উবায়দুল্লাহ ইবনে মূসা রহ………..আবু সালামা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আয়েশা রা. ও ইবনে আব্বাস রা. বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় দশ বছর অবস্থান করেন। এ সময় তাঁর প্রতি কুরআন নাযিল হয়েছে এবং মদীনাতেও তিনি দশ বছর অবস্থান করেন (এ সময়ও তাঁর প্রতি দশ বছর কুরআন নাযিল হয়েছে)।
হাদীস নং ৪৬১৫
মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ………….আবু উসমান রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাকে অবগত করা হয়েছে যে, একদা জিবরাঈল আ. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –এর কাছে আগমন করলেন। তখন উম্মে সালামা রা .তাঁর কাছে ছিলেন। জিবরাঈল আ. তাঁর সঙ্গে কথা বলতে শুরু করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মে সালামা রা.-কে জিজ্ঞাসা করলেন, ইনি কে? অথবা তিনি এ ধরনের কোন কথা জিজ্ঞাসা করলেন। উম্মে সালামা রা. বললেন, ইনি দাহইয়া রা.। তারপর জিবরাঈল আ. উঠে দাঁড়ালেন। তিনি বললেন , আল্লারহ কসম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভাষণে জিবরাঈল আ.-এর খবর না শুনা পর্যন্ত আমি তাকে সে দাহইয়া রা.-ই মনে করেছি। অথবা তিনি (রাবী) অনুরূপ কোন কথা বর্ণনা করেছেন। রাবী মুতামির রহ. বলেন, আমার পিতা সুলাইমান বলেছেন, আমি উসমান রহ.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কার থেকে এ ঘটনা শুনেছেন? তিনি বললেন উসামা ইবনে যায়েদের কাছ থেকে।
হাদীস নং ৪৬১৬
আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রত্যেক নবীকে তাঁর যুগের চাহিদা মুতাবিক কিছু মুজিযা দান করা হয়েছে, যা দেখে লোকেরা তাঁর প্রতি ঈমান এনেছে। আমাকে যে মুজিযা দেয়া হয়েছে তা হচ্ছে, ওহী –যা আল্লাহ পাক আমার প্রতি অবতীর্ণ করেছেন। সুতরাং আমি আশা করি, কিয়ামতের দিন তাদের অনুসারীদের তুলনায় আমার অনুসারীদের সংখ্যা অনেক বেশি হবে।
হাদীস নং ৪৬১৭
আমর ইবনে মুহাম্মদ রহ…………আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহ তায়ালা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –এর প্রতি ধারাবাহিকভাবে ওহী নাযিল করতে থাকেন এবং তাঁর ইন্তিকালের নিকটবর্তী সময়ে আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রতি সর্বাধিক পরিমাণ ওহী নাযিল করেন। এরপর তিনি ওফাত প্রাপ্ত হন।
হাদীস নং ৪৬১৮
আবু নুআইম রহ……….জুনদুব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থ হয়ে পড়লেন। ফলে এক কি দু’রাত তিনি উঠতে পারেননি। জনৈকা মহিলা তাঁর কাছে এসে বলল, হে মুহাম্মদ ! আমার মনে হয়, তোমার শয়তান তোমাকে পরিত্যাগ করেছে। তখন আল্লাহ নাযিল করলেন, “শপথ পূর্বাহ্নের, শপথ রজনীর, যখন তা হয় নিঝুম। তোমার প্রতিপালক তোমাকে পরিত্যাগ করেননি এবং তোমার প্রতি বিরূপও হননি”।
হাদীস নং ৪৬১৯ – কুরআন কুরাইশ এবং আরবদের ভাষায় নাযিল হয়েছে।
আবুল ইয়ামান রহ……….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,উসমান রা. যায়েদ ইবনে সাবিত রা., সাঈদ আস রা., আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর রা. এবং আবদুর রহমান ইবনে হারিস ইবনে হিশাম রা.-কে পবিত্র কুরআন গ্রন্থাকারে লিপিবদ্ধ করার জন্য নির্দেশ দিলেন এবং তাদেরকে বললেন, আল কুরআনের কোন শব্দের আরবী হওয়ার ব্যাপারে যায়েদ ইবনে সাবিতের সঙ্গে তোমাদের মতবিরোধ হলে তোমরা তা কুরাইশদের ভাষাষ লিপিবদ্ধ করবে। কারণ, কুরআন তাদের ভাষায় নাযিল হয়েছে। অতএব তাঁরা তা-ই করলেন।
হাদীস নং ৪৬২০
আবু নুআইম রহ………..ইয়ালা ইবনে উমাইয়া রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলতেন, হায়! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি ওহী নাযিল হওয়ার সময় যদি তাকে দেখতে পারতাম। যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিরিররানা নামক স্থানে অবস্থান করছিলেন এবং চাঁদোয়া দিয়ে তাঁর উপর ছায়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল এবং তাঁর সঙ্গে ছিলেন কতিপয় সাহাবী। এমতাবস্থায় সুগন্ধি মেখে এক ব্যক্তি এলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল। ঐ সম্পর্কে আপনার মত কী, যে সুগন্ধি মেখে জুব্বা পরে ইহরাম বেঁধেছে? কিছু সময়ের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপেক্ষা করলেন, এমনি সময় ওহী এল। উমর রা. ইয়ালা রা.