তারপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিরলেন এবং তার স্ত্রীকে ডেকে আনার জন্য লোক পাঠালেন।। হিলাল এসে সাক্ষী দিলেন আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছিলেন, আল্লাহ তা’আলা তো জানেন যে তোমাদের দুজনের মধ্যে অবশ্যই একজন মিথ্যাবাদী। তবে কি তোমাদের মধ্যে কেউ তওবা করবে? স্ত্রী লোকটি দাঁড়িয়ে সাক্ষ্য দিল। সে যখন পঞ্চম বারের কাছে পৌঁছল, তখন লোকেরা তাকে বাঁধা দিল এবং বলল, নিশ্চয়ই এটি তোমার উপর অবশ্যম্ভাবী। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বললেন, একথা শুনে সে দ্বিধাগ্রস্ত হল এবং ইতস্তত করতে লাগল। এমনকি আমরা মনে করতে লাগলাম যে, সে নিশ্চয়ই প্রত্যাবর্তন করবে। পরে সে বলে উঠল, আমি চিরকালের জন্য আমার বংশকে কলুষিত করব না। সে তার সাক্ষ্য পূর্ণ করল। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এর প্রতি দৃষ্টি রেখ। যদি সে কালো, ডাগর চক্ষু, বড় পাছা ও মোটা নলা বিশিষ্ট সন্তান প্রসব করে তবে ও সন্তান শারিক ইবনু সাহমার। পরে সে অনুরূপ সন্তান জন্ম দিল। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যদি এ বিষয়ে আল্লাহর কিতাব কার্যকর না হত, তাহলে অবশ্যই আমার ও তার মধ্যে কি ব্যপার যে ঘটত।
হাদিস নম্বরঃ ৪৩৮৯ | 4389 | ٤۳۸۹
পরিচ্ছদঃ আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ والخامسة أن غضب الله عليها إن كان من الصادقين “এবং পঞ্চম বারে বলে, তার স্বামী সত্যবাদী হলে তার নিজের উপর নেমে আসবে আল্লাহর গযব”।
৪৩৮৯। মুকাদ্দাম ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) … ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যাক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে তার স্ত্রীর উপর (যেনার) অভিযোগ আনে এবং সে তার স্ত্রী সন্তানের অস্বীকার করে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উভয়কে লিয়ান করতে আদেশ দেন। আল্লাহ তা’আলা যেভাবে বলেছেন, সেভাবে সে লিয়ান করে। তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সিদ্ধান্ত দিলেন যে, সন্তানটি স্ত্রীর আর তিনি লিয়ানকারী দুজনকে পৃথক করে দিলেন।
হাদিস নম্বরঃ ৪৩৯০ | 4390 | ٤۳۹۰
পরিচ্ছদঃ আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ إن الذين جاءوا بالإفك عصبة منكم لا تحسبوه شرا لكم بل هو خير لكم لكل امرئ منهم ما اكتسب من الإثم والذي تولى كبره منهم له عذاب عظيم “যারা এ অপবাদ রচনা করেছে , তারা তো তোমাদেরই একটি দল; একে তোমরা তোমাদের জন্য অনিষ্টকর মনে করোনা; বরং এ তো তোমাদের জন্য কল্যাণকর। তাদের প্রত্যেকের জন্য আছে তাদের কৃত পাপকর্মের ফল এবং তাদের মধ্যে যে এ ব্যাপারে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে, তার জন্য আছে কঠিন শাস্তি”। أفاك অর্থ অতি মিথ্যাবাদী।
৪৩৯০। আবূ নুয়াইম (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “যে এ অপবাদের প্রধান ভূমিকা নিয়েছিল, সে হল আবদুল্লাহ ইবনু উবায়। যখন তোমরা তা শ্রবন করলে, তখন কেন বললে না, এ বিষয়ে বলাবলি করা আমাদের উচিত নয়। আল্লাহ পবিত্র, এ তো এক গুরুতর অপবাদ। তারা কেন এ ব্যপারে চারজন সাক্ষী উপস্থিত করেনি? যেহেতু তারা সাক্ষী উপস্থিত করেনি, যেহেতু তারা সাক্ষী উপস্থিত করেনি, সে কারনে তারা আল্লাহর বিধানে মিথ্যাবাদী”।
