হাদীস নং ৩৫৫২
মাহমূদ রহ………..জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন কাবাগৃহ পুননির্মাণ করা হচ্ছিল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আব্বাস রা. (অন্যদের সাথে) পাথর বয়ে আনছিলেন। আব্বাস রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন, তোমার লুঙ্গি কাঁধের উপর রাখ, পাথরের ঘর্ষণ হতে তোমাকে রক্ষা করবে। (লুঙ্গিটি খোলার সাথে সাথে) তিনি অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে গেলেন। তাঁর চোখ দুটি আকাশের দিকে নিবিষ্ট ছিল। (কিছুক্ষণ পর) তাঁর চেতনা ফিরে এল, তখন তিনি বলতে লাগলেন, আমার লুঙ্গি দাও। আমার লুঙ্গি দাও। তৎক্ষণাৎ তাঁর লুঙ্গি পরিয়ে দেয়া হল।
হাদীস নং ৩৫৫৩
আবু নুমান রহ……….আমর ইবনে দীনার ও উবায়দুল্লাহ ইবনে আবু ইয়াযীদ রহ. থেকে বর্ণিত, তারা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে কাবা গৃহের চতুষ্পার্শ্বে কোন প্রাচীর ছিল না। লোকজন কাবা গৃহকে কেন্দ্র করে তার চারপাশে সালাত আদায় করত। উমর রা. (তাঁর খিলাফত কালে) কাবার চতুষ্পার্শ্বে প্রাচীর নির্মাণ করেন। উবায়দুল্লাহ রহ. বলেন, এ প্রাচীর ছিল নীচু, আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর রা. (তাঁর যুগে দীর্ঘ ও উচু) প্রাচীর নির্মাণ করেন।
হাদীস নং ৩৫৫৪
মুসাদ্দাদ রহ……….আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জাহিলী যুগে আশুরার দিন কুরাইশরা ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাওম পালন করতেন। যখন হিজরত করে মদীনায় আগমন করলেন। তখন তিনি নিজেও আশুরার সাওম পালন করতেন এবং অন্যকেও তা পালনে আদেশ দিতেন। যখন রমযানের সাওম ফরয করা হল, (তখন আশুরার সাওম ঐচ্ছিক করে দেয়া হল)। তখন যারা ইচ্ছা রোযা রাখতেন আর যার ইচ্ছা রোযা রাখতেন না।
হাদীস নং ৩৫৫৫
মুসলিম রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজ্জের মাসগুলোতে উমরা পালন করাকে কুরাইশগণ পাপ কাজ বলে মনে করত। তারা মুহাররম মাসের নামকে পরিবর্তন করে সফর মাস নামে আখ্যায়িত করত এবং বলত, (উটের) যখম যখন শুকিয়ে যাবে এবং পদচিহ্ন মুছে যাবে তখন উমরা পালন করা হালাল হবে যারা তা পালন করত চায়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সঙ্গী সাথীগণ যিলহাজ্ব মাসের চতুর্থ তারিখে হজ্জের তালবিয়া পড়তে পড়তে মক্কায় হাযির করে নেও। সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমাদের জন্য কোন কোন বিষয় হালাল হবে? তিনি বললেন, যাবতীয় বিষয় হালাল হয়ে যাবে।
হাদীস নং ৩৫৫৬
আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ……….সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যাব রহ. তাঁর পিতার মাধ্যমে দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, জাহেলিয়্যাতের যুগে একটি মহা প্লাবন হয়েছিল। যদ্বারা মক্কায় দুটি পাহাড়ের মধ্যবর্তী স্থান সম্পূর্ণ প্লাবিত হয়েছিল। সুফিয়ান রা. বলেন, আমর ইবনে দীনার বলতেন, এ হাদীসটির একটি দীর্ঘ কাহিনী রয়েছে।