-কে ইশারা দিয়ে ডাকলেন। ইয়ালা রা. এলেন এবং তাঁর মাথা ঐ চাদরের ভেতর ঢোকালেন। দেখলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুখমণ্ডল সম্পূর্ণ রক্তিম বণৃ এবং কিছু সময়ের জন্য অত্যন্ত জোরে শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ করছেন। তারপর তাঁর থেকে এ অবস্থা সম্পূর্ণরূপে দূরীভূত হওয়ার পর তিনি বললেন, প্রশ্নকারী কোথায়? যে কিছুক্ষণ পূর্বে আমাকে উমরা সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিল। লোকটিকে তালাশ করে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –এর কাছে নিয়ে আসা হল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে সুগন্ধি তুমি তোমার শরীরে মেখেছ, তা তিনবার ধুয়ে ফেলবে আর জুব্বাটি খুলে ফেলবে। তারপর তুমি তোমার উমরাতে ঐ সমস্ত অনুষ্ঠান পালন করবে, যা তুমি হজ্বের মধ্যে করে থাক।
হাদীস নং ৪৬২১ – কুরআন সংকলন।
মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ……..যায়েদ ইবনে সাবিত রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইয়ামামার যুদ্ধে বহু লোক শহীদ হবার পর আবু বকর সিদ্দীক রা. আমাকে ডেকে পাঠালেন। এ সময় উমর রা.-ও তাঁর কাছে উপস্থিত ছিলেন। উমর রা. আমার কাছে এসে বলেছেন, ইয়ামামার যুদ্ধে শাহাদত প্রাপ্তদের মধ্যে ক্বারীদের সংখ্যা অনেক। আমি আশংকা করছি, এমনিভাবে যদি ক্বারীগণ শহীদ হয়ে যান, তাহলে কুরআন শরীফের বহু অংশ হারিয়ে যাবে। অতএব আমি মনে করি যে, আপনি কুরআন সংকলনের নির্দেশ দিন। উত্তরে আমি উমর রা-কে বললাম, যে কাজ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেন নি, সে কাজ তুমি কিভাবে করবে? উমর রা. এর জবাবে বললেন, আল্লাহর কসম, এটা একটা উত্তম কাজ। উমর রা. এ কথাটি আমার কাছে বার বার বলতে থাকলে অবশেষে আল্লাহ তায়ালা এ কাজের জন্য আমার বক্ষকে প্রশস্ত করে দিলেন এবং এ বিষয়ে উমর যা ভাল মনে করলেন আমিও তাই করলাম। যায়েদ রা. বলেন, আবু বকর সিদ্দীক রা. আমাকে বললেন, তুমি একজন বুদ্ধিমান যুবক। তোমার ব্যাপারে আমার কোন সংশয় নেই । অধিকন্তু তুমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওহীর লেখক ছিলে। সুতরাং তুমি কুরআন শরীফের অংশগুলোকে তালাশ করে একত্রিত কর। আল্লাহর শপথ ! তারা যদি আমাকে একটি পাহাড় এক স্থান হতে অন্যত্র সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিত, তাহলেও তা আমার কাছে কুরআন সংকলনের নির্দেশের চাইতে কঠিন বলে মনে হত না। আমি বললাম, যে কাজ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেননি, আপনারা সে কাজ কিভাবে করবেন? তিনি বললেন, আল্লাহর কসম ! এটা একটা কল্যাণকার কাজ। এ কথাটি আবু বকর সিদ্দীক রা. আমার কাছে বার বার বলতে থাকেন, অবশেষে আল্লাহ পাক আমার বক্ষকে প্রশস্ত ও প্রসন্ন করে দিলেন সে কাজের জন্য, যে কাজের জন্য তিনি আবু বকর এবং উমর রা.-এর প্রশস্ত ও প্রসন্ন করে দিয়েছিলেন। এরপর আমি কুরআন অনুসন্ধান কাজে আত্মনিয়োগ করলাম এবং খেজুর পাতা, প্রস্তরখণ্ড ও মানুষের বক্ষ থেকে আমি তা সংগ্রহ করতে থাকলাম। এমনকি আমি সূরা তওবার শেষাংশ আবু খুযায়মা আনসারী রা. থেকে সংগ্রহ করলাম। এ অংশটুকু তিনি ব্যতীত আর কারো কাছে আমি পাইন। আয়তগুলো হচ্ছে এই : তোমাদের মধ্য হতে তোমাদের কাছ এক রাসূল এসেছে। তোমাদের যা বিপন্ন করে তা তাঁর জন্য কষ্টদায়ক। সে তোমাদের মঙ্গলকামী, মুমিনদের প্রতি দয়ার্দ্র ও পরম দয়ালু। এরপর তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে তুমি বল, আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, তিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ নেই। আমি তাঁরই উপর নির্ভর করি এবং তিনি মহা আরশের অধিপতি। (১২৮-১২৯) তারপর সংকলিত সহীফাসমূহ মৃত্যু পর্যন্ত আবু বকর রা.-এর কাছে সংরক্ষিত ছিল। তাঁর মৃত্যুর পর তা উপর রা.-এর কাছে সংরক্ষিত ছিল , যতদিন তিনি জীবিত ছিলেন। এরপর তা উমর –তনয়া হাফসা রা.-এর কাছে সংরক্ষিত ছিল।
