা বললঃ গৃহপালিত গাধার গোশত। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এসব গোশত ফেলে দাও এবং হাড়িগুলো ভেঙ্গে ফেল। এক ব্যাক্তি বললঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! বরং গোশতগুলো ফেলে আমরা হাড়িগুলো ধুয়ে নেই? তিনি বললেনঃ তবে তাই কর।
রাবী বলেন যখন লোকের যুদ্ধে সারিবদ্ধ হল, আমির (রাঃ) এর তলোয়ার খানা খাঁটো ছিল। তিনি এক ইয়াহুদীকে মারার উদ্দেশ্য এটি দিয়ে তার উপর আক্রমণ করলেন। কিন্তু তার তলোয়ারের ধারাল অংশ আমির (রাঃ) এর হাটুতে এসে আঘাত করল। এতে তিনি মারা গেলেন। তারপর ফিরার সময় সবাই ফিরলেন।
সালামা (রাঃ) বলেনঃ আমার চেহারার রং পরিবর্তন দেখে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে জিজ্ঞাসা করলেনঃ তোমার কি হয়েছে? আমি বললাম আমার বাপ-মা আপনার উপর কুরবানী হউন! লোকেরা বলছে যে, আমিরের আমল সব বরবাদ হয়ে গেছে। তিনি বললেনঃ এ কথাটা কে বলেছে? আমি বললাম অমুক, অমুক অমুক এবং উসায়দ ইবনু হুয়াইর আনসারী (রাঃ)। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যারা এ কথা বলেছে, তারা মিথ্যা বলেছে। তিনি বললেনঃ তার দুটি পুরস্কার রয়েছে, সে জাহিদ এবং মুজাহিদ। আরব ভূ-খণ্ডে তার মত লোক অল্পই জন্ম নিয়েছে।
হাদিস নম্বরঃ ৫৭১৮ | 5718 | ۵۷۱۸
পরিচ্ছদঃ ২৫২০. কবিতা পাঠ, সঙ্গীত ও উট চালানোর সঙ্গীতের মধ্যে যা জায়িয ও যা না-জায়িয। আল্লাহ তা’আলার বানীঃ এবং বিপথগামী লোকেরাই কবিদের অনুসরন করে থাকে …… তারা কোন পথে ফিরে বেড়াচ্ছে
৫৭১৮। মুসাদ্দাদ (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কতক সহধর্মিণীর কাছে আসলেন। তখন তাদের সঙ্গে উম্মে সুলায়মও ছিলেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন সর্বনাশ, হে আনজাশাহ! তুমি (উট) চালাও। কেননা, তুমি কাঁচপাত্র (মহিলা নিয়ে চলেছ। রাবী আবূ কিলাবা বলেনঃ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘সাওকাকা বিল কাওয়ারীর’ বাক্য দ্বারা এমন বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করলেন, যা অন্য কেউ বললে, তোমরা তাকে ঠাট্টা করতে।
হাদিস নম্বরঃ ৫৭১৯ | 5719 | ۵۷۱۹
পরিচ্ছদঃ ২৫২৩. কবিতার মাধ্যমে মুশরিকদের নিন্দা করা
৫৭১৯। মুহাম্মদ (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার হাসসান ইবনু সাবিত (রাঃ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট মুশরিকদের নিন্দা করার অনুমতি চাইলেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তা হলে এ নিন্দা থেকে আমার বংশ মর্যাদা কিভাবে বাঁচাবে? তখন হাসসান (রাঃ) বললেনঃ আমি তাদের থেকে আপনাকে এমনভাবে বের করে দেব, যেভাবে মাখানো আটা থেকে চুল বের করে আনা হয়।
রাবী উরওয়া বর্ননা করেন একদিন আমি আয়িশা (রাঃ) এর কাছে হাসসান (রাঃ) কে গালি দিতে শুরু করলাম তখন তিনি বললেনঃ তুমি তাকে গালমন্দ করো না। কারণ, তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর তরফ থেকে মুশরিকদের প্রতিরোধ করতেন।
হাদিস নম্বরঃ ৫৭২০ | 5720 | ۵۷۲۰
পরিচ্ছদঃ ২৫২৩. কবিতার মাধ্যমে মুশরিকদের নিন্দা করা
৫৭২০। আসবাগ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) তার বর্ণনায় নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কথা উল্লেখ করে বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের ভাই অর্থাৎ কবি ইবনু রাওয়াহা (রাঃ) অশ্লীল কথা বলেনি। তিনি বলতেনঃ আমাদের মধ্যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিনি কুরআন তিলাওয়াত করেন; যখন ভোরের মনোরম আলো ফুটে উঠে। পথভ্রষ্ট হওয়ার পর তিনি আমাদের সুপথ দেখিয়েছেন। আর আমরা অন্তরের সাথে একীন করলাম যে, তিনি যা বলছেন তা ঘটবেই। তিনি নিজ পিঠ বিছানা থেকে সরিয়ে রেখেই রাত কাটান। যখন কাফিরদের শয্যা-সুখ ত্যাগ করা তাদের পক্ষে ভারী কষ্টকর হয়।
হাদিস নম্বরঃ ৫৭২১ | 5721 | ۵۷۲۱
পরিচ্ছদঃ ২৫২৩. কবিতার মাধ্যমে মুশরিকদের নিন্দা করা
৫৭২১। আবুল ইয়ামান ও ইসরাঈল (রহঃ) … হাসসান ইবনু সাবিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হে আবূ হুরায়রা! আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি। আপনি কি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে একথা বলতে শুনেছেন যে ওহে হাসসান! তুমি আল্লাহর রাসুলের তরফ থেকে পাল্টা জবাব দাও। হে আল্লাহ! তুমি জিবরীল (আলাইহিস সালাম) এর মাধ্যমে তাকে সাহায্য কর। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বললেনঃ হ্যাঁ।
