হাদীস নং ৩৫৫৯
কুতাইবা রহ……..ইবনে উমর রা. সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সাবধান ! যদি তোমাদের শপথ করতে হয় হবে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নামে শপথ করো না। লোকজন তাদের বাপ-দাদার নামে শপথ করত। তিনি বললেন, সাবধান ! বাপ-দাদার নামে শপথ করো না।
হাদীস নং ৩৫৬০
ইয়াহইয়া ইবনে সুলাইমান রহ………আমর রহ. থেকে বর্ণিত যে, আবদুর রাহমান ইবনে কাসিম রা. তার কাছে বলেছেন যে, কাসিম জানাযা বহনকালে আগে আগে চলতেন। জানাযা দেখলে তিনি দাঁড়াতেন না এবং তিনি বর্ণনা করছেন যে, আয়েশা রা. বলতেন, জাহিলী যুগে মুশরিকগণ জানাযা দেখলে দাঁড়াত এবং মৃত ব্যক্তির রূহকে লক্ষ্য করে বলত, তুমি তোমার আপনজনদের সাথেই রয়েছ যেমন তোমার জীবদ্দশায় ছিলে। এ কথাটি তারা দু’বার বলত।
হাদীস নং ৩৫৬১
আমর ইবনে আব্বাস রহ……..আমর ইবনে মায়মূন রহ. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, উমর ইবনুল খাত্তাব রা. বলেন, মুশরিকগণ সাবীর পাহাড়ের উপর সূর্যকিরণ পতিত না হওয়া পর্যন্ত মুযদালিফা থেকে রাওয়ানা হত না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্যোদয়ের পূর্বে রাওয়ানা হয়ে তাদের প্রথার বিরোধিতা করেন।
হাদীস নং ৩৫৬২
ইসহাক ইবনে ইবরাহীম রহ………ইকরিমা রহ. বলেন, আল্লাহর বাণী: এর তাফসীর প্রসংগে বলেন, শরাব পরিপূর্ণ এবং একের পর এক পেয়ালা। ইবনে আব্বাস রা. বলেন, আমার পিতা আব্বাস রা.-কে ইসলাম পূর্বে যুগে বলতে শুনেছি, আমাদেরকে পাত্র পূর্ণ শরাব একের পর এক পান করাও।
হাদীস নং ৩৫৬৩
আবু নুআইম রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সর্বাধিক সঠিক বাক্য যা কোন কবি বলেছেন তা হল লাবীদ এর এ পংক্তিটি – সাবধান, আল্লাহ ব্যতীত সকল জিনিসই বাতিল ও অসার। এবং কবি উমাইয়্যা ইবনে আবু সালত (তার কথাবার্তার মধ্য দিয়ে) ইসলাম ধর্ম গ্রহণের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল।
হাদীস নং ৩৫৬৪
ইসমাঈল রহ………..আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু বকর রা.-এর একজন ক্রীতদাস ছিল। সে প্রত্যহ তার উপর নির্ধারিত কর আদায় করত। আর আবু বকর রা. তার দেওয়া কর থেকে আহার করতেন। একদিন সে কিছু খাবার জিনিস এনে দিল। তা থেকে তিনি আহার করলেন। তারপর গোলাম বলল, আপনি জানেন কি ইহা কিভাবে উপার্জন করা হয়েছে যা আপনি খেয়েছেন? তিনি বললেন, বলত ইহা কি? গোলাম উত্তরে বলল, আমি জাহিলী যুগে এক ব্যক্তির ভবিষ্যৎ গণনা করে দিয়েছিলাম। কিন্তু ভবিষ্যৎ গণনা করা আমার উত্তমরূপে জানা ছিল না। তথাপি প্রতারণামূলকভাবে ইহা করেছিলাম। (কিন্তু ভাগ্যচক্রে আমার গণনা সঠিক হল) আমার সাথে তার সাক্ষাত হলে গণনার বিনিময়ে এ দ্রব্যাদি সে আমাকে হাদীয়া দিল যা থেকে আপনি আহার করলেন। আবু বকর রা. ইহা শুনামাত্র মুখের ভিতর হাত ঢুকিয়ে দিয়ে বমি করে দিলেন এবং পাকস্থলীর মধ্যে যা কিছু ছিল সবই বের করে দিলেন।
