হাদীস নং ৩৬০৪
মাহমূদ রহ………..ইবনে মুসাইয়্যাব তার পিতা মুসাইয়্যাব রহ. থেকে বর্ণনা করেন, যখন আবু তালিবের মুমুর্ষ অবস্থা তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিকট গেলেন। আবু জেহেলও তার নিকট বসা ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে লক্ষ্য করে বললেন, চাচাজান, কালেমাটি একবার পড়ুন, তাহলে আপনি আপনার জন্য আল্লাহর নিকট কথা বলতে পারব। তখন আবু জেহেল ও আবদুল্লাহ ইবনে উমাইয়া বলল, হে আবু তালিব! তুমি কি আবদুল মুত্তালিবের ধর্ম থেকে ফিরে যাবে? এরা দু’জন তার সাথে এ কথাটি বারবার বলতে লাগল। সর্বশেষ আবু তালিব তাদের সাথে যে কথাটি বলল, তাহল আমি আবদুল মুত্তালিবের মিল্লাতের উপরেই আছি। এ কথার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি আপনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকব যে পর্যন্ত আপনার ব্যাপারে আমাকে নিষেধ করা না হয়। এ প্রসঙ্গে এ আয়াতটি নাযিল হল: আত্মীয় স্বজন হলেও মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা নবী এবং মুমিনদের পক্ষে সংগত নয়- যখন তা স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, নিশ্চিতই তারা জাহান্নামী। (৯ : ১১৩) আরো নাযিল হল : আপনি যাকে ভালবাসেন ইচ্ছা করলেই সৎপথে আনতে পারবেন না। (২৮: ৫৬)।
হাদীস নং ৩৬০৫
আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………..আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন, যখন তাঁরই সামনে তাঁর চাচা আবু তালিবের আলোচনা করা হল, তিনিই বললেন, আশা করি কিয়ামতের দিনে আমার সুপারিশ তাঁর উপকারে আসবে। অর্থাৎ আগুনের হালকা স্তরে তাকে নিক্ষেপ করা হবে, যা তার পায়ের গোড়ালী পর্যন্ত পৌঁছবে এবং এতে তার মগয বলকাবে।
হাদীস নং ৩৬০৬
ইবরাহীম ইবনে হামযা রহ……….ইয়াযিদ রহ. ও এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং আরো বলেছেন, এর তাপে মস্তিস্কের কেন্দ্র পর্যন্ত বলকাতে থাকবে।
হাদীস নং ৩৬০৭
ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ………..জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন, যখন (মিরাজের ব্যাপারে) কুরাইশরা আমাকে অস্বীকার করল, তখন আমি কাবা শরীফের হিজর অংশে দাঁড়ালাম। আল্লাহ তায়ালা তখন আমার সম্মুখে বায়তুল মুকাদ্দাসকে প্রকাশ করে দিলেন, যার ফলে আমি দেখে বায়তুল মুকাদ্দাসের সমূহ নিদর্শনগুলো তাদের কাছে বর্ণনা করছিলাম।
হাদীস নং ৩৬০৮
হুদবা ইবনে খালিদ রহ………..মালিক ইবনে সা’সা রা. থেকে বর্ণিত, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে রাতে ভ্রমণ করানো হয়েছে সে রাতের ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, একদা আমি কাবা ঘরের হাতিমের অংশে ছিলাম। কখনো কখনো রাবী (কাতাদা) বলেছেন, হিজরে শুয়েছিলাম। হঠাৎ একজন আগন্তুক আমার নিকট এলেন এবং আমার এস্থান থেকে সে স্থানের মধ্যবর্তী অংশটি চিরে ফেললেন। রাবী কাতাদা বলেন, আনাস রা. কখনো কাদ্দা (চিরলেন) শব্দ আবার কখনো শাক্কা(বিদীর্ণ) শব্দ বলেছেন। রাবী বলেন, আমি আমার পার্শ্বে বসা জারূদ রহ. কে জিজ্ঞাসা করলাম, এ দ্বারা কী বুঝিয়েছেন? তিনি বললেন, হলকূমের নিম্নদেশ থেকে নাভী পর্যন্ত। কাতাদা