হাদীস নং ৩৬১৬
মুআল্লা রহ……………আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেন, দু’বার তোমাকে আমায় স্বপ্নে দেখানো হয়েছে। আমি দেখলাম, তুমি একটি রেশমী বস্ত্রে বেষ্টিত এবং আমাকে বলছে ইনি আপনার স্ত্রী, আমি তার ঘুমটা সরিয়ে দেখলাম, সে মহিলা তুমিই। তখন আমি (মনে মনে) বলছিলাম, যদি তা আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়ে থাকে, তবে তিনি তা কার্যকরী করবেন।
হাদীস নং ৩৬১৭
উবাইদ ইবনে ইসমাঈল রহ……….হিশাম এর পিতা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মদীনার দিকে বেরিয়ে আসার তিন বছর আগে খাদীজা রা.-এর ওফাত হয়। তারপর দু’বছর অথবা এর কাছাকাছি সময় অপেক্ষা করে তিনি আয়েশা রা.-কে বিবাহ করেন। যখন তিনি ছিলেন ছয় বছরের বালিকা, তারপর নয় বছর বয়সে বাসর উদযাপন করেন।
হাদীস নং ৩৬১৮
হুমাইদী রহ………..আবু ওয়াইল রা. বলেন, আমরা পীড়িত খাব্বাব রা.-কে দেখতে গেলাম। তিনি আমাদেরকে বললেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে হিজরত করেছিলাম- আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে। আল্লাহর নিকট আমাদের সাওয়াব রয়েছে। তবে আমাদের মধ্যে কেউ কেউ কোন প্রতিদানের কিছু না নিয়েই চলে গেছেন। এদের মধ্যে ছিলেন মুসআব ইবনে উমায়ের রা.। তিনি উহুদের দিন শহীদ হন। তিনি একখানা চাদর রেখে যান। আমরা যখন (কাফন হিসাবে) এটি দিয়ে তাঁর মাথা ঢেকে দিতাম তখন তাঁর পা বেরিয়ে পড়ত, আর যখন আমরা পা ঢেকে দিতাম, তখন মাথা বেরিয়ে পড়ত। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নির্দেশ দিলেন যে, আমরা যেন তাঁর মাথা ঢেকে দিই এবং তাঁর পায়ের উপর কিছু ইযখির (ঘাস) রেখে দিই। আর আমাদের মধ্যে এমন কেউ কেউ রয়েছেন, যাদের ফল পরিপক্ক হয়েছে এবং তারা তা পেড়ে খাচ্ছেন।
হাদীস নং ৩৬১৯
মুসাদ্দাদ রহ…………উমর রা. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, আমলের ফলাফল নির্ভর করে নিয়্যাতের উপর। সুতরাং যার হিজরত হয় দুনিয়া লাভের জন্য কিংবা কোন স্ত্রীলোককে বিবাহ করার উদ্দেশ্যে, তবে তার হিজরত হবে যে উদ্দেশ্যে সে হিজরত করেছে তার। আর যার হিজরত হবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলে উদ্দেশ্যে, তবে তার হিজরত হবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলেরই জন্য।
হাদীস নং ৩৬২০
ইসহাক ইবনে ইয়াযীদ দামেশকী রহ………..মুজাহিদ ইবনে জুবাইর মাক্কী রহ. আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বলতেন, (মক্কা) বিজয়ের পর হিজরতের কোন প্রয়োজন নেই।
আওযায়ী আতা রহ………..আতা ইবনে আবু রবাহ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উবাইদ ইবনে উমাইর লাইসী রা.-এর সঙ্গে আয়েশা রা. এর সাথে সাক্ষাত করলাম। তারপর তাকে হিজরত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, এখন হিজরতের কোন প্রয়োজন নেই। অতীতে মুমিনদের কেউ তার দীনের জন্য তার প্রতি ফিতনার ভয়ে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি হিজরত করতেন আর আজ আল্লাহ ইসলামকে বিজয়ী করেছেন। এখন কোন মুমিন তার রবের ইবাদত যেখানে ইচ্ছা করতে পারে। তবে জিহাদ ও নিয়্যাত (কল্যাণ ও ফযীলতের) রয়েছে।
