হাদীস নং ৩৬০৯
আল হুমাইদী রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, আল্লাহ তায়ালার বাণী: “আর আমি যে দৃশ্য আপনাকে দেখিয়েছি তা কেবল মানুষের পরীক্ষার জন্য” এর তাফসীরে বলেন এটি হল চোখের দেখা চাক্ষুস যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সে রাতে দেখানো হয়েছে। যে রাতে তাকে বায়তুল মুকাদ্দাস পর্যন্ত ভ্রমণ করানো হয়েছিল। ইবনে আব্বাস রা. আরো বলেন, কুরআন শরীফে যে অভিশপ্ত বৃক্ষের কথা বলা হয়েছে, তাহল যাককুম বৃক্ষ।
হাদীস নং ৩৬১০
ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ…………আবদুল্লাহ ইবনে কাব রহ. যিনি কাব এর পথ প্রদর্শক ছিলেন যখন কাব অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন তিনি বলেন, আমি কাব ইবনে মালিক রা.-কে তাবূক যুদ্ধকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তাঁর পশ্চাতে থেকে যাওয়ার ঘটনাটি সবিস্তারে বর্ণনা করতে শুনেছি। ইবনে বুকাইর তাঁর বর্ণনায় এ কথাটিও বলেন যে, কাবরা. বলেছেন, আমি আকাবার রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে উপস্থিত ছিলাম। যখন আমরা ইসলামের উপর অটল থাকার অঙ্গীকার করেছিলাম। সে রাত্রির পরিবর্তে বদর যুদ্ধে উপস্থিত হওয়া আমার নিকট অধিক প্রিয় নয়, যদিও বদর যুদ্ধ জনগণের মধ্যে আকাবার তুলনায় অধিক আলোচিত ছিল।
হাদীস নং ৩৬১১
আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ………..জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আকাবা রাতে আমার দু’জন মামা আমাকে সেখানে নিয়ে গিয়েছিলেন। ইমাম বুখারী রহ. বলেন, ইবনে উয়ায়না বলেন, দু’জন মামার একজন হলেন বারা ইবনে মারূর রা.।
হাদীস নং ৩৬১২
ইবরাহীম ইবনে মূসা রহ……….আতা রহ. থেকে বর্ণিত যে, জাবির রা. বলেন, আমি আমার পিতা আবদুল্লাহ এবং আমার মামা আকাবায় (বায়আতে) অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলাম।
হাদীস নং ৩৬১৩
ইসহাক ইবনে মানসুর রহ…………আবু ইদরীস আইযুল্লাহ রহ. থেকে বর্ণিত যে, উবাদা ইবনে সামিত রা. যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে বদর যুদ্ধে এবং আকবার রাতে উপস্থিত সাহাবীদের মধ্যে ছিলেন তিনি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের একটি দলকে লক্ষ্য করে বললেন, এস তোমরা আমার কাছে একথায় উপর বায়আত কর যে, তোমরা আল্লাহ তায়ালার সাথে কোন কিছু কে শরীক করবে না, তোমরা চুরি করবে না, তোমরা ব্যাভিচার করবে না, তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে হত্যা করবে না, তোমরা (কারো প্রতি) অপবাদ আরোপ করবে না যা তোমরা নিজে থেকে বানিয়ে নাও , তোমরা নেক কাজে আমার নাফরমানী করবে না, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এসব শর্ত পূরণ করে চলবে তাকে এ কারণে দুনিয়াতে আইনানুগ শাস্তি দেয়া হয়, তবে এ শাস্তি তার জন্য কাফফারা হয়ে যাবে। আর যে ব্যক্তি এ সবের কোনটিতে লিপ্ত হল আর আল্লাহ তা গোপন রাখেন, তবে তার ব্যাপারটি আল্লাহ পাকের উপর ন্যস্ত। তিনি ইচ্ছা করলে শাস্তি দিবেন আর ইচ্ছা করলেন মাফ করবেন। উবাদা রা. বলেন, আমিও এসব শর্তের উপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বায়আত করেছি।
হাদীস নং ৩৬১৪
কুতাইবা রহ……….উবাদা ইবনে সামিত রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ঐ মনোনীত প্রতিনিধি দলের অন্তর্ভূক্ত ছিলাম, যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বায়আত গ্রহণ করেছিল। তিনি আরও বলেন, আমরা তাঁর কাছে বায়আত গ্রহণ করছিলাম জান্নাত লাভের জন্য যদি আমরা এই কাজগুলো করি এই শর্তে যে, আমরা আল্লাহর সঙ্গে কোন কিছুকেই শরীক করব না, ব্যভিচারে লিপ্ত হব না, চুরি করব না। আল্লাহ যাকে হত্যা করা হারাম করেছেন, তাকে না হক হত্যা করব না, লুটতরাজ করব না এবং নাফরমানী করব না। আর যদি আমরা এর মধ্যে কোনটিতে লিপ্ত হই, তবে এর ফায়সালা আল্লাহ তায়ালার উপর ন্যস্ত।
হাদীস নং ৩৬১৫
ফারওয়া ইবনে আবু মাগরা রহ……….আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আমাকে বিবাহ করেন, তখন আমার বয়স ছিল ছয় বছর। তারপর আমরা মদীনায় এলাম এবং বনু হারিস গোত্রে অবস্থান করলাম। সেখানে আমি জ্বরে আক্রান্ত হলাম। এতে আমার চুল পড়ে গেল। (সুস্থ হওয়ার) পরে যখন আমার মাথার সামনের চুল জমে উঠল। সে সময় আমি একদিন আমার বান্ধবীদের সাথে দোলনায় খেলা করছিলাম। তখন আমার মাতা উম্মে রূমান আমাকে উচ্চস্বরে ডাকলেন। আমি তাঁর কাছে এলাম। আমি বুঝতে পারিনি, তার উদ্দেশ্য কি? তিনি আমার হাত ধরে ঘরের দরজায় এসে আমাকে দাঁড় করালেন। আর আমি হাঁপাচ্ছিলাম। অবশেষে আমার শ্বাস-প্রশ্বাস কিছুটা স্থির হল। এরপর তিনি কিছু পানি নিলেন এবং এর দ্বারা আমার মুখমণ্ডল ও মাথা মাসেহ করে দিলেন। তারপর আমাকে ঘরের ভিতর প্রবেশ করালেন। সেখানে কয়েকজন আনসারী মহিলা ছিলেন। তাঁরা বললেন, (তোমার আগমন) কল্যাণময়, বরকতময় এবং সৌভাগ্যময় হউক। আমাকে তাদের কাছে সোর্পদ করে দিলেন। তাঁরা আমার অবস্থান ঠিকঠাক করে দিলেন, তখন ছিল পূর্বাহ্ন। হঠাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আগমন আমাকে সচকিত করে তুলল। তাঁরা আমাকে তাঁর কাছে সোপর্দ করে দিলেন। সে সময় আমি নয় বছরের বালিকা।
