আয়াতঃ 025.009
দেখুন, তারা আপনার কেমন দৃষ্টান্ত বর্ণনা করে! অতএব তারা পথভ্রষ্ট হয়েছে, এখন তারা পথ পেতে পারে না।
See how they coin similitudes for you, so they have gone astray, and they cannot find a (Right) Path.
انظُرْ كَيْفَ ضَرَبُوا لَكَ الْأَمْثَالَ فَضَلُّوا فَلَا يَسْتَطِيعُونَ سَبِيلًا
Onthur kayfa daraboo laka al-amthala fadalloo fala yastateeAAoona sabeelan
YUSUFALI: See what kinds of comparisons they make for thee! But they have gone astray, and never a way will they be able to find!
PICKTHAL: See how they coin similitudes for thee, so that they are all astray and cannot find a road!
SHAKIR: See what likenesses do they apply to you, so they have gone astray, therefore they shall not be able to find a way.
KHALIFA: Note how they called you all kinds of names, and how this led them astray, never to find their way back.
০৯। দেখ, তোমার জন্য তারা কিরূপ তুলনা করে থাকে। কিন্তু তারা পথভ্রান্ত হয়েছে এবং তারা কখনও কোন পথ খুঁজে পেতে সক্ষম হবে না। ৩০৬৩
৩০৬৩। ” কখনও কোন পথ খুঁজে পেতে সক্ষম হবে না।” – এ এক ভীষণ সাবধান বাণী , আল্লাহ্র তরফ থেকে। আয়াতটি অবতীর্ণ হয় রসুলের [ সা ] জীবনীর পরিপ্রেক্ষিতে। রসুলুল্লাহ্র [সা ] নামে মিথ্যা অভিযোগ, সত্যের অপ্রতিহত যাত্রাকে স্তব্ধ করে দিতে পারে নাই। শেষ পর্যন্ত সত্যের জয় হবেই। পৃথিবীতে ইসলামের প্রচার অপ্রতিহত গতিতে চলতে থাকে। কিন্তু যে সব ব্যক্তি সত্যকে ত্যাগ করে থাকে, তা তাদের বিকৃত চিন্তাধারার ফসল। সত্যকে ত্যাগ করার ফলে, তাদের চরিত্র থেকে ন্যায়,সত্য ও বিশ্বস্ততাই যে শুধু হারিয়ে যায় তাই নয় , তাদের বিকৃত মানসিকতার জন্য তাদের জন্য স্বর্গীয় শাস্তিও অবধারিত হয়ে যায়। তাদের জন্য সত্য পথের নিশানা বা ঠিকানা অবরুদ্ধ হয়ে যায়, আল্লাহ্র এই সাবধান বাণী সে যুগের জন্যও যেমন প্রযোজ্য ছিলো আজও সমভাবে প্রযোজ্য আছে। যারা ইচ্ছাকৃত ভাবে ন্যায় ও সত্যের পথে বাঁধার সৃষ্টি করে, তাদের সত্যকে বোঝার ক্ষমতা , ন্যায়কে সনাক্ত করার ক্ষমতা অন্তর্হিত হবে। এই -ই হচ্ছে আল্লাহ্র তরফ থেকে শাস্তি।
আয়াতঃ 025.010
কল্যানময় তিনি, যিনি ইচ্ছা করলে আপনাকে তদপেক্ষা উত্তম বস্তু দিতে পারেন-বাগ-বাগিচা, যার তলদেশে নহর প্রবাহিত হয় এবং দিতে পারেন আপনাকে প্রাসাদসমূহ।
Blessed be He Who, if He will, will assign you better than (all) that, – Gardens under which rivers flow (Paradise) and will assign you palaces (i.e. in Paradise).