হাদীস নং ৩৫৬৫
মুসাদ্দাদ রহ………..ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইসলাম পূর্ব যুগের মানুষ হাবালুল হাবালা রূপে উটের গোশত ক্রয়-বিক্রয় করত। রাবী বলেন, হাবালুল হাবালার অর্থ হল- তারা উট ক্রয়-বিক্রয় করত এই শর্তে যে কোন নির্দিষ্ট গর্ভবতী উটনী বাচ্চা প্রসব করলে পর ঐ প্রসব কৃত বাচ্চা যখন গর্ভবতী হবে তখন উটের মূল্য পরিশোধ করা হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে এরূপ ক্রয়-বিক্রয় করতে নিষেধ করে দিলেন।
হাদীস নং ৩৫৬৬
আবু নুমান রহ……….গায়লান ইবনে জারীর রহ. থেকে বর্ণিত, আমরা আনাস ইবনে মালিক রা. এর কাছ থেকে তিনি আমাদের কাছে আনসারদের ঘটনা বর্ণনা করতেন। রাবী বলেন, আমাকে লক্ষ্য করে তিনি বলতেন, তোমার স্বজাতি অমুক অমুক দিন অমুক অমুক কাজ করেছে, অমুক অমুক দিন অমুক অমুক কাজ করেছে।
হাদীস নং ৩৫৬৭
আবু মামার রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সর্বপ্রথম কাসামা হত্যাকারী গোত্রের লোকের (শপথ গ্রহণ) জাহিলী যুগে অনুষ্ঠিত হয় আমাদের হাশেম গোত্রে। (এতদ সম্পর্কীয় ঘটনা হল এই) কুরাইশের কোন একটি শাখা গোত্রের একজন লোক বানূ হাশিমের একজন মানুষ (উমর ইবনে আলকামা) কে মজুর হিসাবে নিয়োগ করল। ঐ মজুর তার সাথে উটগুলির নিকট গমন করল। ঘটনাক্রমে বনূ হাশিমের অপর এক ব্যক্তি তাদের নিকট দিয়ে যাচ্ছিল। তাদের নিকটবর্তী হওয়ার পর খাদ্য ভর্তি বস্তার বাঁধন ছিড়ে গেল। তখন সে মজুর ব্যক্তিটিকে বলল, আমাকে একটি রশি দিয়ে সাহায্য কর, যেন তা দিয়ে আমার বস্তার মুখ বাঁধতে পারি এবং উটটিও যেন পালিয়ে যেতে না পারে। মজুর তাকে একটি রশি দিল। ঐ ব্যক্তি তার বস্তার মুখ বেঁধে নিল। যখন তারা অবতরণ করল তখন একটি ব্যতীত সকল উট বেঁধে রাখা হল। মজুর নিযুক্তকারী ব্যক্তি মজুরকে জিজ্ঞাসা করল, সকল উট বাঁধা হল কিন্তু এ উটটি বাঁধা হল না কেন? মজুর উত্তরে বলল, এ উটটি বাঁধার কোন রশি নেই। তখন সে বলল, এই উটটির রশি কোথায়? রাবী বলেন, এ কথা শুনে মালিক মজুরকে লাঠি দিয়ে এমনভাবে আঘাত করল যে শেষ পর্যন্ত এ আঘাতেই তার মৃত্যু হল। আহত মজুরটি যখন মমূর্ষ অবস্থায় মৃত্যুর প্রহর গুনছিল, তখন ইয়ামানের একজন লোক তার নিকট দিয়ে যাচ্ছিল। আহত মজুরটি বলল, আপনি কি এবার হজ্জে যাবেন? সে বলল, না, তবে অনেকবার গিয়েছি। আহত মজুরটি বলল, আপনি কি আমার সংবাদটি আপনার জীবনের যে কোন সময় পৌঁছে দিতে পারেন? ইয়ামানী লোকটি উত্তরে বলল, হ্যা তা পারব। তারপর মজুরটি বলল, আপনি যখন হজ্জ উপলক্ষে মক্কায় উপস্থিত হবেন তখন হে কুরাইশের লোকজন বলে ঘোষণা দিবেন।