রহ. বলেন, আমি আনাস রা-কে এ-ও বলতে শুনেছি বুকের উপরিভাগ থেকে নাভির নীচ পর্যন্ত। তারপর (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন) আগন্তুক আমার হৃদপিন্ড বের করলেন। তারপর আমার নিকট একটি স্বর্ণের পাত্র আনা হল যা ঈমানে পরিপূর্ণ ছিল। তারপর আমার হৃদপিন্ডটি (যমযমের পানি দ্বারা) ধৌত করা হল এবং ঈমান দ্বারা পরিপূর্ণ করে যথাস্থানে পুনরায় রেখে দেয়া হল। তারপর সাদা রং এর একটি জন্তু আমার নিকট আনা হল। যা আকারে খচ্চর থেকে ছোট ও গাধা থেকে বড় ছিল? জারুদ তাকে বলেন, হে আবু হামযা, ইহাই কি বুরাক? আনাস রা. বললেন, হ্যাঁ। সে একেক কদম রাখে দৃষ্টির শেষ প্রান্তে। আমাকে তার উপর সাওয়ার করানো হল। তারপর আমাকে নিয়ে জিবরাঈল আ. চললেন, প্রথম আসমানে নিয়ে এসে দরজা খোলে দিতে বললেন, জিজ্ঞাসা করা হল ইনি কে? তিনি বললেন, জিবরাঈল। আবার জিজ্ঞাসা করা হল, আপনার সঙ্গে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আবার জিজ্ঞাসা করা হল, তাকে কি ডেকে পাঠান হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তখন বলা হল, তার জন্য খোশ-আমদেদ, উত্তম আগমনকারীর আগমন হয়েছে। তারপর আসমানের দরজা খুলে দেওয়া হল। আমি যখন পৌঁছলাম, তখন তথায় আদম আ. এর সাক্ষাত পেলাম। জিবরাঈল আ. বললেন, ইনি আপনার আদি পিতা আদম আ. তাকে সালাম করুন। আমি তাকে সালাম করলাম। তিনি সালামের জবাব দিলেন এবং বললেন, নেককার পুত্র ও নেককার নবীর প্রতি খোশ আমদেদ। তারপর উপরের দিকে চলে দ্বিতীয় আসমানে পৌঁছে দরজ খুলে দিতে বললেন, জিজ্ঞাসা করা হল কে? তিনি বললেন, জিবরাঈল। আবার জিজ্ঞাসা করা হল, আপনার সঙ্গে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আবার জিজ্ঞাসা করা হল, তাকে কি ডেকে পাঠান হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তখন বলা হল, তার জন্য খোশ-আমদেদ, উত্তম আগমনকারীর আগমন হয়েছে। তারপর আসমানের দরজা খুলে দেওয়া হল। যখন তথায় পৌঁছলাম। তখন সেখানে ইয়াহইয়া ও ঈসা আ. এর সাক্ষাত পেলাম। তাঁরা দু’জন ছিলেন পরস্পরের খালাত ভাই। তিনি বললেন, এরা হলেন, ইয়াহইয়া ও ঈসা আ.। তাদের প্রতি সালাম করুন। তখন আমি সালাম করলাম। তাঁরা জবাব দিলেন, তারপর বললেন নেককার ভাই ও নেককার নবীর প্রতি খোশ আমদেদ। এরপর তিনি আমাকে নিয়ে তৃতীয় আসমানের দিকে চললেন, সেখানে গিয়ে জিবরাঈল বললেন, খুলে দাও। জিজ্ঞাসা করা হল কে? তিনি বললেন, জিবরাঈল। আবার জিজ্ঞাসা করা হল, আপনার সঙ্গে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আবার জিজ্ঞাসা করা হল, তাকে কি ডেকে পাঠান হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তখন বলা হল, তার জন্য খোশ-আমদেদ, উত্তম আগমনকারীর আগমন হয়েছে। তারপর আসমানের দরজা খুলে দেওয়া হল। যখন তথায় পৌঁছলাম। তখন সেখানে ইউসুপ আ. কে দেখতে পেলাম। জিবরাঈল বললেন, ইনি ইউসুফ আ. আপনি তাকে সালাম করুন। তখন আমি সালাম করলাম। তিনিও জবাব দিলেন, তারপর বললেন নেককার ভাই ও নেককার নবীর প্রতি খোশ আমদেদ। এরপর তিনি আমাকে নিয়ে ঊর্ধ্ব-যাত্রা করলেন এবং চতুর্থ আসমানে পৌঁছলেন। সেখানে গিয়ে (ফেরেশতাদের) দরজা খুলে দিতে বললেন। জিজ্ঞাসা করা হল কে? তিনি বললেন, জিবরাঈল। আবার