تَبَارَكَ الَّذِي إِن شَاء جَعَلَ لَكَ خَيْرًا مِّن ذَلِكَ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ وَيَجْعَل لَّكَ قُصُورًا
Tabaraka allathee in shaa jaAAala laka khayran min thalika jannatin tajree min tahtiha al-anharu wayajAAal laka qusooran
YUSUFALI: Blessed is He who, if that were His will, could give thee better (things) than those,- Gardens beneath which rivers flow; and He could give thee palaces (secure to dwell in).
PICKTHAL: Blessed is He Who, if He will, will assign thee better than (all) that – Gardens underneath which rivers flow – and will assign thee mansions.
SHAKIR: Blessed is He Who, if He please, will give you what is better than this, gardens beneath which rivers flow, and He will give you palaces.
KHALIFA: Most blessed is the One who can, if He wills, give you much better than their demands – gardens with flowing streams, and many mansions.
রুকু – ২
১০। মঙ্গলময় তিনি ৩০৬৪, যদি তার ইচ্ছা হতো তিনি তোমাকে ইহা অপেক্ষা উত্তম জিনিষ দিতে পারতেন, – বাগানসমূহ যার পাদদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত ৩০৬৫। এবং [ বাস করার জন্য ] প্রাসাদ সমূহ।
৩০৬৪। “মঙ্গলময় তিনি ” – এই বাক্যটি সূরার প্রথমে [ ২৫ : ১ ] আয়াতেও বলা হয়েছে। সেখানে থেকে শুরু হয়েছে আল্লাহ্র প্রত্যাদেশ , তাঁর প্রেরিত রসুলের কাহিনী। এরপরে এখান থেকে আবার শুরু হচ্ছে নূতন যুক্তি যা পূর্বের সম্পূর্ণ বিপরীত ভাব বহন করে। এর পরে আছে সত্য প্রত্যাখানকারীদের ভাগ্যের আলোচনা।
৩০৬৫। বেহেশতের বর্ণনা প্রতীক ধর্মী। বাস্তব যখন কল্পনাকে অতিক্রম করে যায় তখন তা প্রকাশের ভাষা হয়ে থাকে প্রতীক। বেহেশতের সুখ ও শান্তি এই পৃথিবীতে বসে কল্পনাও করা যায় না। এখানে ‘বাগানসমূহ’ শব্দটি বেহেশতের শান্তির প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। কাফেররা ঠাট্টা করতো যে আল্লাহ্র নবীর [সা ] জন্য পার্থিব আরাম আয়েশের বন্দোবস্ত আল্লাহ্ কেন করেন না ? আল্লাহ্ এই আয়াতে বলছেন যে যদি পার্থিব আরাম আয়েশ আল্লাহ্র পরিকল্পনার অর্ন্তভুক্ত থাকতো তবে, আল্লাহ্ তার রসুলদের পৃথিবীতেই সুখ-শান্তি , ক্ষমতা , অর্থ-বিত্ত অর্থাৎ পার্থিব সকল জিনিষই দান করতেন। [ যেমন করেছিলেন দাউদ নবী , সুলায়মান নবীকে ] পৃথিবীতে যারা আল্লাহ্র বাণীকে প্রতিষ্ঠিত করতে আসেন পরিবর্তে তাদের প্রতি নেমে আসে অবর্ণনীয় অত্যাচার, নির্যাতন ,ঠাট্টা , বিদ্রূপ , স্বদেশ থেকে বিতারণ ইত্যাদি। সত্যকে বা আল্লাহ্র বাণীকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য আল্লাহ্র রসুলদের যুগে যুগে এ সব অত্যাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে হয়েছে। যদি তাদের জাগতিক আরাম আয়েশ ও ক্ষমতা প্রতিপত্তি থাকতো, তবে শত অত্যাচার নির্যাতনের বিরুদ্ধে , কঠোর সংগ্রামের মাধ্যমে সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করে তারা পৃথিবীর সামনে যে জ্বলন্ত উদাহরণ স্থাপন করে গেছেন , তা থেকে পৃথিবী বঞ্চিত হতো। তাদের পৃথিবীতে প্রেরণ করাই হয়েছে সংগ্রামী মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্বরূপ।