হাদিস নম্বরঃ ৪৩৯১ | 4391 | ٤۳۹۱
পরিচ্ছদঃ আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ إن الذين جاءوا بالإفك عصبة منكم لا تحسبوه شرا لكم بل هو خير لكم لكل امرئ منهم ما اكتسب من الإثم والذي تولى كبره منهم له عذاب عظيم “যারা এ অপবাদ রচনা করেছে , তারা তো তোমাদেরই একটি দল; একে তোমরা তোমাদের জন্য অনিষ্টকর মনে করোনা; বরং এ তো তোমাদের জন্য কল্যাণকর। তাদের প্রত্যেকের জন্য আছে তাদের কৃত পাপকর্মের ফল এবং তাদের মধ্যে যে এ ব্যাপারে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে, তার জন্য আছে কঠিন শাস্তি”। أفاك অর্থ অতি মিথ্যাবাদী।
৪৩৯১। ইয়াহইয়া ইবনু বুকায়র (রহঃ) … ইবনু শিহাব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন উরওয়া ইবনু যুবায়র, সাইদ ইবনু মূসাইয়িব, আলকামা ইবনু ওয়াক্কাস, উবায়দুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু উতবা ইবনু মাসুদ (রহঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়িশা (রাঃ) এর ঘটনা সম্পর্কে বলেন, যখন অপবাদকারীরা তার প্রতি অপবাদ এনেছিল এবং আল্লাহ তা’আলা তাঁকে তাদের অভিযোগ থেকে নির্দোষ থাকার বর্ণনা দেন। তাদের প্রত্যেকেই ঘটনার অংশবিশেষ আমাকে অবহিত করেন। অবশ্য তাদের পরস্পর পরস্পরের বর্ণনা সমর্থন করে, যদিও তাদের মধ্যে কেউ অন্যের তুলনায় এ ঘটনাটি বেশি সংরক্ষণ করেছে। তবে উরওয়া আয়শা (রাঃ) থেকে এরুপ বলেছিলেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়শা (রাঃ) বলেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কথাও সফরে বের হতেন, তখন তিনি তার স্ত্রী গনের মধ্যে লটারি দিতেন। এতে যার নাম উঠত, তাঁকে সঙ্গে নিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হতেন।
আয়শা (রাঃ) বলেন, অতএব, কোন এক যুদ্ধে যাওয়ার সময় আমাদের মধ্যে লটারি দিলেন। তাতে আমার নাম উঠল। আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে বের হলাম, পর্দার আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পরে। আমাকে হাওদায় করে উঠান হত এবং তাতে করে নামান হত। এ ভাবেই আমরা চললাম। যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুদ্ধ শেষ করে ফিরলেন এবং ফেরার পথে আমরা মদিনার নিকটবর্তী হলাম। একদা (মনজিল থেকে) রওয়ানা দেওার জন্য রাত থাকতেই ঘোষণা দিলেন। এ ঘোষণা দিলে আমি উটে চড়ে সৈন্যদের অবস্থানস্থল থেকে কিছু দূরে চলে গেলাম। আমার প্রাকৃতিক প্রয়োজন সেরে যখন সওয়ারীর কাছে এলাম, তখন দেখতে পেলাম যে, জাফারের দানা খচিত আমার হারটি ছিঁড়ে কোথাও পড়ে গেছে। আমি তা খোঁজ করতে লাগলাম। খোঁজ করতে আমার একটু দেরি হয়ে গেল। ইতিমধ্যে এ সকল লোক যারা আমাকে সওয়ার করাতো, তারা, আমি আমার হাওদার ভিতরে আছি মনে করে, আমার হাওদা উটের পিঠে রেখে দিল। কেননা এ সময় শরীরের গোশত আমাকে (হালকা পাতলা ছিলাম) ভারী করেনি। আমরা তো খুব অল্প খাদ্য গ্রহন করতাম। আমি ছিলাম অল্পবয়স্কা এক বালিকা। সুতরাং হাওদা উঠাবার তা যে খুব হালকা, তা তারা বুঝতে পারেনি এবং তারা উট হাঁকিয়ে রওয়ানা দিল।