জিজ্ঞাসা করা হল, আপনার সঙ্গে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আবার জিজ্ঞাসা করা হল, তাকে কি ডেকে পাঠান হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তখন বলা হল, তার জন্য খোশ-আমদেদ, উত্তম আগমনকারীর আগমন হয়েছে। তারপর আসমানের দরজা খুলে দেওয়া হল। আমি ইদ্রীস আ. এর কাছে পৌঁছলে জিবরাঈল বললেন, ইনি ইদ্রীস আ.। আপনি তাকে সালাম করুন। তখন আমি সালাম করলাম। তিনিও জবাব দিলেন, তারপর বললেন নেককার ভাই ও নেককার নবীর প্রতি খোশ আমদেদ। এরপর তিনি আমাকে নিয়ে ঊর্ধ্ব-যাত্রা করলেন এবং পঞ্চম আসমানে পৌঁছলেন। সেখানে গিয়ে (ফেরেশতাদের) দরজা খুলে দিতে বললেন। জিজ্ঞাসা করা হল কে? তিনি বললেন, জিবরাঈল। আবার জিজ্ঞাসা করা হল, আপনার সঙ্গে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আবার জিজ্ঞাসা করা হল, তাকে কি ডেকে পাঠান হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তখন বলা হল, তার জন্য খোশ-আমদেদ, উত্তম আগমনকারীর আগমন হয়েছে। তারপর আসমানের দরজা খুলে দেওয়া হল। তথায় পৌঁছে হারূন আ. কে দেখতে পেলাম। জিবরাঈল আ. বললেন ইনি হারূন আ.। আপনি তাকে সালাম করুন। তখন আমি সালাম করলাম। তিনিও জবাব দিলেন, তারপর বললেন নেককার ভাই ও নেককার নবীর প্রতি খোশ আমদেদ। এরপর তিনি আমাকে নিয়ে ঊর্ধ্ব-যাত্রা করলেন এবং ষষ্ঠ আসমানে পৌঁছলেন। সেখানে গিয়ে (ফেরেশতাদের) দরজা খুলে দিতে বললেন। জিজ্ঞাসা করা হল কে? তিনি বললেন, জিবরাঈল। আবার জিজ্ঞাসা করা হল, আপনার সঙ্গে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আবার জিজ্ঞাসা করা হল, তাকে কি ডেকে পাঠান হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। ফেরেশতারা বললেন, তার জন্য খোশ-আমদেদ, উত্তম আগমনকারীর আগমন হয়েছে। তথায় পৌঁছে আমি মূসা আ. কে দেখতে পেলাম। জিবরাঈল আ. বললেন ইনি মূসা আ.। আপনি তাকে সালাম করুন। তখন আমি সালাম করলাম। তিনিও জবাব দিলেন, তারপর বললেন নেককার ভাই ও নেককার নবীর প্রতি খোশ আমদেদ। আমি যখন অগ্রসর হলাম তখন তিনি কেঁদে ফেললেন।তাকে জিজ্ঞাসা করা হল, আপনি কিসের জন্য কাঁদছেন? তিনি বললেন, আমি এজন্য কাঁদছি যে, আমার পর একজন যুবককে নবী বানিয়ে পাঠানো হয়েছে, যার উম্মত আমার উম্মত থেকে অধিক সংখ্যায় জান্নাতে প্রবেশ করবে। তারপর জিবরাঈল আ. আমাকে নিয়ে সপ্তম আকাশের দিকে গেলেন। সেখানে গিয়ে (ফেরেশতাদের) দরজা খুলে দিতে বললেন। জিজ্ঞাসা করা হল এ কে? তিনি বললেন, জিবরাঈল। আবার জিজ্ঞাসা করা হল, আপনার সঙ্গে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আবার জিজ্ঞাসা করা হল, তাকে কি ডেকে পাঠান হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তখন বলা হল, তার জন্য খোশ-আমদেদ, উত্তম আগমনকারীর আগমন হয়েছে। তারপর আসমানের দরজা খুলে দেওয়া হল। তথায় পৌঁছে ইবরাহীম আ. কে দেখতে পেলাম। জিবরাঈল আ. বললেন ইনি আপনার পিতা। আপনি তাকে সালাম করুন। তখন আমি সালাম করলাম। তিনিও জবাব দিলেন, তারপর বললেন নেককার পুত্র ও নেককার নবীর প্রতি খোশ আমদেদ। তারপর আমাকে সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত উঠানো হল। দেখতে পেলাম, উহার ফল হাজর অঞ্চলের মটকার ন্যায় এবং তার পাতাগুলি এই হাতির কানের মত। আমাকে বলা হল, এ হল সিদরাতুল মুনতাহা (জড় জগতের শেষ প্রান্ত)। সেখানে আমি চারটি নহর দেখতে পেলাম, যাদের দুটি ছিল অপ্রকাশ্য দুটি ছিল প্রকাশ্য। তখন আমি জিবরাঈল আ.