হাদীস নং ৩৬২১
যাকারিয়্যা ইবনে ইয়াহইয়া রহ……….. আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (খন্দকের যুদ্ধে মারাত্মকভাবে আহত হওয়ার পর) সাদ রা. দু’আ করলেন, ইয়া আল্লাহ আপনি তো জানেন, আমার নিকট আপনার রাহে জিহাদ করা এত প্রিয় যতটুকু অন্য কারো বিরুদ্ধে নয়। ইয়া আল্লাহ আমার ধারণা আপনি আমাদের ও তাদের মধ্যকার লড়াই খতম করে দিয়েছেন। আবান ইবনে ইয়াযীদ রহ………আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত যে, সে কওম যারা তোমার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে অবিশ্বাস করেছে এবং তাকে (স্বদেশ থেকে) বের করে দিয়েছে, তারা কুরাইশ গোত্রই।চ্চচ্চচ
হাদীস নং ৩৬২২
মাতার ইবনে ফাযল রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নবুওয়াত দেওয়া হয় চল্লিশ বছর বয়সে, এরপর তিনি তের বছর মক্কায় অবস্থান করেন। এ সময় তাঁর প্রতি ওহী নাযিল হচ্ছিল। তারপর হিজরতের নির্দেশ পান। এবং হিজরতের পর দশ বছর (মদীনায়) অবস্থান করেন। আর তিনি তেষট্টি বছর বয়সে ইন্তিকাল করেন।
হাদীস নং ৩৬২৩
মাতার ইবনে ফাযাল রহ………..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় তের বছর অবস্থান করেন। আর তিনি তেষট্টি বছর বয়সে ইন্তিকাল করেন।
হাদীস নং ৩৬২৪
ইসমাঈল ইবনে আবদুল্লাহ রহ……….আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বরে বসলেন এবং বললেন, আল্লাহ তার এক বান্দাকে দুটি বিষয়ের একটির ইখতিয়ার দিয়েছেন। তার একটি হল- দুনিয়ার ভোগ-সম্পদ আর একটি হল আল্লাহর নিকট যা রক্ষিত রয়েছে। তখন সে বান্দা আল্লাহর কাছে যা রয়েছে তাই পছন্দ করলেন।এ কথা শুনে, আবু বকর রা. কেঁদে ফেললেন, এবং বললেন, আমাদের পিতা-মাতাকে আপনার জন্য উৎসর্গ করলাম। তাঁর অবস্থা দেখে আমরা বিস্মিত হলাম। লোকেরা বলতে লাগল এ বৃদ্ধের অবস্থা দেখ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক বান্দা সম্বন্ধে খবর দিলেন যে, তাকে আল্লাহ পার্থিব ভোগ-সম্পদ দেওয়ার এবং তার কাছে যা রয়েছে, এ দু’য়ের মধ্যে ইখতিয়ার দিলেন আর এই বৃদ্ধ বলছে, আপনার জন্য আমাদের মাতা-পিতা উৎসর্গ করলাম। (প্রকৃতপক্ষে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ই হলেন সেই ইখতিয়ার প্রাপ্ত বান্দা। আর আবু বকর রা.-ই হলেন আমাদের মধ্যে সবচাইতে বিজ্ঞ ব্যক্তি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি তার সাহচর্য ও মাল দিয়ে আমার প্রতি সর্বাধিক ইহসান করেছেন তিনি হলেন আবু বকর রা.। যদি আমি আমার উম্মতের কোন ব্যক্তিকে অন্তরঙ্গ বন্ধরূপে গ্রহণ করতাম। তাহলে আবু বকরইকে করতাম। তবে তার সঙ্গে আমার ইসলামী ভ্রাতৃত্বের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। মসজিদের দিকে আবু বকর রা. এর দরজা ছাড়া অন্য কারো দরজা খোলা থাকবে না।
