হাদীস নং ৩৫৯৪
মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না রহ………..আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন উম্মে হাবীবা ও উম্মে সালামা রা. তাঁর সাথে আলোচনা করল যে তাঁরা হাবশায় (ইথিওপিয়া) খৃষ্টানদের একটি গির্জা দেখে এসেছেন। সে গির্জায় নানা রকমের চিত্র অঙ্কিত রয়েছে। তাঁরা দু’জন এসব কথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে উল্লেখ করলেন। তখন তিনি বললেন, (এদের অভ্যাস ছিল যে,) তাদের কোন নেককার লোক মারা গেলে তার কবরের উপর মসজিদ (উপাসনালয়) নির্মাণ করত এবং এসব ছবি অঙ্কিত করে রাখত, এরাই কিয়ামতের দিনে আল্লাহর নিকট সর্বনিকৃষ্ট সৃষ্টি হিসাবে পরিগণিত হবে।
হাদীস নং ৩৫৯৫
হুমাইদী রহ……….উম্মে খালিদ (বিনতে খালিদ)রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি যখন হাবশা থেকে মদীনায় আসলাম তখন আমি ছোট বালিকা ছিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে একটি চাদর পরিয়ে দিলেন যাতে ডোরা কাটা ছিল। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ ডোরাগুলির উপর হাত বুলাতে লাগলেন এবং বলতে ছিলেন সানাহ-সানাহঃ হুমাইদী রহ. বলেন, অর্থাৎ সুন্দর সুন্দর।
হাদীস নং ৩৫৯৬
ইয়াহইয়া ইবনে হাম্মাদ রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (ইসলামের প্রাথমিক যুগে) সালাতে রত থাকা অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমরা সালাম করতাম, তিনিও আমাদের সালামের উত্তর দিতেন। যখন আমরা নাজাশীর (হাবশা) কাছ থেকে ফিরে এলাম, তখন সালাতে রত অবস্থায় তাকে সালাম করলাম, কিন্তু তিনি সালামের জবাব দিলেন না। আমরা তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমরা (সালাতের মধ্যে) আপনাকে সালাম করতাম এবং আপনিও সালামের উত্তর দিতেন। কিন্তু আজ আপনি আমাদের সালামের জবাব দিলেন না? তিনি বললেন, সালাতের মধ্যে আল্লাহর দিকে নিবিষ্টতা থাকে। রাবী বলেন, আমি ইবরাহীম নাখয়ীকে জিজ্ঞাসা করলাম, (সালাতের মধ্যে কেউ সালাম করলে) আপনি কি করেন? তিনি বললেন, আমি মনে মনে জবাব দিয়ে দেই।
হাদীস নং ৩৫৯৭
মুহাম্মদ ইবনে আলা রহ……….আবু মূসা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাদের নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর আবির্ভাবের সংবাদ এসে পৌঁছল। তখন আমরা ইয়ামানে অবস্থান করছিলাম। আমরা একটি নৌকায় আরোহণ করলাম। কিন্তু (প্রতিকূল বাতাসের কারণে) আমাদের নৌকা (গন্তব্য স্থানের দিকে না পৌঁছে) হাবশায় নাজাশীর নিকট নিয়ে গেল। সেখানে জাফর ইবনে আবু তালিবের রা সাথে সাক্ষাৎ হল। আমরা তাঁর সাথে অবস্থান করতে লাগলাম কিছুদিন পর আমরা সেখান থেকে রওয়ানা হলাম। এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খায়বর বিজয় করলেন তখন আমরা তাঁর সাথে মিলিত হলাম। আমাদেরকে দেখে তিনি বললেন, হে নৌকারোহীগণ, তোমাদের জন্য দুটি হিজরতের মর্যাদা রয়েছে।
হাদীস নং ৩৫৯৮
আবুর রাবী রহ………..জাবির রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন নাজাশীর (আসহাম) মৃত্যু হল তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আজ একজন সৎ ব্যক্তি মারা গেছেন। উঠ, এবং তোমাদের (ধর্মীয়) ভাই আসহামার জন্য জানাযার সালাত আদায় কর।
হাদীস নং ৩৫৯৯
আবদুল আলা ইবনে হাম্মাদ রহ………..জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাজাশীর উপর জানাযার সালাত আদায় করেন। আমরাও তাঁর পিছনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে গেলাম। আমি দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় কাতারে ছিলাম।
হাদীস নং ৩৬০০
আবদুল্লাহ ইবনে আবু শায়বা রহ………….জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসহাম নাজাশীর জানাযার সালাত আদায় করেন এবং চারবার তাকবীর বলেন।
হাদীস নং ৩৬০১
যুহাইর ইবনে হাবর রহ……….আবদুর রাহমান ও ইবনে মুসাইয়ার রহ. বলেন, আবু হুরায়রা রা. তাদেরকে বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবাদেরকে হাবশা (ইথিওপিয়া)-এর বাদশাহ নাজাশীর মৃত্যু সংবাদ সেদিন শোনালেন, যেদিন মারা গিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, তোমরা তোমাদের (দীনী) ভাই এর জন্য মাগফিরাত কামনা কর।
আবু হুরায়রা রা. থেকে এরূপও বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবা কেরামকে নিয়ে ঈদগাহে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ালেন এবং নাজাশীর উপর জানাযার সালাত আদায় করলেন এবং তিনি চারবার তাকবীরও উচ্চারণ করলেন।
হাদীস নং ৩৬০২
আবদুল আযীয ইবনে আবদুল্লাহ রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুনায়ন যুদ্ধে যাওয়ার ইচ্ছা করলেন, তখন তিনি বললেন, আমরা আগামীকাল খায়ফে বনী কেনানায় অবতরণ করব ইনশা আল্লাহ যেখানে তারা (কুরাইশ) সকলে কুফর ও শিরক এর উপর অটল থাকার শপথ গ্রহণ করেছিল।
হাদীস নং ৩৬০৩
মুসাদ্দাদ রহ………..আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিব রা. বলেন, আমি একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি আপনার চাচা আবু তালিবের কি উপকার করলেন অথচ তিনি (জীবিত থাকাবস্থায়) আপনাকে দুশমনের সকল আক্রমণ ও ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে হিফাযত করেছেন। (আপনাকে যারা কষ্ট দিয়েছে) তাদের বিরুদ্ধে তিনি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হতেন। তিনি বললেন, সে জাহান্নামে পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত আগুনে আছে। যদি আমি না হতাম তবে সে জাহান্নামের সর্ব নিম্ন স্তরে অবস্থান করত।