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, এ নহরগুলি কী? তিনি বললেন, অপ্রকাশ্য দুটি হল জান্নাতের দুইটি নহর। আর প্রকাশ্য দুটি হল নীল নদী ও ফুরাত নদী। তারপর আমার সামানে আল-বায়তুল মামুর প্রকাশ করা হল, এরপর আমার সামনে একটি শরাবের পাত্র, একটি দুধের পাত্র ও একটি মধুর পাত্র পরিবেশন করা হল। আমি দুধের পাত্রটি গ্রহণ করলাম। তখন জিবরাঈল বললেন, এই হয়েছে ফিতরাত (দীন-ই-ইসলাম)। আপনি ও আপনার উম্মতগণ এর উপর প্রতিষ্ঠিত। তারপর আমার উপর দৈনিক ৫০ ওয়াক্ত সালাত ফরয করা হল। এরপর আমি ফিরে আসলাম। মূসা আ. এর সম্মুখ দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন। আল্লাহ তায়ালা আপানাকে কী আদেশ করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমাকে দৈনিক পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাতের আদেশ করা হয়েছে। তিনি বললেন, আপনার উম্মত দৈনিক পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত আদায় করতে সমর্থ হবে না। আল্লাহর কসম। আমি আপনার আগে লোকদের পরীক্ষা করেছি এবং বনী ইসরাঈলের হেদায়েতের জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছি। তাই আপনি আপনার প্রতিপালকের নিকট ফিরে যান এবং আপনার উম্মতের (বোঝা) হালকা করার জন্য আবেদন করুন। আমি ফিরে গেলাম। ফলে আমার উপর থেকে দশ (ওয়াক্ত সালাত) হ্রাস করে দিলেন। আমি আবার মূসা আ.-এর নিকট ফিরে এলাম তিনি আবার আগের মত বললেন, আমি আবার ফিরে গেলাম। ফলে আল্লাহ তায়ালা আরো দশ (ওয়াক্ত সালাত) কমিয়ে দিলেন। ফিরার পথে মূসা আ. এর নিকট পৌঁছলে, তিনি আবার পূর্বোক্ত কথা বললেন, আমি আবার ফিরে গেলাম। আল্লাহ তায়ালা আরো দশ (ওয়াক্ত সালাত) হ্রাস করলেন। আমি মূসা রা. নিকট ফিরে এলাম। তিনি আবার ঐ কথাই বললন, আমি আবার ফিরে গেলাম। তখন আমাকে প্রতিদিন দশ (ওয়াক্ত) সালাতের আদেশ দেওয়া হয়। আমি (তা নিয়ে) ফিরে এলাম। মূসা আ. ঐ কথাই আগের মত বললেন, আমি আবার ফিরে গেলাম, আমাকে পাঁচ (ওয়াক্ত) সালাতের আদেশ করা হয়। তারপর মূসার আ. নিকট ফিরে এলাম। তিনি বললেন, আপনাকে কী আদেশ দেওয়া হয়েছে। আমি বললাম, আমাকে দৈনিক পাঁচ (ওয়াক্ত) সালাত আদায়ের আদেশ দেওয়া হয়েছে। মূসা আ. বললেন, আপনার উম্মত দৈনিক পাঁচ (ওয়াক্ত) সালাত আদায় করতে সমর্থ হবে না। আপনার পূর্বে আমি লোকদের পরীক্ষা করেছি। বনী ইসরাঈলের হেদায়েতের জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছি। আপনি আপনার রবের নিকট ফিরে যান এবং আপনার উম্মতের জন্য আরো সহজ করার আবেদন করুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি আমার রবের নিকট (অনেকবার) আবেদন করেছি, এতে আমি লজ্জাবোধ করছি। আর আমি এতেই সন্তষ্ট হয়েছি এবং তা মেনে নিয়েছি। এরপর তিনি বললেন, আমি যখন (মূসা আ. কে অতিক্রম করে) অগ্রসর হলাম, তখন জনৈক ঘোষণাকারী ঘোষণা দিলেন, আমি আমার অবশ্য পালনীয় আদেশটি জারি করে দিলাম এবং আমার বান্দাদের উপর লঘু করে দিলাম।
