বর্ণনাকারী ইয়াহইয়া বলেনঃ কথা বলার দায়িত্ব যেন বড়রা পালন করে। তখন তারা তাদের লোক সম্পর্কে কথা বললেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেনঃ তোমাদের পঞ্চাশ জন লোক কসমের মাধ্যমে তোমাদের নিহত ভাইয়ের হত্যার হক প্রমাণ কর। তারা বললেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! ঘটনা তো আমরা দেখিনি। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তা হলে ইয়াহুদীরা তাদের থেকে পঞ্চাশ জনের কসমের মাধ্যমে তোমাদের কসম থেকে মুক্তি দিবে। তখন তারা বললেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! ওরা তো কাফির সম্প্রদায়। তারপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের তরফ থেকে তাদের নিহত ব্যাক্তির ফিদইয়া দিয়ে দিলেন।
সাহল (রাঃ) বললেনঃ আমি সেই উটগুলো থেকে একটি উট পেলাম। সেটি নিয়ে আমি যখন আস্তাবলে গেলাম তখন উটনীটি তার পা দিয়ে আমাকে লাথী মারলো।
হাদিস নম্বরঃ ৫৭১৩ | 5713 | ۵۷۱۳
পরিচ্ছদঃ ২৫২২. বড়কে সম্মান করা। বয়সে যিনি বড় তিনিই কথাবার্তা ও প্রশ্নাদি আরম্ভ করবেন
৫৭১৩। মুসাদ্দাদ (রহঃ) … ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা আমাকে এমন একটা বৃক্ষের খবর দাও, মুসলমানের সাথে যার দৃষ্টান্ত রয়েছে। তা সর্বদা তার প্রতিপালকের নির্দেশে খাদ্য দান করে, আর তার পাতাও ঝরে না। তাখন আমার মনে আসলো যে, এটি খেজুর গাছ। কিন্তু যেহেতু সে স্থানে আবূ বকর ও উমর (রাঃ) উপস্থিত থেকেও কথা বলছিলেন না, তাই আমিও কথা বলা পছন্দ করি নি। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই বললেনঃ সেটি হলো, খেজুর গাছ। তারপর যখন আমি আমার আব্বার সঙ্গে বেরিয়ে এলাম, তখন আমি বললাম আব্বা! আমার মনেও খেয়াল এসেছিল যে, এটা নিশ্চয়ই খেজুর গাছ। তিনি বললেনঃ তোমাকে তা বলতে কিসে বাধা দিয়েছিল? যদি তুমি তা বলতে তাহলে একথা আামার কাছে এত এত ধন-সম্পদ পাওয়ার চেয়েও বেশী প্রিয় হতো। তিনি বললেনঃ আমাকে শুধু একথাই বাধা দিয়েছিল যে, আমি দেখলাম আপনি ও আবূ বকর (রাঃ) কেউই কথা বলছেন না। তাই আমিও কথা বলা পছন্দ করলাম না।
হাদিস নম্বরঃ ৫৭১৪ | 5714 | ۵۷۱٤
পরিচ্ছদঃ ২৫২০. কবিতা পাঠ, সঙ্গীত ও উট চালানোর সঙ্গীতের মধ্যে যা জায়িয ও যা না-জায়িয। আল্লাহ তা’আলার বানীঃ এবং বিপথগামী লোকেরাই কবিদের অনুসরন করে থাকে …… তারা কোন পথে ফিরে বেড়াচ্ছে
৫৭১৪। আবুল ইয়ামান (রহঃ) … উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চই কোন কোন কবিতার মধ্যে জ্ঞানের কথাও রয়েছে।
হাদিস নম্বরঃ ৫৭১৫ | 5715 | ۵۷۱۵
পরিচ্ছদঃ ২৫২০. কবিতা পাঠ, সঙ্গীত ও উট চালানোর সঙ্গীতের মধ্যে যা জায়িয ও যা না-জায়িয। আল্লাহ তা’আলার বানীঃ এবং বিপথগামী লোকেরাই কবিদের অনুসরন করে থাকে …… তারা কোন পথে ফিরে বেড়াচ্ছে
৫৭১৫। আবূ নুয়াইম (রহঃ) … জুনদুব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক জিহাদে হেটে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ তিনি একটা পাথরে হোঁচট খেয়ে পড়ে গেলেন এবং তার একটা আঙ্গুল রক্তাক্ত হয়ে গেল। তখন তিনি কবিতার ছন্দে বলেন তুমি একটি রক্তাক্ত আংগুল বৈ কিছুই নও, আর যে কষ্ট ভোগ করছ তা তো একমাত্র আল্লাহর পথেই।
হাদিস নম্বরঃ ৫৭১৬ | 5716 | ۵۷۱٦
পরিচ্ছদঃ ২৫২০. কবিতা পাঠ, সঙ্গীত ও উট চালানোর সঙ্গীতের মধ্যে যা জায়িয ও যা না-জায়িয। আল্লাহ তা’আলার বানীঃ এবং বিপথগামী লোকেরাই কবিদের অনুসরন করে থাকে …… তারা কোন পথে ফিরে বেড়াচ্ছে
৫৭১৬। মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কবিরা যে সব কথা বলেছেন তার মধ্যে কবি লবীদের কথাটাই সবচেয়ে বেশী সত্য কথা। (তিনি বলেছেন) শোন! আল্লাহ ব্যতীত সব কিছুই বাতিল। তিনি আরও বলেছেনঃ কবি উমাইয়া ইবনু আবূ সালত ইসলাম গ্রহনের কাছাকাছি হয়ে গিয়েছিল।
হাদিস নম্বরঃ ৫৭১৭ | 5717 | ۵۷۱۷
পরিচ্ছদঃ ২৫২০. কবিতা পাঠ, সঙ্গীত ও উট চালানোর সঙ্গীতের মধ্যে যা জায়িয ও যা না-জায়িয। আল্লাহ তা’আলার বানীঃ এবং বিপথগামী লোকেরাই কবিদের অনুসরন করে থাকে …… তারা কোন পথে ফিরে বেড়াচ্ছে
৫৭১৭। কুতায়বা (রহঃ) … সালামা ইবনু আকওয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে খায়বার অভিযানে বের হলাম। আমরা রাতের বেলায় চলছিলাম। দলের মধ্যে থেকে একজন আমির ইবনু আকওয়া (রাঃ) কে বলল যে, আপনি কি আপনার (ছোট) কবিতাগুলো থেকে কিছু পড়ে আমাদের শোনাবেন না? আমির (রাঃ) ছিলেন একজন কবি। সুতরাং তিনি দলের লোকদের হুদী গেয়ে শোনাতে লাগলেন। হে আল্লাহ! তুমি না হলে, আমরা হেদায়েত পেতাম না। আমরা সাদাকা দিতাম না, সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতাম না। আমাদের আগেকার-গুনাহু ক্ষমা করুন; যা আমরা করেছি। আমরা আপনার জন্য উৎসর্গিত। যদি আমরা শত্রুর সম্মুখীন হই, তখন আমাদের পদদ্বইয় সুদৃঢ় রাখুন। আমাদের উপর শান্তি বর্ষন করুন। শত্রুর ডাকের সময় আমরা যেন বীরের মত ধাবিত হই, যখন তারা হৈ-হুল্লোড় করে, আমাদের উপর আক্রমণ চালায়।