হাদীস নং ৩৫৫৭
আবু নুমান রহ……….কায়েস ইবনে আবু হাযিম রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন আবু বকর রা. আহমাস গোত্রের যায়নাব নাম্নী জনৈক মহিলার নিকট গমন করলেন। তিনি গিয়ে দেখতে গেলেন, মহিলাটি কথাবার্তা বলছেন। তিনি (লোকজনকে) জিজ্ঞাসা করলেন, মহিলাটির এ অবস্থা কেন, কথাবার্তা বলছে না কেন? তারা তাকে জানালেন, এ মহিলা নীরব থেকে থেকে হজ্জ পালন করে আসছেন। আবু বকর রা. তাকে বললেন, কথা বল কেন না ইহা হালাল নয়। ইহা জাহেলিয়্যাত যুগের কাজ। তখন মহিলাটি কথাবার্তা বলল, জিজ্ঞাসা করল, আপনি কে? আবু বকর রা. উত্তরে বললেন, আমি একজন মুহাজির ব্যক্তি। মহিলাটি জিজ্ঞাসা করলেন, কোন কুরাইশের কোন শাখার আপনি? আবু বকর রা. বললেন, তুমি তো অত্যাধিক উত্তম প্রশ্নকারী। আমি আবু বকর রা.। তখন মহিলাটি তাকে জিজ্ঞাসা করল, জাহিলীয়্যাত যুগের পর যে উত্তম দীন ও কল্যাণময় জীবন বিধান আল্লাহ আমাদেরকে দান করেছেন সে দীনের উপর আমরা কতদিন সঠিকভাবে টিকে থাকতে পারব? আবু বকর রা. বললেন, যতদিন তোমাদের ইমামগণ তোমাদেরকে নিয়ে দীনের উপর অবিচল থাকবেন। মহিলা জিজ্ঞাসা করল, ইমামগণ কারা? আবু বকর রা. বললেন, তোমাদের গোত্রে ও সমাজে এমন সম্ভ্রান্ত ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ কি দেখনি। যারা আদেশ করলে সকলেই তা মেনে চলে। মহিলা উত্তর দিল, হ্যাঁ। আবু বকর রা. বললেন, এরাই হলেন জনগণের ইমাম।
হাদীস নং ৩৫৫৮
ফারওয়া ইবনে আবুল মাগলা রহ……….আয়েশা রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আরবের কোন এক গোত্রের জনৈকা (মুক্তিপ্রাপ্ত)কৃষ্ণকায় মহিলা ইসলাম গ্রহণ করেন। (বসবাসের জন্য) মসজিদের পাশে ছির তার একটি ছোট ঘর। আয়েশা রা. বলেন, সে আমাদের নিকট আসত এবং আমাদের সাথে (নানা রকমের) কথাবার্তা বলত, যখন তার কথাবার্তা শেষ হত তখন প্রায়ই বলত, ইয়াওমুল বিশাহ (মণিমুক্তা খচিত হারের দিন) আমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আশ্চর্যজনক ঘটনাবলীর একটি দিন জেনে রাখুন। আমার প্রতিপালক আমাকে কুফর এর দেশ থেকে নাজাত দিয়েছেন। সে এ কথাটি প্রায়ই বলত। একদিন আয়েশা রা. ঐ মহিলাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়ামুল বিশাহ কি? তখন সে বলল, যে আমার মুনীবের পরিবারের জনৈকা শিশু কন্যা ঘর থেকে বের হল। তার গলায় চামড়ায় (উপর মনিমুক্তা খচিত) একটি হার ছিল। হারটি (ছিড়ে) গলা থেকে পড়ে গেল। তখন একটি চিল একে গোশতের টুকরা মনে করে ছো মেরে নিয়ে গেল। তারা আমাকে হার চুরির সন্দেহে শাস্তি ও নির্যাতন করতে লাগল। শেষ পর্যন্ত তারা আমার লজ্জা স্থানে তল্লাশী চালাল। যখন তারা আমার চারপাশে ছিল এবং আমি চরম বিষাদে ছিলাম। এমন সময় একটি চিল কোথা হতে উড়ে আসল এবং আমাদের মাথার উপরে এসে হারটি ফেলে দিল। তারা হারটি তুলে নিল। তখন আমি বললাম, এটা সেই হার যে হার চুরির অপরাধে আমার উপর অপবাদ দিয়েছ, অথচ এ ব্যাপারে আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ।