যখন তারা আপনার ডাকে সাড়া দিবে, তখন আপনি বনূ হাশিম গোত্রকে ডাক দিবেন, যদি তারা আপনার ডাকে সাড়া দেয়, তবে আপনি তাদেরকে আবু তালিব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন এবং তাকে পেলে জানিয়ে দিবেন, অমুক ব্যক্তি (উটের মালিক) একটি রশির কারণে আমাকে হত্যা করেছে। কিছুক্ষণ পর আহত মুজরটি মৃত্যুবরণ করল। মজুর নিয়োগকারী ব্যক্তিটি যখন মক্কায় ফিরে এল্ তখন আবু তালিব তার নিকট গিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন। আমাদের ভাইটি কোথায়? তার কি হয়েছে? এখনও ফিরছেনা কে? সে বলল, আপনার ভাই হঠাৎ ভীষণ রোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত মারা গেছে। আমি যথাসাধ্য সমাহিত সেব শুশ্রুষা করেছি। (কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে মারাই গেল)। মারা যাওয়ার পর আমি তাকে যথারীতি সমাহিত করেছি। আবু তালিব বললেন, তুমি এরূপ করবে আমরা এ আশাই পোষণ করি। এভাবে কিছুদিন কেটে গেল। তারপর ঐ ইয়ামানী ব্যক্তি যাকে সংবাদ পৌঁছে দেয়ার জন্য মজুর ব্যক্তিটি অসিয়অত করেছি, হজ্জব্রত পালনে মক্কায় উপস্থিত হল এবং (পূর্ব অঙ্গীকার অনুযায়ী) হে কুরাইশগণ বলে ডাক দিল। তখন তাকে বলা হল, এই যে, কুরাইশ। সে আবার বলল, হে বনূ হাশিম, বলা হল, এই যে, বনূ হাশিম। সে জিজ্ঞাসা করল, আবু তালিব কোথায়? লোকজন আবু তালিবকে দেখিয়ে দিল। তখন ইয়ামানী লোকটি বলল, আপনাদের অমুক ব্যক্তি আপনার নিকট এ সংবাদটি পৌঁছে দেয়ার জন্য আমাকে অসিয়াত করেছিল যে, অমুক ব্যক্তি একটি রশির কারণে তাকে হত্যা করেছে। (সে ঘটনাটিও সবিস্তারে বর্ণনা করল) এ কথা শুনে আবু তালিব মজুর নিয়োগকারী ব্যক্তির নিকট গমন করে বলল, (তুমি আমাদের ভাইকে হত্যা করেছ) কাজেই আমাদের তিনটি প্রস্তাবের যে কোন একটি তোমাকে মেনে নিতে হবে। তুমি হয়ত হত্যার বিনিময় স্বরূপ একশ উট দিবে অথবা তোমার গোত্রের বিশ্বাসযোগ্য পঞ্চাশ জন লোক হলফ করে বলবে যে তুমি তাকে করনি। যদি তুমি এসব করতে অস্বীকার কর তবে আমরা তোমাকে হত্যার বিনিময়ে হত্যা করব। তখন হত্যাকারী ব্যক্তিটি স্ব-গোত্রীয় লোকদের নিকট গমন করলে মহিলা যার বিবাহ হত্যাকারীর গোত্রে হয়েছিল এবং তার একটি সন্তানও হয়েছিল, আবু তালিবের নিকট এসে বলল, হে আবু তালিব, আমি এ আশা নিয়ে এসেছি যে, আপনি পঞ্চাশজন হলফকারী থেকে আমার এ সন্তানটিকে রেহাই দিবেন এবং ঐ স্থানে তার হলফ নিবেননা যে স্থানে হলফ নেয়া হয়। (অর্থাৎ রুকনে ইয়ামীনী ও মাকামে ইবরাহীমের মধ্যবর্তী স্থান) আবু তালিব তার আবদরটি মনজুর করলেন। তারপর হত্যাকারীর গোত্রের জনৈক পুরুষ আবু তালিবের নিকট এসে বলল, হে আবু তালিব, আপনি একশ উটের পরিবর্তে পঞ্চাশ জনের হলফ নিতে চাচ্ছেন, এ হিসাব অনুযায়ী প্রতিটি হলফকারীর উপর দুটি উট পড়ে। আমার দুটি উট গ্রহণ করুন এবং আমাকে অব্যাহতি দেন। অপর আট চল্লিশজন এসে যথাস্থানে হলফ করল। ইবনে আব্বাস রা. বলেন, আল্লাহর কসম, হলফ করার পর একটি বছর অতিবাহিত হওয়ার পূর্বেই ঐ আটচল্লিশ জনের একজনও বেঁচে ছিলাম।
